| বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | 78 বার পঠিত
চলতি বছরের নভেম্বর মাসে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ মাসে রফতানি আয় বেড়ে ৪ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের নভেম্বর মাসে আয় হয়েছিল ৩ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। গতকাল বুধবার রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো প্রকাশিত রফতানির হালানাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বরে রফতানি আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ওই সময় আয় হয়েছে ১৯ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার যা আগের বছর ছিল ১৭ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার।
নভেম্বর মাসে পোশাক খাতে আয় বেড়েছে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং আয় হয়েছে ৩ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছর ছিল ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার।
চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে তৈরি পোশাক থেকে রফতানি আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং আয় হয়েছে ১৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৪ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার।
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে রফতানি আয় ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে ৪৬৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে যা গত বছর ছিল ৪৩৩ মিলিয়ন ডলার।
কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য থেকে রফতানি আয় হয়েছে ৪৯৫ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি।
কমেছে বাণিজ্য ঘাটতি
এদিকে আমদানির সঙ্গে রফতানি বাড়ায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর মেয়াদে বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ; অর্থের হিসাবে ৮৮৪ মিলিয়ন ডলার। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যালেন্স অব পেমেন্ট (বিওপি) সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জুলাই-অক্টোবরের যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে বাণিজ্য ঘাটতি ৬ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার দেখানো হয়েছে। গত অর্থবছরে যা ছিল ৭ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৪ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যে, চলতি হিসাবেও ঘাটতি কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে চলতি হিসাবে ঘাটতি ৭৫২ মিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময় ঘাটতি ছিল ৩ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে আর্থিক হিসাব দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ৮৭৩ মিলিয়ন ডলার।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্সের প্রবাহ ও রফতানি বাড়ায় চলতি হিসাব আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কারণ গত কয়েক মাস ধরেই প্রতি মাসেও দুই বিলিয়ন ডলার করে রেমিট্যান্স আসছে। এতে ডলার প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় ব্যালেন্স অব পেমেন্টে চলতি হিসাবে উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরেই ২ বিলিয়ন ডলার আসছে। আবার রফতানিও বেড়েছে। তাতে ঘাটতি কমে আসছে। অর্থনীতির জন্য যা স্বস্তির। আমদানির এলসি খুলতেও বাংলাদেশ ব্যাংক কড়াকড়ি কমিয়েছে। কারণ ডলার সংকট আগের চেয়ে অনেক কমেছে।’
২০২২ সালের মাঝামাঝি ব্যাংক খাতে ডলার সংকট শুরু হয়। তাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এলসি খোলার জন্য নানা বিধিনিষেধ দেয়। তবে চলতি বছর মে মাসে ডলারের বিনিময় হারে ‘ক্রলিং পেগ’ পদ্ধতি চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে ডলারের দর এক লাফে ৭ টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৭ টাকায়। এরপর ডলার সংকট ও দরে অস্থিরতা কমে আসে। ব্যাংকগুলো বর্তমানে প্রতি ডলারের বিপরীতে ১২০ টাকার বেশি দিচ্ছে।
জাহিদ হোসেন মনে করেন, মূলত ডলারের দর ও দেশের ওপর আস্থা বাড়ার কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার আসছে বেশি। তাতে বিওপিতেও এক ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
তবে চলতি ও আর্থিক হিসাবে সামান্য উন্নতি হলেও বিওপিতে প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। সেই বিষয়টি বিওপির ‘এরোরস অ্যান্ড অমিশনস’ সূচকে উঠে এসেছে বলে মনে করেন তিনি।
জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ডলার ব্যয় যা হওয়ার হিসাব তার চেয়ে বেশি হয়েছে। অর্থাৎ দেশ থেকে হিসাবের চেয়ে বেশি ডলার বাইরে চলে গেছে। সেই ডলার কোথায় গেছে তা সুনির্দিষ্ট নয়।’
দেশ থেকে ডলার বাইরে চলে গেছে যার কোনো হিসাব নেই।
এটাতে অর্থ পাচারের গন্ধ পাওয়া যায়। এই সূচকে বড় একটা প্রশ্ন থাকবে। রিজার্ভ যতটা কমেছে ও বহির্বিশ্বের যে লেনদেনে ঘাটতি কমেছে, সে হিসাবে তা এত কমার কথা নয়। এখানে টাকা পাচারের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। দেশ থেকে এত পরিমাণে ডলার কেন বাইরে চলে গেল, তা উদ্বেগ তৈরি করে।’
Posted ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam