শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েছে আল-ফালাহ স্টিল

অর্থনীতি ডেস্ক   |   রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   154 বার পঠিত

উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েছে আল-ফালাহ স্টিল

সংগৃহীত ছবি

দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিনিয়ত স্টিলের চাহিদা বাড়ছে। উৎপাদন বাড়াতে কারখানার আধুনিকায়ন ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন বিনিয়োগ করেছে বিলেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আল-ফালাহ স্টিল। আগামী দুই বছরের মধ্যে রড়ের প্রধান এ কাঁচামাল উৎপাদন তিন গুণ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ জন্য ১৮৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আল-ফালাহ স্টিলের কারখানায় গণমাধ্যমকর্মীদের সরেজমিন পরিদর্শনের সময় কোম্পানির কর্মকর্তারা এসব তথ্য দেন। কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এসএস স্টিলের পরিচালক ও আল-ফালাহ স্টিলের মনোনীত পরিচালক সৈয়দ রেজারাজ আহমদ, কোম্পানি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান সাজ্জাদ, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের নির্বাহী সহকারী শহীদ হোসেন তানজিল প্রমুখ।

কর্মকতারা জানান, আল-ফালাহ স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলস পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এসএস স্টিলের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। গত বছরের মার্চে একরকম বন্ধ হয়ে যাওয়া মিলটি অধিগ্রহণ করে এসএস স্টিল। তখন আল-ফালাহ স্টিলের জমি ছিল ৩৬০ শতাংশ এবং বছরে উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৬৪ হাজার ৮০০ টন। প্রতিষ্ঠানটির ইকুইটি শেয়ার কিনে নেওয়ার পর এসএস স্টিল বিনিয়োগ করে ১৮৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা। আল-ফালাহর বিলেট উৎপাদন ক্ষমতা ইতোমধ্যে ১ লাখ ৫১ হাজার ২০০ টনে উন্নীত করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে উৎপাদন ক্ষমতা তিন গুণে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এসএস স্টিলের পরিচালক ও আল-ফালাহ স্টিলের মনোনীত পরিচালক সৈয়দ রেজারাজ আহমদ বলেন, কোম্পানির উৎপাদন বাড়ানোর নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাড়তি উৎপাদনের জন্য অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। ৬৪ হাজার ৮০০ টন উৎপাদন ক্ষমতার একটি মেশিন আমদানি করা হয়েছে। মেশিনটি বসানোর জন্য ২৪০ শতাংশ জায়গা কেনা হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন সচল রাখতে ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে কারখানাটিতে ২৫০ জনের বেশি কর্মী কাজ করছেন। এটি এখন উচ্চমানের বিলেট তৈরি করছে। এসব বিলেট নিজস্ব কারখানায় রড উৎপাদনে ব্যবহার হয়। একই সঙ্গে নিজস্ব ব্র্যান্ড নামে বিক্রিও করা হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে ভবিষ্যতে এ কারখানায় কর্মীর সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হবে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা স্ক্র্যাপ ক্রেনের মাধ্যমে চুল্লিতে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে উত্তপ্ত তাপ ও কেমিক্যালের মাধ্যমে স্ক্র্যাপ গলানো হচ্ছে। এরপর প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদন করা হচ্ছে বিলেট। উত্তপ্ত বিলেট ঠান্ডা করার জন্য সারিবদ্ধভাবে একপাশে রাখা হয়। বাতাস করা হয় বিশালাকারের ফ্যান দিয়ে। ঠান্ডা হওয়ার পর সেখান থেকে রড উৎপাদন করার জন্য বিভিন্ন কারখানায় বিলেট সরবরাহ করা হয়। কারখানায় শ্রমিকরা কাজ করছেন তিন শিফটে। তবে মূল উৎপাদন যন্ত্র অপারেটর পরিবর্তন হয় এক ঘণ্টা পরপর। অপারেটরদের চোখ নিরাপদ রাখতে ব্যবহার করা হয় এক ধরনের কালো গ্লাস।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশে নতুন বড় প্রকল্পের বাস্তবায়ন হচ্ছে। গড়ে উঠছে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এসব অঞ্চলে বড় কারখানা স্থাপন হচ্ছে। অন্যদিকে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এখন নির্মাণ করা হচ্ছে পাকা ঘরবাড়ি। এসব কারণে দিন দিন বাড়ছে স্টিলের চাহিদা। কাঁচামাল আর প্রযুক্তি চাহিদার কারণে বাংলাদেশ এশিয়ার অন্যতম বিকাশমান স্টিল মার্কেটে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, ১০ বছর আগেও দেশে বছরে মাত্র আড়াই লাখ টন এমএস রড উৎপাদন হতো। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে বছরে গড়ে প্রায় ৬০ লাখ টন রড উৎপাদন ও বিপণন হয়। উদ্যোক্তাদের মতে, যে গতিতে কারখানাগুলোর সক্ষমতা বাড়ছে, তাতে ২০৩০ সাল নাগাদ দেশে বছরে উৎপাদন ক্ষমতা এক কোটি টনে দাঁড়াবে। দেশে ৪০টি আধুনিক ও ১৫০টি সনাতন কারখানায় স্টিল পণ্য উৎপাদন হচ্ছে এবং মাথাপিছু স্টিল ব্যবহার ৪৫ কেজি। ২০৩০ সালে এটি ১০০ কেজিতে গিয়ে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ২:১৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৩

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com