| মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫ | প্রিন্ট | 68 বার পঠিত
মার্কিন জাহাজের বিনামূল্যে সুয়েজ ও পানামা খাল পারাপারের দাবি
পানামা ও সুয়েজ খাল দিয়ে মার্কিন জাহাজের বিনামূল্যে চলাচলের দাবি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের দেয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নৌ-পরিবহনে মার্কিন প্রভাব বাড়ানোর প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। খবর নিউজ উইক।
গত জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউজে ফেরার পর থেকেই পানামা খাল থেকে চীনা বন্দর অপারেটরদের অপসারণের চাপ দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। শনিবারের পোস্টে সুয়েজ খালের দিকেও মনোযোগ আকর্ষণ করেন তিনি।
ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরকে সংযুক্তকারী সুয়েজ খাল বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। ট্রাম্প লেখেন, ‘সামরিক ও ব্যবসায়িক দুই ক্ষেত্রেই মার্কিন জাহাজকে বিনামূল্যে পানামা ও সুয়েজ খালের মধ্য দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেয়া দরকার।’
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ওই খালগুলোর অস্তিত্ব নেই দাবি করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছেন ট্রাম্প।
বিশ্লেষকরা বলছে, এসব মন্তব্যের মূল লক্ষ্য চীনের বাণিজ্যিক জাহাজ পরিবহন ও নির্মাণ শিল্পকে চাপে রাখা এবং মার্কিন শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা। ট্রাম্পের দাবি অনুসারে, এখন পানামা খাল ‘পরিচালনা’ করছে চীন। বাস্তবে এ খালের অন্যতম ব্যবহারকারী হলেও খাল পরিচালনার দায়িত্ব চীনের হাতে নেই।
ট্রাম্পকে সরাসরি উল্লেখ না করলেও তার মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন পানামার প্রেসিডেন্ট জোসে রাউল মুলিনো। এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে তিনি জানিয়েছে, পানামা খালের টোল ফি নির্ধারণ এবং পরিচালনার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে পানামা খাল কর্তৃপক্ষের (এসিপির) হাতে, যা একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। এর বিপরীতে কোনো চুক্তি নেই বলেও জানিয়েছেন পানামার প্রেসিডেন্ট।
এদিকে চলতি মাসে পানামা সফর করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সেই সময় তিনি প্রস্তাব করেন মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো যেন ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ও বিনামূল্যে’ খাল অতিক্রম করতে পারে। খাল রক্ষার জন্য মার্কিন সেনাদের পানামায় মোতায়েনের প্রস্তাবও দেন তিনি, যা দেশটির সরকার তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
বিশ্ব বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌপথ পানামা খাল ও সুয়েজ খাল বর্তমানে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি সুয়েজ খালকেও প্রভাবিত করেছে। গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ২০২৩ সালের শেষ দিকে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সুয়েজ খালের দিকে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। এর ফলে অনেক জাহাজই বাধ্য হয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে যাত্রা করছে, যা সময় ও খরচ উভয়ই বাড়িয়ে দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মিসর জানিয়েছে, ২০২৪ সালে সুয়েজ খালের রাজস্ব ৬০ শতাংশ কমে গেছে, এতে ৭০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।
Posted ৪:৩৪ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam