শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

ব্যাংকিং খাতের অজানা এক মহানায়ক ড. যশোদা জীবন দেবনাথ

ব্যাংক ডেস্ক   |   সোমবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   143 বার পঠিত

ব্যাংকিং খাতের অজানা এক মহানায়ক ড. যশোদা জীবন দেবনাথ

সংগৃহীত ছবি

ড. যশোদা জীবন দেবনাথ। ছেলেবেলা থেকেই অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে নিজের অস্তিত্বের জানান দিয়েছেন। মাত্র ছয় বছর বয়সেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। কখনো দোকানের কর্মচারী। কখনো মেরামত কাজের সহযোগী। আবার কখনো টিউশনি করে কেটেছে তার শৈশব। তবুও হাল ছাড়েননি। বড় হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে গেছেন। ঝলসে যাওয়া জীবনের নির্মম অভিজ্ঞতার সাক্ষী যশোদা জীবন দেবনাথ। শৈশবে বাধা-বিপত্তি থাকলেও কর্মময় জীবনে তিনি পদে পদে সফলতার ছাপ রেখে চলেছেন।

ব্যর্থতা তাকে কখনো ছুঁতে পারেনি। ফরিদপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। নিজ হাতে গড়েছেন ব্যাংক, বীমা, ব্রোকারেজ হাউজ, মানি সিকিউরিটি সার্ভিস, সুগার মিল, রিসোর্ট, অটোমেটিক টেলার মেশিন, এটিএম সেবা ও চেক প্রিন্টিং কোম্পানি। সরকারের রাজস্ব খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। প্রযুক্তিনির্ভর নানা উদ্ভাবনী চিন্তা দিয়ে অল্প সময়েই ঢাকা জয় করেছেন। হয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি। ১০ বছরে দেশের ব্যাংকিং খাতে নজিরবিহীন বিপ্লব ঘটিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ব্যাংকিং খাতকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে যশোদা জীবন দেবনাথের প্রতিষ্ঠান টেকনোমিডিয়া লিমিটেড। টেকনোমিডিয়া সারা দেশে এটিএম বুথ, সিআরএম মেশিন, নোট সর্টিং মেশিন, কেনাকাটার ডিজিটাল পজ মেশিন, নোট বাইন্ডিং মেশিন, ব্যাংকিং সফটওয়্যার, চেক বই, অনলাইন চেক ক্লিয়ারিং সফটওয়্যার ও ব্যাংকগুলোতে নিজস্ব সিকিউরিটি সার্ভিসের মাধ্যমে নিরাপদে নগদ টাকা সরবরাহ করে। এতে গ্রাহকদের সেবা পেতে সময় ও খরচ কম লাগে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের ৮০ শতাংশ ব্যাংকের এটিএম সেবা একাই প্রদান করে। যশোদা জীবন দেবনাথ ব্যাংকিং খাতকে ক্যাশলেস করতে গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে পে-ইউনিয়ন নামে একটি এটিএম সেবা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছেন। এ ছাড়া ঝুঁকিমুক্ত ক্যাশবিহীন লেনদেন করতে ব্যাংকিং খাতে নতুন নতুন উদ্ভাবনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি একজন মেধাবী ও দূরদর্শী ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা।

প্রযুক্তি জ্ঞানে তার জুড়ি মেলা ভার। যশোদার হাত ধরেই বাংলাদেশের আর্থিক লেনদেনে অটোমেটেড ট্রেলার মেশিন এটিএম যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। যশোদার কল্যাণে ও ব্যবসায়ীদের ঐকান্তিক চেষ্টায় এবং সরকারের নীতি-সহায়তার কারণে এ খাতটি দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে যশোদা জীবন দেবনাথ শুধুমাত্র একজন ব্যবসায়ীই নয়। তিনি একজন পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদও। দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ঘনিষ্ঠ সখ্যতা রয়েছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গেও। দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের বার্তা নিয়ে ছুটছেন শহর থেকে গ্রামে। জনগণের ভালোবাসায় হয়েছেন ফরিদপুর-৩ আসনের গণমানুষের নেতা। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বেশ সক্রিয় অবস্থান রয়েছে এ ব্যবসায়ীর। ফরিদপুরেও নিজেকে জানান দিচ্ছেন। নিয়মিত করছেন মিটিং ও মিছিল। দলীয় সকল কর্মসূচিতেও তার সরব উপস্থিতি রয়েছে। ফরিদপুর-৩ আসনের আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে নির্ঘুম কাজ করছেন।

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উন্নয়নেও নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন। যেকোনো প্রয়োজনে কর্মীদের কাছে ছুটে যাচ্ছেন। করছেন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা। প্রশংসিত হয়েছেন কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে। তার আর্থিক সহযোগিতায় ভাগ্য বদলেছে অনেক অসহায় হতদরিদ্র্যের। করোনায় কর্মহীন হাজার হাজার অসহায় মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়ে তিনি একাধিকবার খবরের শিরোনাম হয়েছেন। দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছেন। শুধু মহামারি করোনার সময়েই নয় যেকোনো দুর্যোগ দুর্বিপাকে সাধারণ মানুষের ত্রাণকর্তা হয়ে হাজির হোন। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে অভাবনীয় ভূমিকা রাখছেন। স্বীকৃতি পেয়েছেন সমাজসেবক হিসেবে। তাই মানবতার সেবায় নিবেদিতপ্রাণ একজন যশোদার নাম সবার মুখে মুখে। ঈদে মুক্তিযোদ্ধা ও অসহায় মানুষের মাঝে ঈদসামগ্রী ও নতুন কাপড় বিতরণ করে খবরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, গরিব অসহায়দের দিয়েছেন ঈদসামগ্রী। শীতে শীতার্থ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে করেছেন কম্বল বিতরণ।

প্রতিনিয়ত সামাজিক কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এলাকার উন্নয়নেও ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন। পুলিশের কল্যাণে ফরিদপুর জেলা পুলিশকে ৫০ শতাংশ জমি দিয়েছেন। ব্যবহারের জন্য দিয়েছেন ডাবল কেবিন পিকআপ গাড়ি। প্রতি বছর রমজানে প্রায় ৫ হাজার পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন। এলাকার ৫ম ও ৮ম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বই-খাতা-কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ প্রদান করেন। এলাকার ভাঙা রাস্তা মেরামত ও সাঁকো- পুল এবং মাটির রাস্তা নির্মাণ করে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন। এ ছাড়াও এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় সরকারি বরাদ্দ ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ব্রিজ, কালভার্ট, বাঁশের সাঁকো, মাটির কাঁচা রাস্তা, মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ, স্কুল নির্মাণ, গরিব অসহায় শিক্ষার্থীদের এককালিন নগদ অর্থ সহায়তা করে যাচ্ছেন। উপজেলার অসহায় গৃহহীনদের কাঁচা-পাকা ঘর নির্মাণে অর্থ সহায়তা দিচ্ছেন। প্রত্যন্ত ইউনিয়নগুলোর মানুষের সুখে-দুঃখে তাদের পাশে এক কাতারে দাঁড়িয়ে রাস্তাঘাট উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, করোনাকালে কর্মহীনদের মধ্যে চাল, আলু বিতরণ, আগুনে পোড়া পরিবারকে আর্থিক সাহায্য প্রদান, অসুস্থ ব্যক্তিদের আর্থিক সাহায্য ও চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ নানাবিধ জনকল্যাণমূলক কাজ করে এলাকায় আলো ছড়াচ্ছেন। সম্প্রতি আমেরিকার প্রখ্যাত বিজনেস ম্যাগাজিন ‘বিজনেস আমেরিকা’ বাংলাদেশের প্রভাবশালী শিল্পপতিদের তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় প্রথম সারিতে জায়গা করে নিয়েছেন টেকনো মিডিয়া লিমিটেড ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক যশোদা জীবন দেবনাথ। শত শত কোটি টাকা কর দিয়ে সরকারের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছেন। একাধিকবার পেয়েছেন সিআইপি’র খেতাব।

এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি হয়ে যা করেছেন:
আসিয়ান, দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ব্যবসার সেতুবন্ধন স্থাপন ও দেশগুলোর জন্য বাংলাদেশ বাণিজ্যিক হাব তৈরিতে যশোদা জীবন দেবনাথের নেতৃত্বে ভিয়েতনামের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এফবিসিসিআই। ভিয়েতনামের ওই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট মান্যবর ভং দিন হুয়ে। এ ছাড়া জাপানি রাষ্ট্রদূত সহ ডেলিগেটদের সঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে মতবিনিময় ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং সভা করেন। সংগঠনের সদস্যদের কম খরচে বিদেশ ভ্রমণের জন্য বিভিন্ন এয়ারলাইন্স কোম্পানির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেন। এ ছাড়া জীবন দেবনাথের আর্থিক সহায়তায় গুলশানে শাখা অফিস স্থাপন করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

জীবন দেবনাথের যত বই:
লেখালেখিতেও তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। ব্যবসায়ের পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, মুক্তিযুদ্ধের নানা আলোচিত বই লিখে লেখক স্বীকৃতি পেয়েছেন। হয়েছেন বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য। তার লেখা বইগুলোর মধ্যে রয়েছে- মহানায়কের ইতিকথা, জীবন থেকে নেয়া, ফরিদপুরের মুক্তিযুদ্ধ, অপারেশন এক্স, জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, আমার জীবনের গল্প, এক তর্জনীর আত্মকথা। তাকে নিয়ে লেখক মইন উদ্দিন আহমেদ আলোকিত গুণীজন যশোদা জীবন দেবনাথ সিআইপি নামে একটি বই লিখেছেন।

সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধি পেলেন ড. যশোদা জীবন দেবনাথ
ফ্রান্সের বিখ্যাত দ্য থেমাস ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট অব লিটারেচার (ডি.লিট) উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন ড. যশোদা জীবন দেবনাথ। ব্যাংকিং এবং আর্থিক খাতের ডিজিটাইজেশনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে এই সম্মাননা দেয়া হয়। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি’র ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিজ থেকে ‘ডক্টর অব ফিলোসফি উইথ মেজর ইন ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং’ গবেষণায় পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। শিল্প খাতে অবদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাইজেশনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সিআইপি পুরস্কার প্রদান করা হয় ড. যশোদা জীবন দেবনাথকে। এ ছাড়াও তিনি বঙ্গবন্ধু শিল্প পুরস্কার, জাতীয় উৎপাদনশীলতা পুরস্কারসহ বেশকিছু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৪:০৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৩

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com