শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

ধারণার চেয়েও দ্রুত সামরিক সক্ষমতা ও ড্রোন উৎপাদন বাড়াচ্ছে ইরান

  |   বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   42 বার পঠিত

ধারণার চেয়েও দ্রুত সামরিক সক্ষমতা ও ড্রোন উৎপাদন বাড়াচ্ছে ইরান

গত এপ্রিলের শুরুতে শুরু হওয়া ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান ইতোমধ্যেই তাদের ড্রোন উৎপাদন পুনরায় শুরু করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানায় সংবাদমাধ্যমটি।

প্রতিবেদনে আরও চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী—ইরানের সামরিক বাহিনী প্রাথমিক ধারণার চেয়েও অনেক দ্রুত গতিতে নিজেদের সামরিক শিল্পখাত ও ঘাঁটিগুলো পুনর্গঠন করছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলোর তথ্যমতে, চলমান সংঘাতে ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, লঞ্চার এবং প্রধান প্রধান অস্ত্র ব্যবস্থার উৎপাদন ক্ষমতা নতুন করে তৈরি করছে ইরান। এর অর্থ হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি পুনরায় বোমাবর্ষণ শুরু করেন, তবে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের মিত্রদের জন্য ইরান এখনো একটি বড় হুমকি। একই সঙ্গে এই অগ্রগতি দীর্ঘমেয়াদে ইরানের সামরিক শক্তি কতটা দুর্বল করা গেছে, তা নিয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি দাবিকেও বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

৬ মাসেই ফিরতে পারে পূর্ণ সক্ষমতা

অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরির সময়সীমা ভিন্ন হলেও একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, গোয়েন্দা হিসাব অনুযায়ী, ইরান আগামী ছয় মাসের মধ্যেই তাদের ড্রোন হামলার পূর্ণ সক্ষমতা ফিরে পেতে পারে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে মার্কিন গোয়েন্দা কমিউনিটির দেওয়া সব সময়সীমা পার করে গেছে ইরানিরা।’

যদি পুনরায় যুদ্ধ শুরু হয়, তবে ইরান তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতার ঘাটতি মেটাতে বিপুল পরিমাণ ড্রোন ব্যবহার করতে পারে, যা ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম।

নেপথ্যে রাশিয়া ও চীনের সমর্থন?

একটি সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার চেয়ে কম ক্ষয়ক্ষতি হওয়া এবং রাশিয়া ও চীনের পরোক্ষ সমর্থনের কারণে ইরান এত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারছে। সূত্রমতে, সংঘাতের মধ্যেও চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে গেছে, যা বর্তমানে মার্কিন ব্লকেডের কারণে কিছুটা সীমিত।

গত সপ্তাহে সিবিএস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, চীন ইরানকে ‘ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উপাদান’ দিচ্ছে। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

পেন্টাগন ও সেন্টকমের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য

এদিকে মার্কিন সামরিক মহলে ইরানের এই পুনর্গঠন নিয়ে স্পষ্ট মতবিরোধ দেখা গেছে। গত মঙ্গলবার মার্কিন হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ধ্বংস করেছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা শিল্প ঘাঁটির ৯০ শতাংশই গুঁড়িয়ে দিয়েছে, যা পুনর্গঠন করতে কয়েক বছর লেগে যাবে।

তবে সিএনএন’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে সেন্টকম কমান্ডারের এই দাবির চরম বৈপরীত্য রয়েছে। গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, মার্কিন হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের যে ক্ষতি হয়েছে, তা তাদের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে মাত্র কয়েক মাস পিছিয়ে দিয়েছে, কয়েক বছর নয়।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য না করে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমেরিকান সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে অভিযান চালানোর সব সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।’

অক্ষত রয়েছে অর্ধেক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার

মার্কিন গোয়েন্দাদের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আগের চেয়ে বেশি অর্থাৎ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখনো অক্ষত রয়েছে। যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরানিরা মাটির নিচে বা ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা লঞ্চারগুলো খনন করে বের করার সুযোগ পেয়েছে। এ ছাড়া ইরানের ড্রোন সক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ এখনো সম্পূর্ণ অক্ষত। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি হিসেবে পরিচিত ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি বড় অংশও ধ্বংস করা যায়নি।

সামগ্রিকভাবে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো ইঙ্গিত করছে যে, যুদ্ধ ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে কিছুটা দুর্বল করলেও তা একেবারে ধ্বংস করতে পারেনি এবং তেহরান অত্যন্ত কার্যকরভাবে যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কাটিয়ে উঠছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com