| বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 73 বার পঠিত
ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বকেয়া বেতন ও অন্যান্য সুবিধাদি পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী মো: মহসীন আলী প্রতিষ্ঠানটির রংপুর অফিসের জোনাল ইনচার্জ ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে চাকরি ছাড়লেও এখন পর্যন্ত তার প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলে দাবি করেছেন।
মহসীন আলীর ভাষ্যমতে, চাকরি ছাড়ার পর তিনি একাধিকবার ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি নিষ্পত্তির আশায় লিখিত আবেদন ও আইনজীবীর মাধ্যমে উকিল নোটিশ পাঠানো হলেও তাতে কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। তার দাবি অনুযায়ী, বকেয়া বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি মিলিয়ে তার পাওনার পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ টাকা। অভিযোগে বলা হয়েছে, কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রেখেছেন। এতে করে তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেছেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পাওনা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত বা লিখিত জবাব না পাওয়ায় হতাশা বাড়ছে বলে তার অভিযোগ। নিজের পাওনার ব্যাপারে তিনি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।
বীমা খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বা সাবেক কর্মকর্তার প্রাপ্য বেতন ও সুবিধাদি নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠানটির সুশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। বিশেষ করে তালিকাভুক্ত ও বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগ করপোরেট সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান তারেক বলেন, আমি একাউন্টস বিভাগে খোঁজ নিয়েছি, তিনি সম্ভবত কমিশন সংক্রান্ত কোন বকেয়ার কথা বলছেন। আসলে মৌখিকভাবে অতিরিক্ত কোন কমিশন বা অন্য আর্থিক সুবিধার বিষয় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা সম্ভব নয়। বেতন ভাতা বকেয়া থাকলে আমরা তা দ্রুত নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করি।’
মহসীন আলীর বকেয়া পাওনা সম্পর্কে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সিএফও এনামুল গনি চৌধুরী বলেন, আমি ওনার রেজিগনেশন লেটার পাইনি। পরবর্তীতে ওনাকে বলে লেটার নেওয়া হয়েছে। তবে ওনাকে এখনও রিলিজ লেটার দেওয়া হয়নি।’ কিন্তু প্রতিবেদক মহসীন আলীর ইস্তফার চিঠির কপি দেখালে সিএফও ও এমডি বলেন, আমাদের কাছে অন্য তারিখের ইস্তফার চিঠি আছে। তবে তারা সেই কপি প্রতিবেদককে দেখাতে পারেননি। ফলে সাবেক কর্মকর্তার পাওনার অভিযোগের বিষয়ে কোম্পানির অবস্থান স্পষ্ট হয়নি।
বিষয়টি আরও বেশি আইনগত পর্যায়ে গড়ালে এটি শুধু বকেয়া পাওনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং করপোরেট শাসন ও শ্রম অধিকার সংক্রান্ত আলোচনাও নতুন করে সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
Posted ৩:৫০ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam