শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

মাত্র তিন মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি

  |   বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   29 বার পঠিত

মাত্র তিন মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি

দেশের ব্যাংকিং খাতে অনাদায়ী বা খেলাপি ঋণের পরিমাণ আবারও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। ফলে মাত্র এক প্রান্তিকের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।

গত বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণে সামান্য নিম্নগতি দেখা গেলেও, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে তা আবার ঊর্ধ্বমুখী ধারা ধারণ করেছে। পূর্বের বকেয়া ঋণের সঙ্গে নতুন করে সুদ সংযুক্ত হওয়া এবং ঋণ পুনরুদ্ধারে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না থাকায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও হার—উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চ শেষে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকের মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এটি ডিসেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।

বর্তমানে ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশই খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির ব্যাংকের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা, যা তাদের মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৪৬ শতাংশের সমান। তবে ইতিবাচক দিক হলো, আগের প্রান্তিকের তুলনায় জানুয়ারি-মার্চ সময়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এ খাতে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটে। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুনে সরকার পরিবর্তনের আগে তা বেড়ে ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকায় পৌঁছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণ করলে ব্যাংক খাতের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসতে শুরু করে। একই সময়ে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী অনেক বড় ঋণগ্রহীতা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় এবং নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পরে বিশেষ সুবিধার আওতায় ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ চালু করা হলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় এবং খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির গতি আংশিকভাবে কমে আসে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com