| বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ | প্রিন্ট | 272 বার পঠিত
জিততে ‘ভুলে যাওয়া’ জিম্বাবুয়ের কাছে হারল বাংলাদেশ
সেই ঘাটতি আর কাটিয়ে ওঠা যায়নি। প্রতিপক্ষকে ২০০ রানের টার্গেটও দিতে পারেনি নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অবশ্য ১৭৪ রানের টার্গেটও সহজে ছুঁয়ে ফেলতে পারেনি অতিথিরা। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের ‘ঘূর্ণিঝড়ে’র মুখে পড়েছিল দলটি। শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর হাসি হেসেছেন ক্রেগ আরভিন, শন উইলিয়ামসরাই।
প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ার পরও তৃতীয় দিন শেষে ম্যাচে টিকে ছিল বাংলাদেশ। যদিও চতুর্থ দিন সকালে ২২.২ ওভারে সব ওলটপালট। ৪ উইকেটে ১৯৪ রান নিয়ে দিন শুরু করা স্বাগতিক দল আর মাত্র ৬১ রান তুলতেই বাকি ৬ উইকেট হারিয়ে বসে। ২৫৫ রানে গুটিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ জিম্বাবুয়েকে মাত্র ১৭৪ রানের টার্গেট দিতে সমর্থ হয়।
ছোট টার্গেট তাড়া করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে ব্রায়ান বেনেট আর বেন কারান ৯৫ রান তুলে দেয়ার পর বাংলাদেশের সব আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। তবু হারার আগে হার মেনে নিলেন না মিরাজ ও তাইজুল। দুজনের প্রবল প্রতিরোধের মুখে জিম্বাবুয়ের ‘তরী’ যেন ‘তীরে’র কাছে গিয়ে ডুবতে বসে। তখনই বুক চিতিয়ে লড়াই করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ওয়েসলি মাদেভেরে (১৯*)। শেষ পর্যন্ত তিন উইকেটের স্নায়ুক্ষয়ী জয় পায় জিততে ভুলে যাওয়া আফ্রিকার দলটি।
টেস্টে এটাই জিম্বাবুয়ের সফলতম চেজের রেকর্ড। এর আগে সফলতম চেজ ছিল ১৬২ রানের। ১৯৯৮ সালে পেশোয়ারে ১৬২ রান তাড়া করে পাকিস্তানকে সাত উইকেটে হারিয়েছিল অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলের জিম্বাবুয়ে।
লড়াইয়ে সমতা আনল জিম্বাবুয়ে। ১৯ টেস্টের লড়াইয়ে এটা তাদের অষ্টম জয়, বাংলাদেশও জিতেছে সমান আটটি ম্যাচ। ১০টি সিরিজে মুখোমুখি হয়ে উভয় দল সমান চারটি করে সিরিজ জিতেছে। পঞ্চম সিরিজ জয় থেকে অতিথিদের রুখতে পারবে কি স্বাগতিকরা?
বাংলাদেশের জন্য লজ্জাজনক হার আর জিম্বাবুয়ের জন্য স্মরণীয় এক জয়। সিলেট টেস্টের আগে টানা ১০ টেস্ট জিততে পারেনি জিম্বাবুয়ে। এর মধ্যে দুটি করেছে ড্র, হেরেছে বাকি আটটি। গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে তারা দেশের মাঠে হেরে গেছে আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানের কাছে। সেই দলটি এবার বাংলাদেশকে হারাল তাদেরই মাটিতে। উড়তে থাকা বাংলাদেশকে এক অর্থে মাটিতেই নামাল আরভিনের দল। টাইগাররা ২০২৪ সালে টেস্ট জিতেছে পাকিস্তান (দুটি) আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে। সর্বশেষ গত নভেম্বরে জ্যামাইকার কিংস্টনে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১০১ রানে হারানোর কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। সেই দলটি এবার ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে বসেছে।
বাংলাদেশের হারে বিফলেই যায় মিরাজের ম্যাচে ১০ উইকেটের কীর্তি। তাইজুলকে টপকে বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচে সর্বোচ্চ তিনবার ১০ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখালেন সহ-অধিনায়ক মিরাজ। তাইজুল নেন দুবার। মিরাজের এমন বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স যখন বিফলে যায় তখন আক্ষেপ থেকেই যায়।
সিলেটে হারের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নবাণে জর্জর হন দলনায়ক শান্ত। তবে হতাশ হলেও তিনি খুব বেশি হতাশ নন! সংবাদ সম্মেলনে স্বাগতিক দলের অধিনায়ক বলেন, ‘(পরাজয়) অবশ্যই হতাশাজনক। পুরো ম্যাচ যদি বিশ্লেষণ করি, আমরা খুব একটা ভালো ক্রিকেট খেলিনি। যে কারণেই এই হার। অতিরিক্ত আপসেট, এটা আসলে বলব না। কারণ এটাও একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল। ভালো করিনি, এ কারণে আপসেট। যেকোনো ম্যাচ হারলে খারাপ লাগে। অবশ্যই আমরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি, এটা আমি বিশ্বাস করি। আমরা এর চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলার মতো দল। এজন্যই হতাশ। ম্যাচটা হেরে অনেক বেশি খারাপ লাগছে, জিনিসটা এ রকম নয়। নরমালি ম্যাচ হারলে যেমন খারাপ লাগে, আজও অমনই লাগছে।’
আগামী সোমবার চট্টগ্রামে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। দ্বিতীয় টেস্টের জন্য গতকাল স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। ২০২২ সালের পর টেস্ট দলে ডাক পেয়েছেন এনামুল হক বিজয় আর পিএসএল খেলতে যাওয়া নাহিদ রানার জায়গায় এসেছেন স্পিনার তানভীর ইসলাম।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ১৯১ (মুমিনুল ৫৬, শান্ত ৪০; মাসাকাদজা ৩/২১) ও ২৫৫ (শান্ত ৬০, জাকের ৫৮; মুজারাবানি ৬/৭২)। জিম্বাবুয়ে: ২৭৩ (উইলিয়ামস ৫৯, বেনেট ৫৭; মিরাজ ৫/৫২) ও ১৭৪/৭ (বেনেট ৫৪, কারান ৪৪; মিরাজ ৫/৫০, তাইজুল ২/৭০)। ফল: জিম্বাবুয়ে তিন উইকেটে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: ব্লেসিং মুজারাবানি (জিম্বাবুয়ে)। সিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে জিম্বাবুয়ে ১-০-তে এগিয়ে।
Posted ৪:৪২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam