| বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫ | প্রিন্ট | 250 বার পঠিত
বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বাড়ানোর প্রস্তাব ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’
বীমা ব্যবসা নিবন্ধন নবায়ন ফি গ্রস প্রিমিয়ামের প্রতি হাজারের বিপরীতে ৫ গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব করে এ সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। সংস্থাটি বলছে, কর্তৃপক্ষের জনবল বৃদ্ধি, জনবলের পেনশন-গ্র্যাচুয়িটি, নিজস্ব ভবন নির্মাণ, শাখা কার্যালয় স্থাপন, কোম্পানিগুলোকে ইন্স্যুরেন্স ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (আইআইএমএস) সেবা বিনামূল্যে প্রদান এবং পেশাদার সংস্থা যেমন বিসিআইআই, বিআইআইএম, একচ্যুয়ারিয়াল সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মতো বড় উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য এই ফি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ৩৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা আয় এবং ৩৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করেছে আইডিআরএ। তবে সংস্থাটির ব্যয়বহনে হঠাৎ করেই ৫ গুণ নিবন্ধন নবায়ন ফি বৃদ্ধির প্রস্তাবে বিরূপ প্রতিক্রিয়া এসেছে বীমা খাতের অংশীজনের মধ্য থেকে। তারা বলছেন, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের ভারে নুহ্য বীমা কোম্পানিগুলো নিজেদের ব্যয় মেটাতে প্রতিনিয়তই যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে হঠাৎ করে ৫গুণ ফি বাড়ানো ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’, আবার অযৌক্তিকও বটে। এতে ব্যবস্থাপনা ব্যয় আরো বাড়বে এবং এর প্রভাব একেবারে বীমার গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছাবে। প্রশ্ন উঠেছে, কর্তৃপক্ষের জনবল বৃদ্ধি বা ভবন নির্মাণের মতো যেসব খাতে এই অর্থ ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে সরকারের কাছে এর জন্য অর্থায়নের প্রস্তাব না করে বীমা কোম্পানিগুলোর তহবিলের দিকেই কেন নজর দিচ্ছে আইডিআরএ?
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনেও এই প্রশ্নের মুখোমুখি হন আইডিআরএ চেয়ারম্যান এম আসলাম আলম। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনেই বলা আছে এটি একটি স্বঅর্থায়িত প্রতিষ্ঠান হবে। নিজেদের আয়েই নিজেদের ব্যয়ভার বহন করতে হবে। অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোও এভাবে নিজেদের আয়ে চলছে।
তবে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন-২০১০ এ কর্তৃপক্ষের তহবিল সংক্রান্ত ধারায় যেসব উৎস থেকে অর্থ জমা হওয়ার কথা বলা হয়েছে তার শুরুতেই সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদানের কথা উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ এখানে সরকারের অনুদান আনার সুযোগ রয়েছে। ব্যয়ের ক্ষেত্রে-চেয়ারম্যান, সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পারিশ্রমিক, বেতন, ভাতা, ইত্যাদি এবং কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যয় এই তহবিল থেকে নির্বাহের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আইডিআরএ ভবন নির্মাণ, পেশাদার সংস্থা যেমন বিসিআইআই, বিআইআইএম, একচ্যুয়ারিয়াল সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মতো বড় উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্যও বীমা কোম্পানির তহবিল থেকে অর্থ নিতে ফি বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এমনকি পতিত স্বৈরাচারের মদদপুষ্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় বিতর্কিত ইউএমপি বা আইআইএমএস সেবা টিকিয়ে রাখতেও এই অর্থ খরচের কথা বলা হয়েছে।
অংশীজনরা বলছেন, দেশের অন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা যেমন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি’র মতো প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের অধীনে থাকা প্রতিষ্ঠানের আয়ের উপর কোন ধরণের নবায়ন ফি চার্জ করে না।
তারা বলছেন, আইডিআরএ সরকারের কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়। এটি বীমার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও ২০১৭ সালের এপ্রিলে সংস্থাটির তহবিল থেকে উদ্ধৃত্ত অর্থের ১০০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছিলে আইডিআরএর তৎকালীন চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ। এর আগে আইডিআরএ দু’বারে আরো ২৮ কোটি ৪৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছিল। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইনের তহবিল সংক্রান্ত ধারা অনুযায়ী এ টাকা জমা দেয়া হয়েছিল। চেয়ারম্যান হিসেবে এম শেফাক আহমেদের দ্বিতীয় দফার মেয়াদ শেষ হওয়ার দু’দিন আগে সরকারের কোষাগারে এই ১০০ কোটি টাকা জমা দেয় বীমাখাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ।
শেফাক আহমেদের দ্বিতীয় দফার মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র দু’দিন আগে সরকারের কোষাগারে এই টাকা জমা দেয়াকে তৃতীয় দফায় তার নিয়োগ লাভের প্রচেষ্টা ছিল বলে মনে করেন বীমাখাত সংশ্লিষ্টরা। বীমা বাজারে শেফাক আহমেদ পতিত সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের নিকটাত্মীয় হিসেবে পরিচিত ছিল।
Posted ৪:২৮ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam