| রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫ | প্রিন্ট | 67 বার পঠিত
এশিয়ার স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম এখনো এক বছরের সর্বনিম্নে
এশিয়া ও ইউরোপে উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটলেও সামগ্রিক চাহিদা দুর্বল থাকায় চলতি সপ্তাহে এশিয়ার স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে এখনো জ্বালানি পণ্যটি প্রায় এক বছরের সর্বনিম্ন দামে বেচাকেনা হচ্ছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের দেয়া তথ্যানুযায়ী, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় জুনে সরবরাহের জন্য চলতি সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ১১ ডলার ৮০ সেন্ট। আগের সপ্তাহে পণ্যটি প্রতি এমএমবিটিইউ ১১ ডলার ৫০ সেন্টে বেচাকেনা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের দাম ছিল গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝির পর সর্বনিম্ন।
পণ্যবাজার তথ্যসেবা প্রতিষ্ঠান আরগাসের হেড অব এলএনজি প্রাইসিং মার্টিন সিনিয়র জানান, তাৎক্ষণিক সরবরাহের জন্য প্রস্তুত কার্গোর জন্য ক্রেতার সংখ্যা সীমিত। কারণ চীনা ও ভারতীয় আমদানিকারকরা প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ১১ ডলারের ওপরে থাকায় ক্রয় কমিয়েছে। বর্তমানে স্পট মার্কেটের প্রধান ক্রেতা দেশ দক্ষিণ কোরিয়া।
মার্টিন সিনিয়র বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি কোগাসের মজুদ মাত্র ২০ শতাংশ পূর্ণ। শুধু কোগাস নয়, দক্ষিণ কোরিয়ার কমিপো কসপো ও প্রিজমের মতো কোম্পানিগুলোও এখন এলএনজি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি কোগাসের নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ বিক্রিমূল্যের তুলনায় কম। তাই বেসরকারি আমদানিকারকদের জন্য কার্গো কেনা লাভজনক হয়ে উঠেছে।’
এফজিইর ডিরেক্টর অব গ্যাস অ্যান্ড এলএনজি গ্যাস ও এলএনজি অ্যানালিটিকস সিয়ামাক আদিবি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে পেট্রোনাসের বিনটুলু এলএনজি কমপ্লেক্সে উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটলেও সামগ্রিক সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
তিনি জানান, ইউরোপের বৃহত্তম এলএনজি রফতানি কোম্পানি ইকুইনরের হ্যামারফেস্ট টার্মিনালও বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মঙ্গলবার থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
সিয়ামাক আদিবি আরো বলেন, ‘আমরা আশা করছি এ বছরের মাঝামাঝি থেকে কানাডার এলএনজি প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া সামনের দিনগুলোয় কর্পাস ক্রিস্টি প্লান্ট থেকেও সরবরাহ বাড়বে।’
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস গত বৃহস্পতিবার জুনের সরবরাহ চুক্তিতে নর্থওয়েস্ট ইউরোপ এলএনজি মার্কার (এনডব্লিউএম) বাজার আদর্শে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম স্থির করেছে ১০ ডলার ৪৯ সেন্টে। একই মাসের সরবরাহ চুক্তিতে টিটিএফে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজিতে ৭০ সেন্ট ছাড় দেয়া হয়েছে।
আরগাস প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করেছে ১০ ডলার ৫৮ সেন্ট। অন্যদিকে স্পার্ক কমোডিটিজ ফেব্রুয়ারির সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করেছে ১০ ডলার ৩৮ সেন্ট।
র্যাবোব্যাংক লন্ডনের এনার্জি স্ট্র্যাটেজিস্ট ফ্লোরেন্স শ্মিট বলেন, ‘ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের মৌসুমি চাহিদা কমতে শুরু করেছে। তবে গ্রীষ্মকালীন মজুদের বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে।’
স্পার্ক কমোডিটিজের বিশ্লেষক কাসিম আফগান জানান, শুক্রবার আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথে এলএনজির পরিবহন ব্যয় বেড়ে দৈনিক ৩৫ হাজার ৭৫০ ডলারে পৌঁছেছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথে তা কমে দৈনিক ২২ হাজার ২৫০ ডলারে স্থির হয়েছে।
Posted ৪:৫০ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam