| মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট ২০২৩ | প্রিন্ট | 92 বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
এএফসি কাপ প্লে-অফে দুই বাংলার লড়াই নিয়ে কলকাতায় ফুটবল উন্মাদনা বইছে। ৬৫ হাজার ধারণক্ষমতার গ্যালারি যে পরিপূর্ণ হবে, তা সহজেই অনুমেয়। মাঠের ১১ জনের সঙ্গে ভরা গ্যালারিও আবাহনীর জন্য বড় প্রতিপক্ষ। সব প্রতিকূলতা দূরে সরিয়ে মোহনবাগান গেরো কাটাতে মরিয়া বাংলাদেশের সাবেক লিগ চ্যাম্পিয়নরা। সল্টলেকে আজ আবাহনী আজ বাংলাদেশের লাল সবুজের মুখ। এই ম্যাচ জিতলেই এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বের টিকিট নিশ্চিত করবে আবাহনী, যেখানে আগে থেকেই আছে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ক্লাব বসুন্ধরা কিংস, ভারতের ওদিশা এবং মালদ্বীপের মাজিয়া।
আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হবে ম্যাচ। মোহনবাগানের বিপক্ষে খেলার জন্য গতকাল কলকাতায় গেছে টিম আবাহনী। অনুশীলন করতে পেরেছে মাত্র এক সেশন। প্রতিকূল কন্ডিশন এবং অতীতের তিক্ততায় যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে মারিও লেমোসের দল। বিশেষ করে কাতার বিশ্বকাপ খেলা অস্ট্রেলিয়ার জেমস কামিংগসই বড় বাধা আবাহনীর জন্য।
গত বছরের ১৯ এপ্রিল এই কলকাতাতে প্লে-অফে মুখোমুখি হয়েছিল আবাহনী ও মোহনবাগান। সেই ম্যাচে ভারতের ক্লাবটির কাছে হেরে গ্রুপ পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছিল আকাশি-নীল জার্সিধারীরা। তারকা বিদেশি না থাকা, কয়েকজনের ইনজুরির কারণে এবারের পথটা আরও কঠিন নাবিব নেওয়াজ জীবন ও শহিদুল আলম সোহেলদের। তিনবারের মুখোমুখি লড়াইয়ে ২০১৭ সালে ঢাকায় ১-১ গোলে ড্র ছাড়া বাকি দুটিতে হেরেছিল আবাহনী।
অতীত পরিসংখ্যানের সঙ্গে এবার আবাহনীর চেয়ে মোহনাবাগান এগিয়ে বিদেশি ফুটবলারে। মূলত এএফসির মঞ্চে পার্থক্য গড়ে দেন বিদেশিরাই। উঁচুমানের বিদেশি এবং বেশ ক’জন ভারত জাতীয় দলের ফুটবলার নিয়ে শক্তিশালী স্কোয়াড মোহনবাগানের। বিশেষ করে দলটির সবচেয়ে বড় নাম অস্ট্রেলিয়ার স্ট্রাইকার জেসন কামিংগস; যিনি কিনা দেশের হয়ে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ খেলেছিলেন। প্রিলিমিনারি রাউন্ডে নেপালের ক্লাব মাচিন্দ্রার বিপক্ষে গোলও করেছিলেন ২৮ বছর বয়সী এ তারকা। এর আগে নটিংহ্যাম ফরেস্টসহ ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো লিগে খেলেই এই মৌসুমে মোহনবাগানে যোগ দেন কামিংগস। অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর অভিষেক হয়েছিল স্কটল্যান্ডের হয়ে।
কামিংগসের সঙ্গে আবাহনী কোচ মারিও লেমোসের জন্য বড় মাথাব্যথা আলবেনিয়া জাতীয় দলের স্ট্রাইকার আরমান্দো সাদিকো। ৩২ বছর বয়সী এ স্ট্রাইকারের ইউরো, উয়েফা নেশন্স লিগ, লা লিগা, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বাছাইপর্বে খেলাসহ আরও বেশ কয়েকটি উঁচুমানের লিগে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। এ দুই তারকার সঙ্গে আছেন পরীক্ষিত পারফরমার দিমিত্র পেট্রাটোস, হুগো বোমাস ও ব্রেন্ডন হামিল।
স্থানীয়দের মধ্যে ভারত জাতীয় দলে খেলা আনোয়ার আলি, লিস্টন কোলাস, মানভীর সিংহরা তো আছেন। তাদের সঙ্গে দলটির স্প্যানিশ কোচ হুয়ান ফেরান্দো নিজের বিচক্ষণতা দিয়ে আবাহনীকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেন। অপরদিকে আবাহনীতে নেই তেমন কোনো বড় তারকা। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ খেলা ড্যানিয়েল কলিনড্রেস ও ব্রাজিলিয়ান রাপায়েল অগাস্তো ক্লাব ছেড়ে চলে যাওয়ার পর বিদেশিতে শক্তি কমে যায় তাদের। ক্লাব ঈগলসের বিপক্ষে গোল করা স্টুয়ার্ট ও দানিলো; দু’জনই এএফসি কাপের জন্য ধারে খেলছেন আবাহনীর জার্সিতে।
ছয় বিদেশির সঙ্গে দেশি ফুটবলারদের নিয়ে ক্লাব ঈগলকে হারালেও এবারের প্রেক্ষাপটটা ভিন্ন। সেটা মানছেন আবাহনী কোচ মারিও লেমোসও। মোহনবাগানের উঁচুমানের বিদেশির বিপক্ষে ম্যাচটি চ্যালেঞ্জিং হবে বলে জানান পর্তুগিজ এ কোচ, ‘বিশ্বকাপ খেলা একজন ফুটবলারের (কামিংগস) মান নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি শুধু তাঁর দেশের হয়েই নন, বর্তমান বিশ্বের অন্যতম একজন সেরা ফুটবলার; কারণ তিনি বিশ্বকাপে খেলেছেন। তবে শুধু কামিংগসই নন, বোমাস-লিস্টনদেরও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য আছে। তবে আমরা চাইব, তারা যেন ঠিকমতো খেলতে না পারেন। কারণ আপনি যদি ভালো মানের ফুটবলারকে খেলার জায়গা দেন, তাহলে তারাই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেবেন।’
Posted ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট ২০২৩
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam