শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

মার্কিন প্রযুক্তি খাতের শেয়ারদর নিম্নমুখী, এশিয়ার প্রধান প্রধান সূচকে পতন

  |   বৃহস্পতিবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   91 বার পঠিত

মার্কিন প্রযুক্তি খাতের শেয়ারদর নিম্নমুখী, এশিয়ার প্রধান প্রধান সূচকে পতন

বৃহৎ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিক্রয়চাপ বাড়ায় নিম্নমুখী ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ার সূচক। এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোয়ও দেখা গেছে এর প্রভাব। গতকাল এখানে প্রধান বাজার সূচকগুলোর বেশির ভাগই ছিল নিম্নমুখী। মার্কিন ফিউচার সূচকগুলোয়ও দেখা গেছে নিম্নমুখী প্রবণতা। খবর এপি ও রয়টার্স।

নিক্কেই সূচক গতকাল সকালে প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেলেও দুপুর নাগাদ লোকসান কিছুটা পুষিয়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশ নিম্নমুখী অবস্থানে ছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগের মাঝে জাপানের জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতের জায়ান্ট সফটব্যাংক গ্রুপের শেয়ারদর কমেছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। কম্পিউটার চিপ নির্মাতা টোকিও ইলেকট্রন দর হারায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ। সেমিকন্ডাক্টর টেস্টিং সরঞ্জাম নির্মাতা অ্যাডভানটেস্ট করপোরেশনের শেয়ারদর হারিয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ৩ শতাংশ পতন দেখেছে। গতকাল স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিকসের শেয়ারদর কমেছে যথাক্রমে ৪ দশমিক ৯ ও ২ দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে গতকাল চীনের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। মূল ভূখণ্ডের সাংহাই কম্পোজিট সূচক দশমিক ২ শতাংশ বাড়লেও হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক দশমিক ৩ শতাংশ পতন দেখেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়াল স্ট্রিটে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের রাতারাতি তৈরি হওয়া ব্যাপক বিক্রয় চাপ বিনিয়োগকারীদের ভীত করেছে। এনভিডিয়া ও মাইক্রোসফটের মতো কোম্পানিগুলো চলতি বছর ওয়াল স্ট্রিটের বাজার গতিপ্রকৃতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। এ কারণে এসব কোম্পানি নিয়ে আশঙ্কাও বেশি।

এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের স্টিফেন ইনেস বলেছেন, ‘এপ্রিলে শুরু হওয়া বাজারের উত্থান এখন স্তিমিত হচ্ছে। আজকের (বুধবার) পতন ছোট একটি ধাক্কা নয়, বরং পুরোপুরি বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার মতো বিষয়।’

পালান্টিয়ার টেকনোলজিসের শেয়ারদর চলতি বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছিল। কিন্তু বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার তুলনায় ভালো আর্থিক ফলাফল ঘোষণা করেও গতকাল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ পড়ে যায়। আগের দিন উত্থান ঘটলেও এনভিডিয়ার শেয়ারদর কমেছে ৪ শতাংশ। মাইক্রোসফটের শেয়ারদর ছিল দশমিক ৫ শতাংশ নিম্নমুখী।

অন্য খাতগুলোও গতকাল দুর্বল ছিল। এর ফলে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ কমেছে দশমিক ৫ শতাংশ। প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক ২ শতাংশ পতন দেখেছে।

মার্কিন সরকারের শাটডাউন দীর্ঘায়িত হওয়ায় মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত সর্বশেষ সরকারি তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এ পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াল স্ট্রিটে করপোরেট মুনাফা ও পূর্বাভাসগুলো আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৭৫ শতাংশ কোম্পানি এরই মধ্যে তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ফলাফল প্রকাশ করেছে, যার বেশির ভাগেরই আয় ও মুনাফা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার তুলনায় বেশি।

টেসলার শেয়ারদর গতকাল ৫ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এর কারণ হলো কোম্পানিটির অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী নরওয়ের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল জানিয়েছে, ইলোন মাস্কের প্রস্তাবিত ট্রিলিয়ন ডলার বেতন-ভাতা প্যাকেজের বিপক্ষে ভোট দিতে পারে তারা।

জোহরান মামদানিকে নিয়ে উদ্বেগ ওয়াল স্ট্রিটে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট জোহরান মামদানি মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় ওয়াল স্ট্রিট-সংশ্লিষ্টরা সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে হিসাব-নিকাশ করছেন। অনেকে আশঙ্কা করছেন, এতে শহরের ব্যবসাবান্ধব ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া গভর্নর নির্বাচনে বিশেষ করে ভার্জিনিয়া ও নিউজার্সিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর জয়কে রিপাবলিকানবিরোধীদের পুনরুত্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেক বিনিয়োগকারী।

ইনগালস অ্যান্ড স্নাইডারের সিনিয়র পোর্টফোলিও স্ট্র্যাটেজিস্ট টিম গ্রিসকি বলেন, ‘মামদানির জয় এক ধরনের রাজনৈতিক পরীক্ষা। তিনি কতটা পরিবর্তন আনতে পারেন এবং মানুষ তাকে কতটা মেনে নেয় তা দেখার বিষয়। নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও ভার্জিনিয়ার ফলাফল একত্রে দেখলে মনে হয়, এটা ওয়াশিংটন প্রশাসনের বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা।’

নির্বাচনী প্রচারণায় নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ওপর জোর দিয়েছিলেন জোহরান মামদানি। ধনীদের ওপর কর ও করপোরেট ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি, যা এখন ওয়াল স্ট্রিটে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

অবশ্য ওয়াল স্ট্রিটের ওপর নিউইয়র্কের মেয়রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে ব্যবসাবান্ধব শহর হিসেবে পরিচয় নির্ধারণে তার ভূমিকা রয়েছে। কিছু বিশ্লেষক আশা করছেন, মামদানি বাস্তবে কিছুটা মধ্যপন্থী ভূমিকা নেবেন বা রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়বেন। কার্ডিফের প্রধান নির্বাহী ডিন লিউলকিন বলেন, ‘প্রচারণার ভাষা যতই কঠোর হোক, বাস্তব নীতি সাধারণত অনেক নরম হয়।’

জোহরান মামদানির মুখপাত্র ডোরা পেকেক বলেন, ‘নতুন মেয়রের কর্মসূচি অর্থনীতির জন্য ভালো। শিশুযত্ন ও সামাজিক সেবার প্রসার কর্মীদের কাজে ধরে রাখবে, উৎপাদনশীলতা বাড়াবে এবং নিউইয়র্কবাসীর জীবনমান উন্নত করবে।’

মামদানির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নিউইয়র্কের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো। তাকে অর্থসহায়তা দিয়েছিলেন বিল অ্যাকম্যান ও ড্যান লোয়েবের মতো বড় বিনিয়োগকারীরা।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৫

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com