| শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 52 বার পঠিত
জ্বালানি ও কাঁচামালের সরবরাহ সংকটে পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারকরা চাপে পড়েছেন। এর ফলে তারা প্রস্তুতকৃত পণ্যের দাম বাড়ানোর কথা ভাবছেন। এরই মধ্যে অনেক ক্রেতাকে সেই প্রস্তাবও দিয়েছেন কেউ কেউ। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানিনির্ভর কাঁচামালের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় তৈরি পোশাকের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো রফতানি আদেশ সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশে পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত অধিকাংশ সুতা, কাপড়, রাসায়নিক ও অ্যাকসেসরিজ আমদানি করতে হয়। আমদানীকৃত এসব কাঁচামালের অধিকাংশ আসে চীন ও ভারত থেকে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে শিপমেন্টে দেরি, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া কারখানাগুলো ঠিকমতো জ্বালানি না পাওয়ায় তাদের কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদন খরচে। ফলে অনেক উৎপাদক কম দামে ক্রয়াদেশ নিলেও এখন ঝুঁকিতে পড়েছেন। কেউ কেউ ক্রেতাদের দাম বাড়িয়ে দেয়ার প্রস্তাবও দিচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদনের ওপর। জ্বালানি সংকটের কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে কার্যক্রম। এতে আমাদের পণ্য উৎপাদনে সময় ও ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ। একই সঙ্গে পরিবহন খরচও বেড়েছে। এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে পোশাক শিল্পের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।’ তৈরি পোশাক উৎপাদনের বাড়তি খরচ মেটাতে এরই মধ্যে ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জানা যায়, যুক্তরাজ্যভিত্তিক সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোটস বাংলাদেশের এ কে খান অ্যান্ড কোম্পানির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে কোটস বাংলাদেশ নামে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছে। দেশের সুতার চাহিদার ৩০ শতাংশেরও বেশি জোগান দেয় কোম্পানিটি। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোটস বাংলাদেশ ১৫ এপ্রিল সুতার দাম ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় ক্রেতা সুইডেনভিত্তিক বহুজাতিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এইচঅ্যান্ডএম। এ তালিকায় আরো রয়েছে স্পেনের ইন্ডিটেক্স ও আয়ারল্যান্ডের প্রাইমার্কের মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো। রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারত ও বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারকরা চাপে পড়েছেন। এর ফলে জারা ও এইচঅ্যান্ডএমের মতো ফাস্ট-ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর খরচ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশী সরবরাহকারীদের কাছ থেকে শিগগিরই দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পেতে পারে এইচঅ্যান্ডএম। যদিও কোম্পানিটি আপাতত নিজেই সেই খরচ বহনের পরিকল্পনা করছে।
এদিকে চলমান পরিস্থিতিতে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও বিভিন্ন স্পিনিং মিলকে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট সুবিধা দিচ্ছে না বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর দেয়া এক চিঠিতে সংগঠনটি জানায়, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক নানা প্রক্রিয়াগত ও প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে স্পিনিং মিলগুলোকে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট সুবিধা প্রদান করছে না। ফলে সংশ্লিষ্ট মিলগুলোর কার্যকরী মূলধন ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন পরিকল্পনা, কাঁচামাল সংগ্রহ এবং রফতানিমুখী সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাস্তবে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক রফতানি প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয় চিঠিতে।
Posted ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam