| রবিবার, ০৪ মে ২০২৫ | প্রিন্ট | 153 বার পঠিত
পাকিস্তান থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করল ভারত
পাকিস্তান থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে ভারত। শুধু তা-ই নয়, ট্রানজিট কিংবা তৃতীয় কোনো দেশের বন্দর ব্যবহার করে পাকিস্তানি পণ্য আমদানিও এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত সরকার।
কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির পর প্রায় যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত নিল ভারত সরকার। এ সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আরো অবনতি হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাকিস্তান থেকে বেশকিছু পণ্য ভারত আমদানি করে। এর মধ্যে ওষুধ, ফল ও তেলবীজ অন্যতম। তবে ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পর পাকিস্তানি পণ্যের ওপর ভারত ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় আমদানি অনেকটাই কমে যায়।
ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক সরকারি নোটিসে ঘোষণা দেয়, পাকিস্তান থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আসা সব ধরনের পণ্য আমদানি ও পরিবহন নিষিদ্ধ। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে গত ২২ এপ্রিল সশন্ত্র গোষ্ঠী হামলা চালায়। এতে ২৬ জন নিহত হয়, যাদের প্রায় সবাই পর্যটক। এ হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ভারত। যদিও পাকিস্তান তা নাকচ করে দেয়।
পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের একমাত্র স্থলপথ পাঞ্জাবের ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত। পেহেলগামে হামলার পর এ পথও বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এবার সমুদ্র ও আকাশপথেও সব ধরনের আমদানি বন্ধ হলো। ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যনীতি পরিচালনাকারী বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের মহাপরিচালকের (ডিজিএফটি) কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার বাইরে পাকিস্তান থেকে কোনো কিছু আনতে চাইলে সরকারের স্পষ্ট অনুমতি লাগবে।
ভারত শুধু আমদানি বন্ধ করেই থেমে থাকেনি। দেশটির সরকার আরো একাধিক ব্যবস্থা নিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানকে আবার এফএটিএফের ‘গ্রে লিস্টে’ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। এ আন্তর্জাতিক সংস্থা সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও অর্থ পাচার রোধে নজরদারি করে। ভারতের পক্ষ থেকে এও বলা হচ্ছে, পাকিস্তানকে ঋণ না দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে আবেদন জানানো হবে। সন্ত্রাসবাদে আর্থিক সহায়তা বন্ধ করতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে ভারতের দাবি।
পেহেলগাম হামলার মাত্র দুদিন পর ভারত সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি পর্যালোচনা করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হলো সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করা। এ চুক্তির অধীন পাকিস্তান সিন্ধু নদীসহ কয়েকটি নদীর পানি পায়। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তান সরকারও সিমলা চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেয়। ১৯৭২ সালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে এ চুক্তি করা হয়েছিল।
Posted ৪:৫২ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৪ মে ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam