| শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 203 বার পঠিত
বীমা অঙ্গনের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি ঢাকা ও এক্সপ্রেস ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিজিআইসির সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক। মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ১৯৪০ সালের দশ জুলাই বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি হয়েছিল ভাঙা পাঠশালায়।
মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি মাসে চলে আসেন বরিশাল শহরে। পড়াশুনা করেন ইস্ট পাকিস্তান সেকন্ডারি এডুকেশন বোর্ডের অধিন বরিশাল জিলা স্কুলে। ১৯৫৬ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে ভর্তি হন বিএম কলেজে। সে আমলেই তিনি লেখাপড়া ছেড়ে সময় কাটাতেন ক্রিকেট ও কেরাম খেলে। এভাবে কেটে যায় চার-চারটি বছর। অনাকাক্সিক্ষত নানা সঙ্গ দোষে লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার পথে। লেখাপড়ায় অমনোযোগী ও উচ্ছন্নে যাওয়া বিপথগামী বখাটে যুবককে জীবনের ভেলা ধরিয়ে দেন ইন্স্যুরেন্সের আইকন ও জাদুকর খোদাবক্স। খোদা বক্স তাঁকে ছেলের মতো ভালোবাসতেন। খোদাবক্স ইস্টার্ন ফেডারেল ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সে (ইফু) চাকরি দিলেন মিলুকে। মাত্র একুশ বছর বয়সে ১৯৬১ সালের ১০ জুলাই ইন্স্যুরেন্সে তার কর্মজীবন শুরু হয়; তিনি পেশাটাকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন। রাতের শিফটে লেখাপড়া করে এগোতে থাকেন। ইসলামের ইতিহাস ও কৃষ্টি বিষয়ে পড়তেন জগন্নাথ কলেজে। তাঁর কাজের প্রতি দায়িত্ববোধ দেখে খোদাবক্স তাকে করাচিতে একটা প্রশিক্ষণেরও সুযোগ করে দেন। এক পলিসিহোল্ডারের অভিযোগপত্রের উত্তর লিখে দেয়ার মাধ্যমে খোদাবক্সের সাথে তার কাজের সান্নিধ্য বাড়ে। সুযোগ পেলেই কাজের ফাঁকে ফাঁকে নথি ঘাঁটতেন মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। বীমাবিদ মুস্তাফিজুর রহমান খানের সাবলিল ভাষায় লেখা চিঠিপত্র তাকে বেশি আকৃষ্ট করে এবং দাপ্তরিক কাজে দারুনভাবে প্রভাবিত হন। জানার কৌতুহলে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন ইতোমধ্যে পাকিস্তানের নবগঠিত পাকিস্তান ইন্স্যুরেন্স করপোরেশনে যোগদান করেছেন মুস্তাফিজুর রহমান খান।
১৯৬৯ সালের ২৯ মে নবপ্রতিষ্ঠিত ফেডারেল লাইফ অ্যান্ড জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির যাত্রা শুরু হয়। মোসলেহ উদ্দিন আহমদও ইফু ছেড়ে চলে আসেন এই নতুন কোম্পানিতে। কিছুদিনের মধ্যে দেশে স্বাধীকার অর্জনের আন্দোলন শুরু হয়। বীমাকর্মীরাও সেদিন থেমে থাকেননি, জনগণের তুমুল আন্দোলনে শরিক হয়েছিলেন তারাও। অ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার পদধারী মোসলেহ উদ্দিন আহমদও সেদিন অংশ নেন; ব্যানার আর ফেস্টুনে সজ্জিত হয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের মিছিলে শরীক হন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে দেশের সকল বীমা কোম্পানি জাতীয়করণ করে জাতীয় বীমা করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীনে ৪টি বীমা করপোরেশনের আওতায় আনা হয়। তখন মোসলেহ উদ্দিন আহমদ সুরমা জীবন বীমা করপোরেশনে কর্মরত। সাবেক চেয়ারম্যান সামাদ সাহেব গ্রেট ইস্টার্ণ এর জীবন বীমা শাখার প্রধান থাকার সময় তাঁর সাথে সাক্ষাতের সুযোগ হয়। কয়েকদিনের আলাপেই তার ব্যক্তিত্ব, কর্মধারা, সহযোগিতামূলক ব্যবহারে তিনি মুগ্ধ হন। ১৯৮৪ সালে এম.এ. সামাদ একটি বেসরকারি সাধারণ বীমা কোম্পানি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তিনিই মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে ঐ কোম্পানির সেক্রেটারি হিসেবে যোগদানের প্রস্তাব দেন। মোসলেহ উদ্দিন সম্মত হন। তার কাছে বিজিআইসির পরিবেশটা ছিল অনেকটা বৃহৎ এক পরিবারের মতো। এই প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা হিসেবে যোগদান করলেন মুস্তাফিজুর রহমান খান। মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ১৯৬১ সালে যে মুস্তাফিজুর রহমান খানের প্রতি অনুরক্ত হয়েছিলেন; ১৯৮৫ সালের শেষের দিকে তার সান্নিধ্যে আসবার সুযোগ হয় এবং সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
মোসলেহ উদ্দিন আহমদ গান শোনেন; গান শুনতে পছন্দ করেন। প্রবীণ এই ব্যক্তিত্ব বর্ণিল জীবণের ৮৫ বছর পাড় করে ৮৬ বছরে পা রাখলেন। এখন তিনি বয়সের ভারে এবং স্বাস্থ্যগত কারণে ঘর থেকে বের হতে পারেন না। তবে তিনি থেমে নেই। এখনও তিনি সবার সাথে টেলিফোন মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। প্রতিদিনই তিনি আগামী দিনের একটি সুন্দর সকালের অপেক্ষা করেন।
Posted ১২:২৮ পিএম | শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam