সারাদেশ ডেস্ক | সোমবার, ১০ জুলাই ২০২৩ | প্রিন্ট | 103 বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪২ জন সহকারী শিক্ষকের বকেয়া বেতন নিয়ে কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যেক শিক্ষকের ৫ বছর ৪ মাসের বকেয়া বেতন ১৪ লাখ টাকা। সেই টাকা
ছাড় করাতে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩ লাখ করে মোট ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
আর এই অভিযোগ সরাসরি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মো. কালাম হোসেনের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা পরিষদের নির্বাহী আবদুল্লাহ আল মামুন, জেলা পরিষদ সদস্য ক্য সা প্রু, লক্ষ্মীপদ দাশ, জেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এডিপিও) আবদুল্লাহ আল মামুন, রোয়াংছড়ি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) মো. জাকারিয়া হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
এর আগের দিন বুধবার বিকেলে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যন ক্য শৈ হ্লার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। চেয়ারম্যানের নির্দেশে গণশুনানি হয়। সেখানে উপজেলার ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৫ জন সহকারী শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সবাই সম্প্রতি চাকরি জাতীয়করণ হওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
এই শিক্ষকদের প্রতি সংহতি জানাতে গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও পাগলাছড়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আপ্রুসে মার্মা, বিশ্বজিৎ তঞ্চঙ্গ্যাসহ সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি অংসাখি মারমা আতুই, সাধারণ সম্পাদক রোয়াল সাং লিয়ান বম প্রমুখ।
ভুক্তভোগীসহ প্রধান ও সহকারী শিক্ষক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, রোয়াংছড়িতে ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয়করণ হয়। স্কুলগুলোর আওতাভুক্ত ৫৫ জন শিক্ষকের বেতন নিয়মিতকরণ হয় ২০২২ সালের জুলাইয়ে। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত কোনো ধরনের বেতন ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যান শিক্ষকরা। দীর্ঘ ৫ বছর ৪ মাসের বকেয়া বেতনের টাকা তাদের প্রত্যেকের নিজ নামের হিসাবে ১৪ লাখ টাকা সোনালী ব্যাংকে জমা হয়। সেই বকেয়ার টাকা তুলতে গিয়ে ঘুষ দিতে হয়েছে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ কামাল হোসেন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. ফারুক ও উচ্চমান সহকারী উখিংনু মারমাকে। তাঁরা ৪২ জন সহকারী শিক্ষকের কাছ থেকে জনপ্রতি নেন ৩ লাখ টাকা। এই টাকা চেকের মাধ্যমে ও নগদে গ্রহণ করেন তারা।
জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত জেলা পরিষদের নির্বাহী আবদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
এডিপিও আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শুনানির সময় ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ দেখাতে পারেননি। প্রমাণ সংগ্রহের জন্য শিক্ষকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাকারিয়া হায়দার জানান, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এটিও মুহাম্মদ কামাল হোসেনের নামে থানায় জিডি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিগগির থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে।
Posted ১২:৪৩ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১০ জুলাই ২০২৩
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam