শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

আইডিআরএ’র তদন্ত: শেয়ার সার্টিফিকেট দেখাতে পারেনি হোমল্যান্ডের প্রবাসী ৫ পরিচালক

  |   সোমবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   79 বার পঠিত

আইডিআরএ’র তদন্ত: শেয়ার সার্টিফিকেট দেখাতে পারেনি হোমল্যান্ডের প্রবাসী ৫ পরিচালক

আইডিআরএ’র তদন্ত: শেয়ার সার্টিফিকেট দেখাতে পারেনি হোমল্যান্ডের প্রবাসী ৫ পরিচালক

শেয়ার সার্টিফিকেটের বৈধতার প্রমাণ দিতে পারেননি হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লন্ডন প্রবাসী ৫ পরিচালক। উল্টো শেয়ার বিষয়ে তদন্তের একমাত্র এখতিয়ার আদালতের, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নয় বলে উকিল নোটিশ দিয়েছেন তারা। অপরদিকে বিষয়টি বিচারাধীন মন্তব্য করে আইনগত কোন ব্যবস্থা গ্রহণের কোন সুপারিশ করেনি আইডিআরএ’র তদন্ত দল। তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত বছরের ৮ মে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের কাছে হোমল্যান্ড লাইফের প্রবাসী ৫ পরিচালকের শেয়ার সংক্রান্ত এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত দল। এই ৫ পরিচালক হলেন- আবদুল হাই, আবদুল আহাদ, জামাল মিয়া, কামাল মিয়া এবং জামাল উদ্দিন।

উল্লেখ্য, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লন্ডন প্রবাসী ৫ পরিচালকের শেয়ার সার্টিফিকেটের বৈধতা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে গণমাধ্যম। এ সংক্রান্ত একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, হোমল্যান্ড লাইফের ৫ পরিচালকের শেয়ার সার্টিফিকেট জাল। এই জাল সার্টিফিকেট দিয়েই ১৭ বছর ধরে তারা কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন। ভোগ করছেন কোম্পানির নানান আর্থিক সুবিধা।

এ ছাড়াও, এই ৫ পরিচালকের সবগুলো শেয়ার আইসিবি ইসলামী ব্যাংক (সাবেক ওরিয়েন্টাল ব্যাংক)-এ বন্ধক রেখে ঋণ নিয়েছিলেন হোমল্যান্ড লাইফের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কাজী এনাম উদ্দিন আহমেদ। এর প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ।

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, হোমল্যান্ড লাইফ গঠন করা হয় ১৯৯৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। ওই বছরের ডিসেম্বরের ৮ তারিখে পর্ষদের ৩য় বোর্ড সভায় শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। আর ৫ জন পরিচালকের নামে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয় ৬ষ্ঠ বোর্ড সভায়।

তবে শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে বোর্ড সভার অনুমোদন তৎকালীন বীমা অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন করানো হয়নি এবং স্বাক্ষর ভেরিফিকেশনও করা হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, হোমল্যান্ড লাইফের প্রবাসী ৫ পরিচালকের শেয়ার সার্টিফিকেট হারিয়ে যায় ২০১৪ সালের এপ্রিল ও সেপ্টেম্বর মাসে। একইদিনে এসব শেয়ার সার্টিফিকেট হারিয়ে যাওয়াকে সন্দেহজনক এবং অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করে আইডিআরএ’র তদন্ত দল।

অপরদিকে ২০১৬ সালের ১৪ জুলাই কোম্পানির ৯৬তম বোর্ডসভায় হারিয়ে যাওয়া শেয়ার সার্টিফিকেটের বিপরীতে ডুপ্লিকেট শেয়ার সার্টিফিকেট ইস্যুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এই ডুপ্লিকেট শেয়ার সার্টিফিকেট ইস্যুর বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ৫ পরিচালকের মধ্যে জামাল মিয়া, আবদুল আহাদ ও কামাল মিয়া তাদের হারিয়ে যাওয়া শেয়ার সার্টিফিকেটের বিপরীতে ইস্যুকৃত কোন ডুপ্লিকেট শেয়ার সার্টিফিকেট দেখাতে পারেননি।

তদন্ত দলের কাছে তারা যেসব শেয়ার সার্টিফিকেটের অনুলিপি প্রদর্শন করেছেন তা ইস্যু করা হয়েছে ২০২২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর।

