| শুক্রবার, ০৪ আগস্ট ২০২৩ | প্রিন্ট | 179 বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
উদ্দেশ্য ছিল ভালোমানের ফুটবলার তৈরি করা। সেই লক্ষ্য নিয়ে বাফুফে যে এলিট একাডেমি করেছে, দুই বছর পর তার সুফল পাচ্ছে ফেডারেশন। নতুন মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের দলবদলে কদর বেড়েছে বাফুফে এলিট একাডেমির ফুটবলারদের। ইতোমধ্যে তিনটি ক্লাব ২২ ফুটবলারকে পেতে আবেদন করেছে। প্রতিটি ক্লাবই প্রস্তাব দিয়েছে ৬ লাখ টাকা করে।
এই অঙ্কে ক্লাবের কাছে ফুটবলারদের বিক্রি করলে আয়ও হবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, ফুটবলাররা মোট টাকার ৬০ শতাংশ এবং ফেডারেশন পায় ৪০ শতাংশ। যদিও একাডেমির ফুটবলারদের ক্লাবগুলোর কাছে বিক্রি করে বাফুফের আয়ের খাত মনে করছেন না ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান এবং ফেডারেশনের অন্যতম সহসভাপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক, ‘আমি তো আয়ের খাত অবশ্যই মনে করি না। আমি মনে করি, একাডেমি করা মানেই হলো ফুটবলার তৈরি করা। একাডেমি শুরু করার প্রথম থেকেই আমার যেটা টার্গেট ছিল, সেটা অনেকটা পূরণ হয়েছে বলে মনে করছি। ফুটবলারদের নিয়ে ক্লাবগুলোর যে টানাটানি, তাতে বলতেই হচ্ছে একাডেমি করার সুফল শুধু বাফুফে নয়, পাচ্ছে দেশের ফুটবল।’
কোন ফুটবলারকে কোন ক্লাবে দেবে, সেটা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ মিটিং করার কথা বাফুফে ডেভেলপমেন্ট কমিটির। গত মৌসুমে লিগে এলিট একাডেমি থেকে ফুটবলার নিয়েছিল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। সে সময় খেলোয়াড়দের একটা মূল্য ধরে বাফুফে এবং মোহামেডান ক্লাব সমঝোতা করেছিল। ক্লাবটি যে পরিমাণ অর্থ দিয়েছিল, তার একটা অংশ পেয়েছিলেন ফুটবলাররা এবং বাকিটা বাফুফে। মৌসুম শেষ হওয়ার পর আবার একাডেমিতে ফিরে গিয়েছিলেন তারা। ঘরোয়া ফুটবলের দলবদলে এবার বড় বড় তারকাদের দলে ভিড়িয়েছে বেশ কয়েকটি ক্লাব।
বর্তমানে দেখা দিয়েছে ফুটবলার সংকট। এই সুযোগে ৬ লাখ টাকার খেলোয়াড়রাও ৪০ লাখের ওপরে দাম হাঁকিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের কর্তারা নজর দিয়েছেন বাফুফে এলিট একাডেমির খেলোয়াড়দের দিকে। ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, মোহামেডান অনন্ত, জুম্মন, আসিফ এবং চন্দর রয়কে চূড়ান্ত করেছে। শেখ রাসেল চার এবং ব্রাদার্স ইউনিয়ন চেয়েছে ১৪ ফুটবলার।
মানিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যেক ফুটবলারকে পেতে শেখ রাসেল এবং ব্রাদার্স ইউনিয়ন ৬ লাখ ২০ হাজার এবং মোহামেডান প্রস্তাব দিয়েছে ৬ লাখ টাকার। পরিকল্পনা করলেও অনূর্ধ্ব-১৭ বয়সী ফুটবলার হওয়ায় শেষ পর্যন্ত এলিট একাডেমিকে প্রিমিয়ার লিগে খেলানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন বলে গতকাল জানান মানিক, ‘যেহেতু আমাদের প্লেয়ারদের বয়স ১৭, তাই চিন্তা করেছি আরও একটি বছর সময় নিই। প্লেয়াররা আরেকটু পরিপক্ব হলে আমরা তখন যাব। আমরা আগামী সিজনে বিপিএলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি।’
কমলাপুর স্টেডিয়ামের আবাসিক ক্যাম্পে ৫০-৬০ জনের মতো প্লেয়ার আছেন। তার পরও বাফুফে এলিট একাডেমিতে কমপক্ষে ৩০০ ফুটবলার থাকার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন মানিক, ‘আমার একাডেমিতে কমপক্ষে ৩০০ ফুটবলার থাকা উচিত। এত সংখ্যক প্লেয়ার যদি থাকত, তাহলে আজকে আমার প্লেয়ার অনেক লাভেই সাপ্লাই দিতে পারতাম।’
বর্তমানে মাঝারি মানের ফুটবলার ৩০ লাখের ওপরে বিক্রি হচ্ছেন। চাইলে একাডেমির ফুটবলারদের এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে পারতেন। সেটা না করার কারণ বললেন বাফুফের এই সহসভাপতি, ‘এখানে অনেক বিষয় ভাবতে হবে। সেটা হলো, এটা আমাদের নিজস্ব একাডেমি। আমি তো প্লেয়ার বেচাকেনার ব্যবসা করি না। আমি ওভাবে দাম ওঠাতে গেলে দেখা যাবে, আমার এই ফুটবলাররা সাইড লাইনে বসে থাকবে। তাহলে আমার যে টার্গেট, সেটা পরিপূর্ণ হবে না।’
Posted ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৪ আগস্ট ২০২৩
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam