| শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 74 বার পঠিত
সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বাজার উত্তপ্ত থাকলেও গতকাল জ্বালানি পণ্যটির দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে সাপ্তাহিক হিসাবে গত সপ্তাহে বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম।অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলে ১৯ সেন্ট বা দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৭১ ডলার ৪৭ সেন্টে নেমে এসেছে। অন্যদিকে এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলে ১৩ সেন্ট বা দশমিক ২ শতাংশ কমে ৬৬ ডলার ৩০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। গত সপ্তাহজুড়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এ সময়ে ব্রেন্টের দাম ৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছতে হবে। অন্যথায় দেশটির ওপর ভয়াবহ পরিণাম নেমে আসবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ট্রাম্পের এ আলটিমেটাম বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্যাক্সো ব্যাংকের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, ‘বাজার বর্তমানে অত্যন্ত অস্থির। বিনিয়োগকারীরা এখন ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।’
এদিকে ইরানের স্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, দেশটি রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌ-মহড়ার পরিকল্পনা করছে। এর ঠিক কয়েক দিন আগেই তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধ করে সামরিক মহড়া চালিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল এ প্রণালি দিয়ে রফতানি হয়।
ফিলিপ নোভার জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেবা বলেন, ‘মার্কিন-ইরান পরমাণু আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ এখন মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাব্য সংঘাতের দিকে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের বাজারে এ ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে।’
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ মজুদ হ্রাস। এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ ৯০ লাখ ব্যারেল কমেছে। মূলত শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রফতানি বেড়ে যাওয়ায় এ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষণ বলছে, জ্বালানি তেলের দাম আরো বাড়তে পারে এমন ধারণা থেকে অনেক বিনিয়োগকারী আগাম বেচাকেনা বাড়িয়ে দিয়েছেন।
তবে চড়া সুদহার ও সরবরাহের আধিক্য জ্বালানি তেলের দামের বড় উত্থানকে কিছুটা আটকে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) কার্যবিবরণী অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার আরো কিছুদিন বর্তমান পর্যায়ে থাকতে পারে। সাধারণত সুদহার বাড়লে তেলের চাহিদা কমে যায়। এছাড়া জেপি মরগানের বিশ্লেষক নাতাশা কানেভা ও লিউবা সাভিনোভা মনে করছেন, চলতি বছরে বাজারে জ্বালানি তেলের উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ওপেক প্লাস এপ্রিল থেকে জ্বালানি তেলের উত্তোলন বাড়ানোর ঘোষণা দিলে দীর্ঘমেয়াদে দাম কিছুটা কমতে পারে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চাহিদা ও সরবরাহের চেয়েও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এখন জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা রাখছে। ট্রাম্পের বেঁধে দেয়া ১৫ দিনের সময়সীমার মধ্যে কোনো সমাধান না এলে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
Posted ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam