| বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫ | প্রিন্ট | 73 বার পঠিত
খুলে দেয়া হচ্ছে মিসরের গ্র্যান্ড মিউজিয়াম
সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত। দর্শকের পদচারণের অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রত্নতাত্ত্বিক মিউজিয়ামটি। কায়রোয় অবস্থিত গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম নামে পরিচিত জাদুঘরটি চলতি বছরের ৩ জুলাই পুরোপুরিভাবে দর্শকের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
মিউজিয়ামের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে। তারপর নানা কারণে থেমে থেমে এগিয়েছে কাজ। পিছিয়েছে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের তারিখও। তবে ২০২৫ সালের ৩ জুলাই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে খোলার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। যদিও এখনো মিউজিয়ামের ৬০ শতাংশ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। জাদুঘরের বিশাল পরিধি এবং আধুনিক স্থাপত্য যেন প্রাচীন ও আধুনিকতার অদ্ভুত সমন্বয় করেছে। জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মিসরীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে চলেছে গিজা।

মিসরের প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এ জাদুঘর। প্রায় পাঁচ লাখ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে অবস্থিত জাদুঘরটি ২০২৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি সাময়িকভাবে উন্মুক্ত করা হয় দর্শনার্থীর জন্য। যদিও পুরোপুরি খুলে দেয়া হয়নি। মিউজিয়ামের প্রবেশদ্বারে দর্শনার্থীদের একটি প্রশস্ত ঢাল বেয়ে উঠতে হবে। সেখানে রয়েছে পৃথিবীর প্রথম ঝুলন্ত অবেলিস্ক। ভেতরের বিশাল এট্রিয়ামে দাঁড়িয়ে রয়েছে দ্বিতীয় রামেসিসের সময়ে নির্মিত ৩ হাজার ২০০ বছর পুরনো স্মৃতিস্তম্ভ। এখানকার বিশাল সিঁড়ি এবং সুন্দরভাবে সাজানো ফারাওদের মূর্তিগুলো দর্শকদের অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করে। মিউজিয়ামের নকশা ও স্থাপত্য প্রতিফলিত করে মিসরের প্রাচীন শিল্পকলা ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন।
মিউজিয়ামের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ তুতেনখামেনের সমাধির রত্ন, যা এখনো স্থানান্তরিত হয়নি। তবে শিগগিরই একটা নির্দিষ্ট গ্যালারিতে প্রদর্শিত হবে। এছাড়া মিউজিয়ামটিতে ঠাঁই পেয়েছে খুঁটিনাটি অজস্র উপাদান—পাঁচ হাজার বছরের মিসরীয় ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বস্তু। একটি অনুভূমিক টাইমলাইন ধরে দর্শকদের এগিয়ে নিয়ে যায় মিসরের ইতিহাসের বিভিন্ন যুগের মধ্যে। পাশাপাশি রাখা হয়েছে সমাজ, রাজত্ব ও বিশ্বাসের মতো মূল-সংশ্লিষ্ট থিম। তবে কেবল প্রাচীনতার মধ্যে আটকে থাকা হয়নি; চেষ্টা করা হয়েছে আধুনিকতার স্পর্শ দেয়ার ক্ষেত্রে। যদিও ডিজিটাল ও মাল্টিমিডিয়া প্রদর্শনীর মান আরো উন্নত করার সুযোগ ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২০২৩ সালে মিউজিয়ামটি ট্রেস অব ইজিপ্ট নামক একটি প্রদর্শনী আয়োজন করেছিল। তখন স্থানীয় শিল্পীদের সঙ্গে মিসরীয় শিল্পের ঐতিহ্যকে পাশাপাশি ঠাঁই দেয়া হয়। মিউজিয়ামটি এর মধ্যেই প্রমাণ করেছে, এটি শুধু একটি প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহ নয়; বরং উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার একটি কেন্দ্র হিসেবে মিসরের সাংস্কৃতিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করতে যাচ্ছে।
Posted ৪:২০ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam