শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

ঢাকার আকাশে আতশবাজি ফুটিয়ে নতুন বছরকে বরণ

  |   বুধবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   83 বার পঠিত

ঢাকার আকাশে আতশবাজি ফুটিয়ে নতুন বছরকে বরণ

ঢাকার আকাশে আতশবাজি ফুটিয়ে নতুন বছরকে বরণ

পুলিশের নিষেধাজ্ঞাকে থোরাই কেয়ার নগরবাসীর।

ঢাকা মহানগর পুলিশের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ‘থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন উপলক্ষে ঢাকার আকাশে ফুটেছে আতশবাজি এবং উড়েছে ফানুস। ইংরেজী নববর্ষ ২০২৫ সালকে গ্রহণ করার জন্যই এতো আয়োজন ছিল নগরবাসীর। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২ টার কয়েক মিনিট আগ থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাড়ির ছাদে আতশবাজির ঝলকানী দেখা গেছে। রাত ঠিক ১২টায় ঢাকার আকাশ যেনো উজ্জ্বল সব তারায় পরিণত হয়। আতশবাজি-ফানুস উড়ানোর মধ্যদিয়ে নতুন বছরকে এভাবেই বরণ করে নিল ঢাকাবাসী। এর সঙ্গে ছিল পটকার শব্দ, তবে এবার সংখ্যায় ফানুস কম দেখা গেছে বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর বনশ্রী, রামপুরা, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, যাত্রাবাড়ি, বাড্ডা, মুগদা-মান্ডা, উত্তরা, মিরপুরসহ বেশিরভাগ এলাকাতেই রাত ১২ টায় আতশবাজি আর ফটকার শব্দে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।

অথচ নিষেধাজ্ঞা ছিল এসব আয়োজনে। কিন্তু সব নিষেধাজ্ঞা ভেঙে বরাবরের মতো এবারও ইংরেজী নতুন বছরকে উদযাপনে ছিল সবকিছুই।

যদিও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী থার্টি ফার্স্ট নাইট উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বেশকিছু নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ইংরেজি নববর্ষ ২০২৫ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর এলাকায় যে কোনো ধরনের আতশবাজি, পটকা ফোটানো ও ফানুস উড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়।

ঢাকায় থার্টি ফার্স্ট নাইটে উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের আয়োজন করার সুযোগ ছিল না। কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। আতশবাজি আর পটকায় ভরপুর ঢাকার আকাশ। রাজধানীর পুরান ঢাকাসহ প্রায় সব এলাকায় অনেক ভবনের ছাদেই রয়েছে আতশবাজি আর ফানুস ওড়ানোর আয়োজন। অনেকে আবার ছাদে বারবিকিউ পার্টিসহ পারিবারিক নানা আয়োজন করেছেন।

থার্টি ফার্স্টে যেসব নির্দেশনা দেয় ডিএমপি

থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ইংরেজি নববর্ষ ২০২৫ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে ১১ দফা নির্দেশনা সম্বলিত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

গতকাল মঙ্গলবার ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং-III/৭৬) এ ধারা-২৮ ও ২৯ এর অর্পিত ক্ষমতাবলে ডিএমপির পক্ষে এই ১১ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, উন্মুক্ত স্থানে গণজমায়েত, সভা-সমাবেশ, নাচ, গান করা যাবে না। তবে আবাসিক হোটেলগুলো সীমিত আকারে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠান করতে পারবে, নিষিদ্ধ থাকবে আতশবাজি।

এছাড়া ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর এলাকায় সব বার বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

যে ১১ নির্দেশনা

১. থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ইংরেজি নববর্ষ ২০২৫ উপলক্ষে অনুমতি ব্যতীত উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান, সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত, নাচ, গান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‍্যালি ও শোভাযাত্রা করা যাবে না।

২. থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর এলাকায় যে কোনো ধরনের আতশবাজি, পটকা ফোটানো ও ফানুস উড়ানো নিষিদ্ধ করা হলো।

৩. ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা হতে ১ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর এলাকায় সব বার বন্ধ থাকবে।

৪. আবাসিক হোটেলগুলো সীমিত আকারে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠান করতে পারবে।

৫. ইংরেজি নববর্ষের প্রাক্কালে ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১ জানুয়ারি ভোর ৫টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, জনসমাবেশ ও উৎসবস্থলে সব প্রকার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বহন করা যাবে না।

৬. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বসবাসরত শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ৩১ ডিসেম্বর রাত ৮টা মধ্যে স্ব-স্ব এলাকায় প্রত্যাবর্তন করবেন এবং রাত ৮টার পরে প্রবেশের ক্ষেত্রে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের কাছে পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে।

৭. গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় বসবাসরত নাগরিকদের ৩১ ডিসেম্বর রাত ৮টার মধ্যে স্ব-স্ব এলাকায় ফেরার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

৮. গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় রাত ৮টার পর বহিরাগতরা প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে এ এলাকায় বসবাসরত নাগরিকরা নির্ধারিত সময়ের পর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ (কাকলী ক্রসিং) এবং মহাখালী আমতলী ক্রসিং দিয়ে পরিচয় প্রদান সাপেক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন।

৯. হাতিরঝিল এলাকায় সন্ধ্যা ৬টা পর থেকে কোনো সমাবেশ বা অনুষ্ঠান করা যাবে না এবং কোনো যানবাহন থামিয়ে অথবা পার্কিং করে কেউ অবস্থান করতে পারবেন না।

১০. একইভাবে উপর্যুক্ত সময়ে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় যেসব নাগরিক বসবাস করেন না তাদেরকে এসব এলাকায় গমনের ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা হলো।

১১. উচ্চ শব্দে গাড়ির হর্ন বাজানো বা গণ-উপদ্রব সৃষ্টি করে এমন কোনো গান বাজনা চালানো যাবে না।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে ডিএমপি কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, এবার ঢাকায় থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত ৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। তারা যে কোনো জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত চালাবে।

তিনি বলেন, আমরা মনে করছি এটা যথেষ্ট। আমরা কিছু পয়েন্টকে টার্গেট করেছি। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গুলশান, ৩০০ ফিট, উত্তরা দিয়াবাড়ী এলাকায় বেশি পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

আমাদের পুলিশ ফোর্সের পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেটরা থাকবেন। তারা যে কোনো জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত চালালে আমাদের ফোর্স তাদের সহযোগিতা করবে, যোগ করেন তিনি।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আতশবাজি ফুটিয়ে খ্রিষ্টীয় নববর্ষ বরণ করা হয়, বাংলাদেশে পরিবেশের এত সমস্যা কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রথমত, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে থার্টি ফার্স্ট উদযাপিত হয়। বেশিরভাগ দেশে এটি নববর্ষ, আমাদের দেশে নয়। দ্বিতীয়ত, অন্যান্য দেশে একটি নির্দিষ্ট স্থানে খ্রিষ্টীয় নববর্ষ উদযাপনের আয়োজন করা হয়, পুরো শহরজুড়ে আতশবাজি করা হয় না।

তিনি আরও বলেন, আমরাও এ বছর ঢাকা মহানগরীর একটি নির্দিষ্ট স্থানে থার্টি ফার্স্ট ও খ্রিষ্টীয় নববর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠান আয়োজন করার চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু এই বছর আমরা সেটি পারিনি। আশা করি আগামী বছর আমরা সেটি আয়োজন করবো।

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৫

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com