| মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | প্রিন্ট | 93 বার পঠিত
আবাসন বীমায় সংকট উসকে দিচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন
জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাবিত হচ্ছে বীমা কোম্পানিগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ধ্বংসাত্মক দাবানল এর সাম্প্রতিক নজির। এতে বিশেষ করে মার্কিন আবাসন বীমা খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব উন্মোচিত হয়েছে। দ্য ন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুসারে, এমন পরিস্থিতিতে বীমা বাবদ বিপুল খরচ বা সবকিছুই হারানোর ঝুঁকির মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হচ্ছে বাড়ি মালিকদের।
লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানলকে ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল দাবানলের মধ্যে ফেলা যাবে। অ্যাকুওয়েদারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এতে ক্ষতির পরিমাণ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বীমাকৃত ক্ষতির পরিমাণ ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার কোটি ডলারের মধ্যে বলে অনুমান করা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বার্কলে) অধ্যাপক মেরেডিথ ফাউলি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বীমার খরচও বাড়ছে।
চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ যত বেশি ঘন ঘন ঘটছে, বীমা দাবির পরিমাণও হাজার হাজার ডলার বাড়ছে, যা বাড়ির মূল্যবৃদ্ধি, ঋণের উচ্চ সুদহার এবং মূল্যস্ফীতির চাপে ভোগা গ্রাহকদের জন্য আরো সংকট তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার জন্য একজন ক্রেতাকে হোম ইন্স্যুরেন্স পেতে হয়। কিন্তু বীমার মূল্যবৃদ্ধি ও সামর্থ্য কমে যাওয়ায় তা কঠিন হয়ে উঠছে।
মেরেডিথ ফাউলি বলেন, ‘সম্প্রতি বীমার প্রিমিয়াম বৃদ্ধিকে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে, কারণ আগে বীমা খরচ খুব কম ছিল। তবে এখন বাড়ির মালিকদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে—কম বীমা ও কম সুরক্ষা নেবেন নাকি বেশি খরচের বীমা নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়বেন। প্রশ্ন হলো কীভাবে আমরা এর মধ্যে ভারসাম্য আনতে পারি?’
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি রাজ্যে বীমার বাজার আলাদা। তাই রাজ্যভেদে প্রিমিয়াম ও বীমার অংক ভিন্ন হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ায় বার্ষিক গড় বীমা প্রিমিয়াম ১ হাজার ৪২৯ ডলার, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় কম। তবে কিছু উচ্চ আয় ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এটি ১০ হাজার ডলারেরও বেশি।
বাড়তি ঝুঁকির কারণে স্টেট ফার্ম ও অলস্টেট বীমা সংস্থা গত বছর ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রিমিয়াম ৩০-৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির আবেদন করেছিল। শুধু ক্যালিফোর্নিয়াই নয়, হাওয়াইতে ২০২৩ সালের দাবানলের পর কনডো ইন্স্যুরেন্সের হার ১০০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল।
ওকলাহোমায় বর্তমানে বার্ষিক বীমা প্রিমিয়াম ৪ হাজার ৬৪৩ ডলার, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় ২ হাজার ৩৮৬ ডলার বেশি। ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিম রাউচ আশঙ্কা করছেন, এ বছর বীমার খরচ আরো বাড়বে।
কিছু সংস্থা এরই মধ্যে ওকলাহোমার বাজার থেকে সরে যাচ্ছে। ফারমার্স ইন্স্যুরেন্স গত বছর এক হাজারেরও বেশি বীমার নবায়ন বাতিল করেছে। কারণ এ রাজ্যে দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০২৩ সালের দাবানলের আগেই স্টেট ফার্ম নতুন বীমার আবেদন নেয়া বন্ধ করে দেয়। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র জানান, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় বাস্তবায়ন করা নীতিগত পরিবর্তনের কারণ হলো নির্মাণ খরচ, মূল্যস্ফীতি, বড় দুর্যোগের ঝুঁকি ও পুনর্বীমা বাজারের চ্যালেঞ্জ।
ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল গত সপ্তাহে সিনেট ব্যাংকিং কমিটিকে বলেন, ‘১০-১৫ বছর পর এমন কিছু অঞ্চল থাকবে, যেখানে বন্ধকি সুবিধা পাওয়া যাবে না।’
বীমা বাজারে কোম্পানিগুলো মুনাফা ধরে রাখতে প্রিমিয়ামের হার বাড়াচ্ছে, অথচ ভোক্তারা মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছেন। এজন্য কোনো সহজ সমাধান নেই। মেরেডিথ ফাউলি বলেন, ‘আমরা সবাই রাতারাতি সমাধান চাই, কিন্তু আমি তা দেখতে পাচ্ছি না। এর পরিবর্তে আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান খুঁজে বের করতে হবে। আমরা চাই বীমা সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হোক, আবার বীমা সংস্থাগুলোও টিকে থাক।’
Posted ৪:৪৬ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam