| শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 71 বার পঠিত
গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে উল্লম্ফন দেখা গেছে রেমিট্যান্স প্রবাহে। বৈধ পথে আসা প্রবাসী আয়ের ওপর ভিত্তি করে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার ও রিজার্ভ কিছুটা স্থিতিশীলও হয়েছে। তবে অঞ্চলভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ব্যবধান রয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, দেশে বৈধ পথে আসা প্রবাসী আয়ের মাত্র ১ শতাংশ যায় রংপুর বিভাগে। জেলাভিত্তিক হিসাবেও সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স প্রবাহ হয় এ বিভাগেরই জেলা পঞ্চগড়ে। বিপরীতে প্রবাসী আয়ের অর্ধেকই প্রবাহিত হয় ঢাকা বিভাগে। বাকি অর্ধেকের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ যায় চট্টগ্রাম বিভাগে।প্রবাসী আয়ের মাসভিত্তিক বিস্তারিত পরিস্থিতি নিয়ে সবশেষ ডিসেম্বরের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে দেখা গেছে, দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল বিদায়ী বছরের শেষ মাস তথা ডিসেম্বরে। তখন প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে রেকর্ড ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার পাঠিয়েছিলেন। বাংলাদেশী মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৯ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা (ডলারপ্রতি ১২২ টাকা হিসাবে)। এত বিপুল পরিমাণে প্রবাসী আয়ের ৪৯ দশমিক ৯৩ শতাংশই প্রবাহিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। ডিসেম্বরে আসা মোট রেমিট্যান্সের মধ্যে প্রায় ১৬১ কোটি ডলার এসেছে ঢাকা বিভাগে।
প্রবাসী আয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাহ দেখা গেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। মোট রেমিট্যান্সের ২৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ বা প্রায় ৯৬ কোটি ডলার প্রবাহিত হয়েছে এ বিভাগে। প্রবাসী আয়ের অর্জনের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সিলেট বিভাগ। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এ বিভাগে এসেছে প্রায় ২৭ কোটি ডলার; যা মোট প্রবাসী আয়ের ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। এছাড়া খুলনা বিভাগে ৪ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে ৩ শতাংশ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে ২ শতাংশ এবং রংপুর বিভাগে ১ শতাংশ প্রবাসী আয় প্রবাহিত হয়েছে। ডলারের হিসাবে রংপুর বিভাগে প্রবাহিত রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৪১ লাখ ডলার মাত্র।
জেলাভিত্তিক হিসাবেও সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছে ঢাকা জেলায়। মোট রেমিট্যান্সের ১১৫ কোটি ডলারই এসেছে এ জেলায়। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা, ডিসেম্বরে এখানে প্রবাসী আয় এসেছে ৩৬ কোটি ডলার। জেলাভিত্তিক রেমিট্যান্সে তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রবাহ দেখা গেছে কুমিল্লা জেলায়। এখানে ডিসেম্বরে প্রবাসী আয় এসেছে ১৮ কোটি ডলার। আর চতুর্থ সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহিত হয়েছে সিলেট জেলায়, যা প্রায় ১৫ কোটি ডলার।
বিপরীতে জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে কম প্রবাসী আয় এসেছে রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়ে। গত ডিসেম্বরে এখানে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল মাত্র সাড়ে ১৭ লাখ ডলার। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন আয়ও দেখেছে এ বিভাগেরই আরেক জেলা লালমনিরহাট। এখানে আসা প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ৪০ হাজার ডলার মাত্র।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবাসী আয়ের এ ব্যবধান কেবল আয় বৈষম্যের নয়; এটি শ্রমবাজারে প্রবেশের বৈষম্যও। ঐতিহাসিকভাবে দরিদ্রতম অঞ্চল রংপুরে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি, সীমিত শিল্পায়ন এবং তুলনামূলক কম শিক্ষা ও দক্ষতার কারণে এ অঞ্চল অর্থনীতির সবক’টি সূচকেই পিছিয়ে রয়েছে। বিদেশে কাজ করতে যেতে অনেক টাকা ব্যয় হয়। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এটা বহন করা কঠিন। ফলে রংপুরের সম্ভাব্য শ্রমশক্তির বড় অংশই অভিবাসনের সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকে। এর প্রভাব পড়েছে প্রবাসী আয়েও।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ২১৩ কোটি ডলার। মাসভিত্তিক হিসাবে যার প্রবৃদ্ধি প্রায় সাড়ে ২৭ শতাংশ। আর চলতি অর্থবছরের সাড়ে সাত মাসে (জুলাই-১৮ ফেব্রুয়ারি) দেশে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার। এ সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ।
Posted ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam