শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

দেশীয় কোম্পানির ট্যাংকারে উপচে পড়ছে পেট্রোল-অকটেন, নিচ্ছে না সরকার

  |   রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   36 বার পঠিত

দেশীয় কোম্পানির ট্যাংকারে উপচে পড়ছে পেট্রোল-অকটেন, নিচ্ছে না সরকার

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় নতুন করে জটিলতা দেখা দিয়েছে। একদিকে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন, অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ট্যাংকারে তেল জমে থাকার অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তা গ্রহণ করছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের মোট পেট্রোল ও অকটেন চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশ পূরণ করে স্থানীয় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান—যার মধ্যে চারটি বেসরকারি এবং একটি সরকারি। প্রতি মাসে প্রায় ৭৫ হাজার টন পেট্রোল ও অকটেন প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি, যা একাই প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ জোগান দেয়।

তবে জানা গেছে, গত ৮ এপ্রিল বিপিসি এক চিঠিতে এই প্রতিষ্ঠান থেকে তেল গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে। ফলে তাদের ট্যাংকারগুলোতে তেল উপচে পড়ছে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাম্পে ১ থেকে ২ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন তৈরি হওয়ায় জনভোগান্তি বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে সরকার উচ্চপর্যায়ে বৈঠক করেছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো অসংগতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে দেশে অকটেন সংরক্ষণের সক্ষমতা ৫৩ হাজার টন হলেও মজুত রয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার টন। এর মধ্যেই ১০ এপ্রিল ৩৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ আসায় চাপ আরও বেড়েছে।

সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্রধান নির্বাহী প্রণব কুমার সাহা জানিয়েছেন, ৫ এপ্রিলের বৈঠকে এপ্রিলে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে ৮ এপ্রিল থেকে বিতরণকারী কোম্পানিগুলো তেল নেওয়া বন্ধ করে দেয়, যা তাদের জন্য বড় ধাক্কা।

তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারিতেও একই ধরনের পরিস্থিতির কারণে মার্চে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। সামনে আবার কাঁচামালবাহী জাহাজ আসছে, কিন্তু ট্যাংক খালি না হলে উৎপাদন চালানো কঠিন হবে।

অন্যদিকে, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। তাই তারা সীমিত পরিমাণে তেল গ্রহণ করছে।

বর্তমানে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা—এই তিনটি বিতরণ কোম্পানি দৈনিক গড়ে প্রায় ১২ হাজার ৭৭৭ টন ডিজেল, ১ হাজার ৪৯৬ টন পেট্রোল এবং ১ হাজার ১৯৩ টন অকটেন সরবরাহ করছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর মার্চে চালু হওয়া রেশনিং নীতির প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, সীমিত সরবরাহের কারণে বাজারে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে মজুতদারির প্রবণতাও বেড়েছে। তবে দেশীয় উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও তা পুরোপুরি ব্যবহার না করার বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com