শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

রুশ জ্বালানি তেল ক্রয় নিয়ে অস্পষ্ট বক্তব্য ভারত সরকারের

  |   মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   72 বার পঠিত

রুশ জ্বালানি তেল ক্রয় নিয়ে অস্পষ্ট বক্তব্য ভারত সরকারের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোর অংশ হিসেবে রুশ জ্বালানি তেল কেনা বন্ধে সম্মত হয়েছে ভারত। ওয়াশিংটনের এমন দাবির নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে জানা গেছে, রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র আবারো শুল্কের একটি অংশ পুনর্বহাল করতে পারে।

শুল্ক পুনর্বহালের আশঙ্কার বিপরীতে ভারতের জন্য একটি সুরক্ষা বলয় থাকতে পারে বলে এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল। তিনি বলেন, ‘সব বাণিজ্য চুক্তিতেই অন্তর্নিহিত সুরক্ষা হিসেবে ছাড় সুবিধার পুনঃসমন্বয়ের বিধান থাকে।’

দ্য হিন্দুকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি তেলসংক্রান্ত বিষয়ে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে, তার বিস্তারিত আমি জানি না। তবে আমি এটুকু জানি, প্রতিটি বাণিজ্য চুক্তিতেই, এমনকি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়মেও এমন ব্যবস্থা থাকে, যাতে কোনো পরবর্তী পদক্ষেপের কারণে যদি একটি বাণিজ্য চুক্তির সুফল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে ছাড় সুবিধা পুনঃসমন্বয় করা যায়।’

এ অন্তর্বর্তী চুক্তি কাঠামোর ফলে ভারতের শ্রমঘন পণ্যের রফতানিকারকরা তাৎক্ষণিক সুবিধা পাচ্ছেন। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এসব পণ্যের ওপর ৫০ থেকে কমিয়ে শুল্ক ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। আরো কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানোর বিষয়ে দুপক্ষ সম্মত হয়েছে, যা কয়েক দিনের মধ্যেই কার্যকর হওয়ার কথা।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমার ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামগ্রিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, কারণ সেখানে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ অনেক কমানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে কম হবে। ফলে চীনসহ অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সরবরাহকারীদের তুলনায় আমরা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাব। একই সঙ্গে ভারতে অনেক বেশি বিনিয়োগও আসবে।’

এ বাণিজ্য সমঝোতায় আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য আমদানির বিষয়ে ভারত অঙ্গীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি পণ্য, উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তিপণ্য ও কোকিং কয়লার মতো পণ্য। তবে এ অঙ্গীকার নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন পীযূষ গয়াল। তিনি বলেন, ‘এসব পণ্যের ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত শক্তিশালী। বর্তমানে এসব পণ্যে আমাদের মোট আমদানি প্রায় বছরে ৩০ হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি। পাঁচ বছরের মধ্যে এ আমদানি বেড়ে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে। তাই প্রতিযোগিতামূলক দাম ও ভালো মান নিশ্চিত করতে আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়াতে চাই, যাতে উৎস বৈচিত্র্য করা যায় এবং ভালো দাম ও মান পাওয়া যায়।’

এ চুক্তি নিয়ে রফতানিকারকরা আশাবাদী হলেও উদ্বেগ রয়ে গেছে। কারণ মার্কিন নির্বাহী আদেশে ভারতের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে রুশ জ্বালানি তেল কেনা বন্ধের অঙ্গীকারের সঙ্গে যুক্ত। ওই আদেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যদি আবার আমদানি শুরু হয়, তাহলে শুল্ক পুনর্বহাল করা হতে পারে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com