শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

নদীভাঙনের ঝুঁকিতে সাত শহীদের সমাধি, সড়ক

সারাদেশ ডেস্ক   |   বুধবার, ১৯ জুলাই ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   128 বার পঠিত

নদীভাঙনের ঝুঁকিতে সাত শহীদের সমাধি, সড়ক

সংগৃহীত ছবি

কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের ফুলবাড়ী সীমান্তঘেঁষা গণেশ্বরী নদীর পূর্ব পাড়ে সাত শহীদের সমাধি। প্রতিদিনই সীমান্তের মনোরম সৌন্দর্য উপভোগের সমাধিগুলো পরিদর্শন করেন পর্যটকরা। গণেশ্বরী নদীর ভাঙন ক্রমেই পূর্বদিকে তেড়ে আসছে। সমাধিতে পৌঁছানোর কাঁচা সড়কে ভাঙন ধরেছে।

ভাঙন অব্যাহত থাকলে সড়কের পাশাপাশি এক সময় শহীদদের সমাধিগুলোও বিলীনের আশঙ্কা রয়েছে। তাই সড়ক ও সমাধি রক্ষায় টেকসই প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

কথা হয় লেংগুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনের সঙ্গে। তাঁর ভাষ্য, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোর সুরক্ষা জরুরি। সরকারের উচিত, সাত শহীদের স্মরণে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা। সেখানে শহীদদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য, তাদের ব্যবহৃত স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করা যেতে পারে। এতে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে, সেই অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতহাস।

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক এনামুল হক বলেন, যারা দেশের জন্য জীবন দিলেন, তাদের সমাধিস্থল রক্ষায় এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। নদীর পাড়ে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করলে সড়ক ও সমাধি রক্ষা পাবে– এই স্থানটিও হয়ে উঠবে দৃষ্টিনন্দন।

ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া জানান, প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল এলেই পানির স্রোতের কারণে ১১৭২ নম্বর সীমান্ত পিলার-সংলগ্ন গণেশ্বরী নদীর তীরের প্রায় ১০০ মিটারের কাঁচা রাস্তা ভেঙে যায়। সময়মতো উদ্যোগ নেওয়া না হলে বিলীন হয়ে যেতে পারে সমাধিস্থলও। টেকসই প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করে নদীভাঙন থেকে সড়কটি ও সাত শহীদের সমাধিস্থল রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে জোর দাবি তাঁর।

উপজেলা চেয়ারম্যান যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক তালুকদার বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ জুলাই নাজিরপুর বাজারে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এতে শহীদ হন নেত্রকোনার ডা. আবদুল আজিজ ও মোহাম্মদ ফজলুল হক, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মুহাম্মদ ইয়ার মাহমুদ, ভবতোষ চন্দ্র দাস, দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস ও মো. নুরুজ্জামান এবং জামালপুরের জামাল উদ্দিন। পরে এই শহীদদের লেংগুরার ফুলবাড়ী সীমান্তের গণেশ্বরী নদীর পাড়ে ১১৭২ নম্বর পিলার-সংলগ্ন স্থানে সমাহিত করা হয়। তাদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতেই সহযোদ্ধারা নির্মাণ করেন সাত শহীদের সমাধিস্থল। প্রতিবছর ২৬ জুলাই দিনটা ‘ঐতিহাসিক নাজিরপুর দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

সড়কের যতটুকু অংশ নদীভাঙনের কবলে পড়েছে, সেটুকু এলজিইডির নয় বলে দাবি করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী শুভ্রদেব চক্রবর্তী। তাঁর ভাষ্য, লেংগুরা বাজার থেকে সাত শহীদের সমাধিস্থল পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কার ও রাস্তার ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন অংশে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান জানান, বিষয়টি কেউ তাঁকে জানায়নি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখবেন। যদি সাত শহীদের সমাধিস্থল নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৯ জুলাই ২০২৩

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com