শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

ঘূর্ণিঝড় প্রতিরোধী শহর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   84 বার পঠিত

ঘূর্ণিঝড় প্রতিরোধী শহর

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ২০২২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আঘাত হানে শক্তিশালী হারিকেন ইয়ান। চতুর্থ ক্যাটেগরির এ ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে সেদিন রাজ্যটির অনেক এলাকা তছনছ হয়ে যায়। ২৪১ কিলোমিটারের বেশি বেগে আঘাত হানা ঝড়ের সঙ্গে ছিল ভারী বৃষ্টি। সাগর ফুলে উঠেছিল ১৮ ফুট। এতে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ উপকূল। ফ্লোরিডার ইতিহাসে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ওই ঘূর্ণিঝড় প্রাণ কেড়ে নেয় কমপক্ষে দেড়শ মানুষের। ঝড় চলে যাওয়ার পর ৪০ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। কিন্তু এ দুর্যোগের মধ্যেও বিস্ময়করভাবে রক্ষা পায় বেবকক রেঞ্চ নামের একটি শহর। কী এমন ছিল সেখানে, যা এমন দুর্যোগেও অক্ষত রেখেছিল শহরটিকে?

ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সের কাছাকাছি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ছোট্ট শহর রেঞ্চের আয়তন ৭৩ বর্গকিলোমিটার। হারিকেন ইয়ান আঘাত হানার সময় এটি ছিল ঝড়ের কেন্দ্রে। কিন্তু তাতেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। শহরটি বিশেষভাবে ঘূর্ণিঝড় প্রতিরোধী করে গড়ে তোলা হয়েছে। এর নকশা করেছিলেন পরিকল্পনাবিদ সিড কিটসন। মূলত তাঁর নেতৃত্বে এক দল প্রকৌশলীর চেষ্টায় গড়ে ওঠে পরিকল্পিত শহরটি।

হারিকেন ইয়ান আঘাত হানার পাঁচ দিন আগে সিড কিটসন প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে এক বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানে তিনি বেবকক রেঞ্চ নিয়ে তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাদের কাছে জানতে চান, ‘আমরা কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানুষ হিসেবে যতটা সম্ভব করতে পেরেছি?’

কিটসন বিল্ডিং কোডের প্রয়োজনীয়তার চেয়েও বেশি খরচ ও চেষ্টা যোগ করেছেন শহর নির্মাণে, যাতে এটি ঝড় মোকাবিলায় সক্ষম হয়। তিনি বলেন, তারা নিরাপত্তার জন্য এবং অন্য শহরগুলো থেকে আলাদা করতে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করেছেন। পুরো পরিকল্পনার কেন্দ্রে ছিল পরিবেশ ও প্রতিরোধ। এ দুই বিষয় মাথায় রেখে তারা কাজ করেছেন।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটান আইল্যান্ডের চেয়ে পাঁচ গুণ রেঞ্চ ২০১৮ সালে বসবাসের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। সুদৃশ্য শহরটির রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন, গলফের মাঠগুলো সবুজ, সুন্দর ফুটপাত ও সাইকেল লেন। সেখানে লেক ও পুকুরের সংখ্যা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে, যাতে এগুলো বন্যার পানি ধারণ করতে পারে। সড়কের পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেন প্রবল বর্ষণেও জলাবদ্ধতা না হয়। এত কিছুর পরও রাখা হয়েছে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্র।

বেবকক রেঞ্চ যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সৌরশক্তি পরিচালিত শহর। ৮৭০ একর জায়গাজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে সুবিশাল সৌর প্যানেল, যা আলোকিত করছে পুরো শহরকে। সে হিসেবে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক শহরও এটি।

হারিকেন ইয়ান ছিল শহরটির জন্য প্রথম পরীক্ষা। রেঞ্চেই থাকেন সিড কিটসন। ঝড়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ঝড় যখন শুরু হলো মনে হচ্ছিল, একটি পণ্যবাহী ট্রেন আমার ছাদের ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। ভাবছিলাম, যদি টিকে যাই, তাহলে এটা হবে বড় প্রমাণ।’ ঝড় শেষে দেখা যায়, কোনো বাড়িতেই বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট বা বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়নি।

সর্বশেষ গত আগস্টে হারিকেন ইদালিয়া যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানে। অবশ্য ওই ঝড় রেঞ্চে সরাসরি আঘাত হানেনি। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগর ও আবহাওয়াবিষয়ক প্রশাসন এনওএএর পূর্বাভাস, গত বছরের তুলনায় এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে আরও শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানতে পারে। তারা বলছে, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত পাঁচটি হারিকেন আঘাত হানবে, যেগুলোর গতি দেড়শ থেকে ২০০ কিলোমিটার হতে পারে।

সমতল ভূমি হওয়ায় ফ্লোরিডায় বন্যার ঝুঁকি বেশি। রাজ্যটিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও অপেক্ষাকৃত দ্রুত। আগামী ৫০ বছরে সেখানে জনসংখ্যা আরও ১ কোটি ২০ লাখ বাড়তে পারে। এ অবস্থায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ফ্লোরিডায় আরও বেশি ঘূর্ণিঝড় প্রতিরোধী শহর গড়ে তোলা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে উদাহরণ হতে পারে বেবকক রেঞ্চ। তবে সামনে যে পরীক্ষাগুলো আছে, সেগুলোতেও পাস করতে হবে এটিকে। তথ্যসূত্র: বিবিসি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:০৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com