শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

অভিযানে কিছুটা স্বস্তি, মুড়িকাটা পেঁয়াজে আশা

অর্থনীতি ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   83 বার পঠিত

অভিযানে কিছুটা স্বস্তি, মুড়িকাটা পেঁয়াজে আশা

সংগৃহীত ছবি

রাতারাতি দাম দ্বিগুণ হওয়ায় রাজধানীসহ সারাদেশে মাঠে নেমেছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা। প্রতিদিন চলছে পেঁয়াজ বাজারে অভিযান। আমদানির বিকল্প উৎস নিয়েও ভাবছে সরকার। পাশাপাশি নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে বাজারে। সরকারের এসব পদক্ষেপ ও মুড়িকাটা পেঁয়াজ সরবরাহের কারণে বাজারে মিলছে ইতিবাচক সাড়া। গত দু’দিনে কেজিতে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা কমেছে পেঁয়াজের দাম।

গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুর, কারওয়ান বাজার, মহাখালীসহ কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশি পেঁয়াজের কেজি নেমেছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায়। দেশের অন্য জেলাগুলোতে দাম কমছে উল্লেখযোগ্য হারে। তবে এখনও কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে মসলাজাতীয় পণ্যটি।

এ ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, এই অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় আড়াই লাখ টন পেঁয়াজ বেশি আমদানি হয়েছে। তাই ভারত রপ্তানি বন্ধ করলেও বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহে ঘাটতি নেই। এ ছাড়া দেশি পেঁয়াজও উঠতে শুরু করেছে। তার পরও প্রয়োজনে ভারত থেকে সরকার টু সরকার পদ্ধতিতে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতে বাংলাদেশ দূতাবাসে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারিভাবে চীন, পাকিস্তান ও তুরস্ক থেকেও আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করা যায়, কয়েক দিনের মধ্যে দাম কমে আসবে।
এদিকে ভারত রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর বিকল্প উৎস থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। চীন ও পাকিস্তান থেকে গত দুই দিনে এসেছে ২২৬ টন পেঁয়াজ। এর মধ্যে সোমবার পাকিস্তান থেকে ৫৮ টন এবং রোববার চীন থেকে এসেছে ১৬৮ টন।

হঠাৎ লাফিয়ে পেঁয়াজের দাম বাড়াকে অস্বাভাবিক বলছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি ভবনে ভোক্তা-অধিকার সচেতনতাবিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সফিকুজ্জামান বলেন, ভারতের রপ্তানি বন্ধের খবরে রাতারাতি পেঁয়াজের দাম ডাবল সেঞ্চুরি করল। এটা স্বাভাবিক আচরণ নয়। পেঁয়াজের মূল মোকাম ঢাকার শ্যামবাজার ও চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ। অভিযানের আগে দুটি মোকামে থরে থরে সাজানো পেঁয়াজ ছিল। তবে অভিযান চালানোর পর মোকাম দুটি পেঁয়াজশূন্য হয়ে গেছে। যারা পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি করছে, তারা গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশি পেঁয়াজের কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ যদি ২৮ টাকা হয়, এর সঙ্গে অন্য খরচ যোগ করে হয়তো ৫০ টাকা দর নির্ধারণ করা হবে। যখনই এ দর অতিক্রম করবে, তখনই আমদানির অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তবে বছরজুড়ে আমদানি উন্মুক্ত থাকবে না। কারণ কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন না বাড়ানো পর্যন্ত এ ধরনের নীতি থাকবে। তিনি আরও বলেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজ চলে আসছে। তাই দাম আর বাড়ার সম্ভাবনা নেই।

ভোক্তা অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল সারাদেশে ১২২ প্রতিষ্ঠানকে ৮ লাখ ২১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অধিদপ্তর ছাড়াও জেলা প্রশাসক ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরও মাঠে রয়েছে।

হবিগঞ্জে এক কেজির বেশি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা
পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে খুচরা পর্যায়ে এক কেজির বেশি পেঁয়াজ বিক্রি নিষেধ করেছে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন। গতকাল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেন জেলা প্রশাসক দেবী চন্দ। এ ছাড়া প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১২৫ টাকায় বিক্রি করতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেন তিনি।

চট্টগ্রামে তালিকা ছাড়া গোডাউনে পণ্য পেলেই জব্দ
ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১২৫ টাকার বেশি দামে বিক্রি না করতে ব্যবসায়ী, আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান। গতকাল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। ফখরুজ্জামান বলেন, চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলীর গোডাউনগুলোতে কী পরিমাণ মালপত্র রয়েছে, সেই তথ্য নেওয়া হবে। এজন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। তালিকা ছাড়া কোনো গোডাউনে মালপত্র পেলে তা জব্দ করা হবে। শুধু পেঁয়াজ নয়, চিনিসহ অন্য যে কোনো পণ্য মজুতের পরিমাণ কাগজে-কলমে স্পষ্ট উল্লেখ রাখতে হবে। এ ছাড়া সীমান্তে যারা এসব ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে। রসিদ ছাড়া কোনো মালপত্র পাওয়া গেলে নিলামে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ইন্দুরকানীতে এখনও পেঁয়াজ ‘সংকট’
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীর হাটবাজারে দু’দিন ধরে পেঁয়াজের সংকট চলছে। খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে পেঁয়াজের সরবরাহ খুবই কম। ফলে ক্রেতারা পেঁয়াজ কিনতে না পেরে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। দাম বাড়ার কারণে জেলার পাড়েরহাট ও ইন্দুরকানী বাজারের ব্যবসায়ীর যাঁর কাছে যা ছিল পেঁয়াজ, তা তারা লুকিয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ম্যাজিস্ট্রেট আসায় জয়পুরহাটে কেজিতে কমলো ৮০ টাকা
জয়পুরহাটের ব্যবসায়ীরা যে যাঁর মতো করে দাম নিচ্ছেন। দাম বেশি দিলে লুকানো জায়গা থেকে বের করে বিক্রি করা হচ্ছে পেঁয়াজ। কয়েক দিন এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে জয়পুরহাটের হাটবাজারে। দাম বেশি নেওয়ায় অনেকে অভিযোগ দিয়েছেন নিজ নিজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে। এসব অভিযোগ পেয়ে অভিযানে নামে প্রশাসন। গতকাল জয়পুরহাট শহরের নতুনহাট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখেই খুচরা ব্যবসায়ীরা ১২০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেন। এ সুযোগে ক্রেতারাও দোকানগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এ সময় অনেক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যান।

নেত্রকোনায় বাজার থেকে পেঁয়াজ ‘উধাও’
নেত্রকোনা শহরের পাইকারি বাজারে রোববার রাত থেকে পেঁয়াজ ‘উধাও’ হয়ে গেছে। ওই দিন সকালে ১১০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হলেও বিকেলে দর ওঠে ২০০ টাকায়। তবে সন্ধ্যায় মেছুয়া বাজার পাইকারি আড়ত সুপারমার্কেটে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ অভিযানে যাওয়ায় পেঁয়াজ উধাও হয়ে যায়।

ফরিদপুরে স্বস্তির আশা
ফরিদপুরের বাজারগুলোতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় গত দু’দিনের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা কমেছে। তাতে স্বস্তির আশা করছেন ক্রেতারা। গতকাল জেলা শহর ও আশপাশের বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজ খুচরায় কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ এবং দেশি পুরোনো পেঁয়াজ ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। দু-তিন দিন আগেও এসব বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজ ১৪৫ থেকে ১৫০ এবং দেশি পুরোনো পেঁয়াজ ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৩:২৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৩

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com