শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

আগ্রাসী ব্যাংকিংয়ে বেসরকারি ব্যাংক

  |   শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   72 বার পঠিত

আগ্রাসী ব্যাংকিংয়ে বেসরকারি ব্যাংক

বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আগ্রাসী ব্যাংকিং কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া সীমার চেয়ে মাত্রাতিরিক্ত হারে ঋণ বিতরণ করে নিজেরাই ঝুঁকিতে পড়েছে। একদিকে বিতরণ করা ঋণ আদায় করতে পারছে না। ফলে খেলাপি হচ্ছে। অন্যদিকে ইমেজ সংকটের কারণে আমানত প্রবাহও চাহিদা অনুযায়ী বাড়াতে পারছে না। ফলে ঋণ ও আমানতের অনুপাত বেশি মাত্রায় রয়েছে। এতে একদিকে ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার দিকগুলো ফুটে ওঠেছে। অন্যদিকে তারল্য সংকটের কারণে ঝুঁকির মাত্রাও বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি এক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এতে আরও দেখা যায়, সরকারি খাতের ও বিদেশি ব্যাংকগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকেই ঋণ বিতরণ করছে। কিন্তু বেসরকারি ও ইসলামী ব্যাংকগুলো ঋণ সীমা মানছে না। তারা সীমার চেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। এমনকি বাজার থেকে ধার করেও ঋণ বিতরণ করার নজির পাওয়া গেছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ ব্যাংকগুলো মোট আমানতের ৮৩ শতাংশ ঋণ হিসাবে বিতরণ করতে পারে। বাকি ১৩ শতাংশ আমানত গ্রাহকদের নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিধিবদ্ধ আমানত হিসাবে জমা রাখতে হয়। শরিয়াভিত্তিতে পরিচালিত ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট আমানতের সাড়ে ৯ শতাংশ বিধিবদ্ধ আমানত হিসাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখতে হয়। বাকি সাড়ে ৯০ শতাংশ অর্থ বিনিয়োগ হিসাবে বিতরণ করতে পারে। কিন্তু বেশির ভাগ ইসলামি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো ওই সীমার চেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। যে কারণে ওইসব ব্যাংক ঝুঁকিতে পড়েছে। ফলে সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এছাড়াও গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতিদিনকার লেনদেন নিষ্পত্তি করতে আরও কিছু অর্থ নিজেদের কাছে রাখতে হয়। যেটি তারা রাখেনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো গড়ে তাদের মোট আমানতের ৯৪ দশমিক ১০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসাবে বিতরণ করেছে। যা সীমার চেয়ে ১১ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। শরিয়াভিত্তিতে পরিচালিত ব্যাংকগুলো মোট আমানতের চেয়ে বেশি অর্থ বিনিয়োগ করেছে। বাড়তি অর্থ তারা অন্য ব্যাংক, বন্ড মার্কেট থেকে ধার করে বিনিয়োগ করেছে। ফলে তাদের মোট আমানতের অনুপাতে ১২১ দশমিক ৮০ শতাংশ বিনিয়োগ করেছে। যা সীমার চেয়ে ৩১ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। যে কারণে এসব ব্যাংকে তারল্য সংকট বেশি। ফলে এগুলো ঝুঁকিতে পড়েছে। এসব অর্থ সময়মতো আদায় করতে পারছে না। ফলে খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যাংকগুলোর সংকট আরও বেড়েছে। অবশ্য শরিয়া ব্যাংকগুলোর বেশির ভাগই একটি গ্রুপ দখল করে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। দখলের মাধ্যমে ওইসব ব্যাংকে লুটপাট হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি খাতের কয়েকটি ব্যাংকেও লুটপাট হয়েছে দখলের মাধ্যমে।

সরকারি ব্যাংকগুলো তাদের মোট আমানতের ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সরকারি বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো ঋণ হিসাবে বিতরণ করেছে তাদের মোট আমানতের ৮৭ শতাংশ। অর্থাৎ সরকারি খাতের ব্যাংকগুলো সীমার চেয়ে কম ঋণ বিতরণ করেছে। একই ভাবে বিদেশি ব্যাংকগুলোও সীমার চেয়ে অনেক কম ঋণ বিতরণ করেছে। তারা মোট আমানতের ৫৫ দশমিক ৩০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসাবে বিতরণ করেছে। সার্বিকভাবে ব্যাংকগুলো মোট আমানতের মধ্যে ৮৬ দশমিক ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ বিতরণ বা বিনিয়োগ করেছে। যা সীমার চেয়ে বেশ কম। কিন্তু কিছু ব্যাংকের কারণে পুরো ব্যাংক খাত ঝুঁকিতে পড়েছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com