এছাড়া আবদুল হাই এর শেয়ার সার্টিফিকেটগুলো আইনজীবীর মতামত অনুসারে ডুপ্লিকেট।

আর জামাল উদ্দিন শেয়ার সার্টিফিকেটের অনুলিপি প্রদান করেছেন ১৬টি। এর মধ্যে ৩টি হারিয়ে যাওয়া শেয়ার সার্টিফিকেটের বিপরীতে ইস্যু করা ডুপ্লিকেট সার্টিফিকেট। বাকী ১৩টি শেয়ার সার্টিফিকেট ২০২২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা।

শেয়ার সার্টিফিকেট ডিসবার্সমেন্ট রেজিস্টারের তথ্য পর্যালোচনা করে তদন্ত দল। এই পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালে হোমল্যান্ড লাইফের ৩য় ও ৬ষ্ঠ বোর্ড সভার কার্যবিবরণীতে পরিচালকদের শেয়ার সার্টিফিকেটের যে নম্বরের কথা উল্লেখ করা হয় তার সাথে শেয়ার সার্টিফিকেট ডিসবার্সমেন্ট রেজিস্টারে ৫ পরিচালকের দাখিলকৃত ডুপ্লিকেট শেয়ার সার্টিফিকেট নম্বরের কোন মিল পায়নি তদন্ত দল।

শেয়ার ডিসবার্সমেন্ট রেজিস্টার পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটিতে তদন্ত দল আরো বলেন, অনেক শেয়ারহোল্ডারই/ পরিচালক শেয়ার সার্টিফিকেট গ্রহণ করেননি। যার মধ্যে হোমল্যান্ড লাইফের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কাজী এনাম উদ্দিন আহমেদও রয়েছেন।

শেয়ার ডিসবার্সমেন্ট রেজিস্টার পর্যালোচনা করে তদন্ত দল প্রতিবেদনে বলেছে, কাজী এনাম উদ্দিন আহমেদ যদি শেয়ার সার্টিফিকেট গ্রহণ নাই করেন তাহলে তিনি কি করে শেয়ার সার্টিফিকেট বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করলেন।

এ ছাড়াও ২০১৬ সালে হোমল্যান্ড লাইফের ইস্যু করা ডুপ্লিকেট শেয়ার সার্টিফিকেট আবদুল হাই ব্যতিত অন্যকেউ গ্রহণ করেনি। এমনকি শেয়ার সার্টিফিকেট ডিসবার্সমেন্ট রেজিস্টারে কোন পৃষ্ঠা নম্বর পায়নি তদন্ত দল।

তাই এই শেয়ার ডিসবার্সমেন্ট রেজিস্টারটি পরবর্তীতে বানানো হয়েছে বলে মনে করছে তদন্ত দল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাজী এনাম উদ্দিন আহমেদ ২০০৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক ওরিয়েন্টাল ব্যাংকে হোমল্যান্ড লাইফের ৮০ হাজার শেয়ার বন্ধক রেখে ঋণ নেন। তবে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়নি।

তদন্ত দল বলছে, কাজী এনাম উদ্দিন আহমেদ যদি শেয়ার সার্টিফিকেট গ্রহণ না করতেন তাহলে তা ব্যাংকে জামানত রেখে ঋণ গ্রহণ করতে পারতেন না। তবে কাজী এনাম উদ্দিনের ৮০ হাজার শেয়ারের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি তদন্ত দল।

এক্ষেত্রে তদন্ত দল বলছে, কাজী এনাম উদ্দিন মারা গেছেন ২০০৫ সালে। তার পরিবার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ফলে তাদেরকে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির জন্য হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং সাবেক ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।

এ বিষয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র পরিচালক ও মুখপাত্র জাহাঙ্গীর আলম ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডি’কে বলেন, হোমল্যান্ড লাইফের ৫ পরিচালকের শেয়ার সার্টিফিকেট সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে বীমা কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। দু’দফা চিঠি পাঠানো হলেও তারা এখন পর্যন্ত কোন ব্যাখ্যা প্রদান করেনি।

অভিযুক্ত ওই ৫ পরিচালকের কাছ থেকেও এ বিষয়ে কোন তথ্য বা বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি তাদের লিগ্যাল নোটিশের কারণে। এই প্রেক্ষিতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে কর্তৃপক্ষের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোন বৈঠক ডাকা হয়নি। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষে শেয়ার সার্টিফিকেট সংক্রান্ত তদন্তের বিষয়ে বক্তব্য জানতে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লন্ডন প্রবাসী তিন পরিচালক আবদুল আহাদ, কামাল মিয়া ও জামাল মিয়ার সাথে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করে ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডি। তবে তারা কেউ রেসপন্স করেননি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৫

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

জীবন বীমা বাড়ছে
(314 বার পঠিত)
[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com