অনলাইন ডেস্ক
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ প্রিন্ট
দেশের ব্যাংকিং খাতে ক্রমবর্ধমান মূলধন ঘাটতি নিরসনে তারল্য সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গতি আনতে ‘ট্রেড সাপোর্ট’ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি)। ব্যাংকিং খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে সংস্থাটি ব্যাংকভিত্তিক মূল্যায়ন পরিচালনা করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মূলধন জোগান দিয়ে দুর্বল ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করবে। এতে বাজারে তারল্য সংকট হ্রাস পাবে এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে অংশ নেওয়া অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান বড় ধরনের মূলধন ঘাটতি এবং মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে সৃষ্ট মূলধন ক্ষয়ের বিষয়টি আইএফসি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ প্রেক্ষাপটে সংস্থাটি ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেও সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আইএফসি শুধু ব্যাংকিং খাতেই নয়, বরং মূলধন সংকটে থাকা বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সহায়তা করতে চায়। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে পুনরায় চালু করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সরকারের বড় সম্পদগুলো সিকিউরিটাইজেশনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে ব্যবহার করে অগ্রিম অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনাও আলোচনায় এসেছে। এর ফলে সরকারকে প্রত্যক্ষ অর্থায়নের চাপ কমবে এবং সাশ্রয় হওয়া অর্থ নতুন বিনিয়োগে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
অর্থমন্ত্রীর মতে, বর্তমানে ব্যাংকিং খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে আইএফসির বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ব্যাংক খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এর আগে অর্থমন্ত্রী ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের পুঁজিবাজার তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এ পরিস্থিতি উত্তরণে বন্ডসহ নতুন নতুন আর্থিক উপকরণ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জেপি মরগানের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক সংকেত দেবে এবং দেশের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আইওএমের সঙ্গে বৈঠকে বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং তাদের আর্থিক শোষণ হ্রাসের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়াগামী শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপ, জাপানসহ নতুন শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। গ্রামীণ কুটিরশিল্প, তাঁতি, কামার ও কুমারদের উৎপাদিত পণ্যকে বাণিজ্যিক পণ্যে রূপান্তর করে দেশি ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া খেলাধুলা ও সংস্কৃতিভিত্তিক অর্থনীতিকেও ভবিষ্যতে জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, গত এক দশকে পুঁজিবাজারে সংঘটিত অনিয়ম দূর করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা জরুরি। এ লক্ষ্য অর্জনে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে সংস্কার আনা এবং বাংলাদেশকে ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে ইমার্জিং মার্কেটে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সবশেষে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের প্রতিটি বিনিয়োগ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য থাকবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফা, অর্থের সঠিক ব্যবহার, কর্মসংস্থান এবং পরিবেশগত বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হবে না।
Posted ০৫:৩০ AM | শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam
৮৯/এ (৪র্থ তলা), আনারকলি সুপার মার্কেট, সিদ্ধেশ্বরী, ঢাকা-১২১৭
ফোন: ০১৯১৫৩৪৪৪১৮
ই-মেইল: faroque.computer@gmail.com