লিবিয়ায় বন্যা: পানি নামতেই ভেসে উঠল ধ্বংসযজ্ঞ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩   প্রিন্ট  

Libya

সংগৃহীত ছবি

বানের তোড়ে কচুরিপানার মতো ভেসে যাওয়া গাড়ি আটকে আছে গাছের ডালে, সাগর তীরের পাথরে। কোথাও ভবনের দেয়ালে মুচড়ে লেপ্টে আছে গাড়িগুলো। মাটির সঙ্গে মিশে গেছে শত শত পাকা ভবন। রাস্তার মাঝে তৈরি হয়েছে বড় বড় খাদ। জমে আছে পানি। যত্রতত্র পড়ে আছে মরদেহ। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। হাসপাতালে তিল ধারণের জায়গা নেই।

বন্যার পানি সরে যাওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে এমন চিত্র ফুটে উঠেছে। মরুর দেশ লিবিয়ার মানুষ এমন ভয়াবহ বন্যা আর দেখেনি। আলজাজিরা জানায়, ঘূর্ণিঝড় দানিয়েলের জেরে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে প্রলয়ংকরী এ বন্যা দেখা দেয়। বন্যায় এ পর্যন্ত অন্তত তিন হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রবল বর্ষণে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দুটি জলাধারের পাড় ভেঙে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, দেরনাসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে অন্তত ১০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। পুরো অঞ্চল থেকে ২০ হাজার মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বহু মানুষ ঘরের ভেতরে আটকা পড়ে আছে।

আরও পড়ুন
লিবিয়ায় বন্যায় নিহত ৩ হাজার

বন্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে বেনগাজিভিত্তিক পূর্বাঞ্চলীয় সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওথমান আব্দুল জলিল আলমাসার টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেরনা এখন এক ভূতের নগরী। সেখানে পরিস্থিতি বিপর্যয়কর। যত্রতত্র মরদেহ পড়ে আছে। অনেক লোক বন্যায় ধসে পড়া ঘরের ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়ে আছে। অনেকে ঘর থেকে বের হতে পারছে না। তিনি জানান, শুধু দেরনাতেই ছয় হাজার মানুষ নিখোঁজ আছে।

এ পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও ত্রাণের জন্য আকুতি জানাচ্ছে দুর্গত এলাকার মানুষ। সিএনএন জানায়, দেশটির দুই অংশে দুই সরকার থাকায় ত্রাণ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। লিবিয়ার নেতা কর্নেল মুয়াম্মার আল গাদ্দাফি ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের হামলায় নিহত হওয়ার পর থেকে সেখানে ক্ষমতার সংঘাত চলছে। দেশের পূর্ব ও পশ্চিম অংশ শাসন করছে পৃথক সরকার।

রাস্তা ধ্বংস হওয়ায় বিভিন্ন শহরে ত্রাণ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক মালিক ত্রাইনা জানান, বন্যায় অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ায় দেরনায় হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়ে আছে। কাতার, মিসরসহ কয়েকটি দেশ সহায়তা পাঠিয়েছে। মিসরাতা শহরে ত্রাণ নিয়ে মঙ্গলবার একটি উড়োজাহাজ অবতরণ করেছে। দেরনার ২৫ শতাংশ এলাকা একেবারেই ধুয়ে গেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওথমান আব্দুল জলিল বলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে মরদেহ পড়ে আছে। হাসপাতালে জায়গা নেই। এমনও দুর্গত অনেক এলাকা আছে, যেখানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তিনি বন্ধু দেশগুলোর প্রতি সহায়তার আহ্বান জানান।

প্রলয়ংকরী বন্যার কারণ প্রসঙ্গে ইউএস লিবিয়া রিলেশনস বিষয়ক ন্যাশনাল কাউন্সিলের সদস্য হানি শেনিব বলেন, ঘূর্ণিঝড় দানিয়েলের কারণে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা ধারণ করতে পারেনি জলাধার দুটি। এতে লাখ লাখ কিউবিক মিটার পানি দেরনাসহ পুরো পূর্বাঞ্চলের তীব্র বেগে ছড়িয়ে পড়ে। জলাধারের কাছাকাছি হওয়ায় দেরনার চার কিলোমিটার এলাকা একেবারেই ধ্বংস হয়ে গেছে।

চলমান পরিস্থিতিতে জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির লিবিয়া বিষয়ক মানবাধিকার সমন্বয়ক জর্জেট্টি গ্যাগনন বলেন, তাদের কাছে দেশটির গ্রাম ও শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর রয়েছে। অবকাঠামোর পাশাপাশি বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন জরুরি ভিত্তিতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়।

এরই মধ্যে তুরস্ক তাদের একটি উদ্ধারকারী দলকে লিবিয়ায় পাঠিয়েছে। আর মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ সিসি উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়ার জন্য সেনাসদস্যদের পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন। এ ছাড়া জার্মানি, ইরান, ইতালি ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।

Facebook Comments Box

Posted ০৭:১৭ AM | বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

bankbimarkhobor.com |

সম্পাদক : মোঃ ইসলাম শেখ
ঠিকানা

৮৯/এ (৪র্থ তলা), আনারকলি সুপার মার্কেট, সিদ্ধেশ্বরী, ঢাকা-১২১৭

ফোন: ০১৯১৫৩৪৪৪১৮

ই-মেইল: faroque.computer@gmail.com


#