| বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫ | প্রিন্ট | 57 বার পঠিত
এবার ভেঙে দেয়া হলো এনআরবি, এনআরবিসি ও মেঘনা ব্যাংকের পর্ষদ
চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংক এনআরবি, এনআরবি কমার্শিয়াল ও মেঘনা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পৃথক আদেশে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর গতকাল এসব ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেন। একই সঙ্গে তিনটি ব্যাংকের জন্যই নতুন পর্ষদ গঠন করে দেয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘পর্ষদ ভেঙে দেয়ার চিঠি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোয় পাঠানো হয়েছে। তিনটি ব্যাংকের জন্যই সাত সদস্যের নতুন পর্ষদ গঠন করা হচ্ছে। পর্ষদে উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নিযুক্ত স্বতন্ত্র পরিচালকরা স্থান পাবেন। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিস্তারিত জানানো হবে।’
পর্ষদ ভেঙে দেয়া তিনটি ব্যাংকই ২০১৩ সালে কার্যক্রম শুরু করেছিল। শেখ হাসিনা সরকারের চাপের মুখে রাজনৈতিক বিবেচনায় এ ব্যাংকগুলোর লাইসেন্স দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনটি ব্যাংকেরই চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের বেশির ভাগ পালিয়ে যান। তাদের প্রায় সবার বিরুদ্ধেই হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সাত মাসেও এ তিনটি ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
এতদিন এনআরবি ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান ছিলেন দুবাইভিত্তিক আল হারামাইন গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান। ২০১৬ সালে চেয়ারম্যান হওয়ার পর তিনি পুরো ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন। আইন ও রীতিনীতি লঙ্ঘন করে স্ত্রী, সন্ত্রান, পুত্রবধূ, ভাই, ভাতিজাসহ বিভিন্ন নামে-বেনামে শেয়ার কিনে পুরো পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি। ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের বড় অংশকে পর্ষদ থেকে বের করে দেন অলিগার্ক হিসেবে পরিচিত এ ব্যবসায়ী।
এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন রাশিয়া আওয়ামী লীগ নেতা এসএম পারভেজ তমাল। আদনান ইমামসহ বেশ কয়েকজন আওয়ামী ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীকে সঙ্গে নিয়ে দেশের ব্যাংক, পুঁজিবাজারসহ আর্থিক খাত থেকে শত শত কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পর্ষদ ভেঙে দেয়া মেঘনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ এইচএন আশিকুর রহমান। চতুর্থ প্রজন্মের এ ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পরিবার ও স্বার্থসংশ্লিষ্টরা রয়েছেন।
পর্ষদ ভেঙে দিয়ে এনআরবি ব্যাংকের জন্য সাত সদস্যের নতুন পর্ষদ গঠন করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির নতুন পরিচালকরা হলেন এনআরবি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তা পরিচালক ইকবাল আহমেদ ওবিই, গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ফেরদৌস আরা বেগম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক শেখ মো. সেলিম, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সাবেক এমডি মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী, প্রাইম ব্যাংকের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মতিউর রহমান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শরীফ নূরুল আহকাম এবং পেশাদার হিসাববিদ মিজানুর রহমান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনআরবি ব্যাংক পর্ষদে নতুন করে স্থান পাওয়া ইকবাল আহমেদ ওবিই বলেন, ‘আমার উদ্যোগেই এনআরবি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সফল প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীরা এ ব্যাংকের পর্ষদে ছিলেন। কিন্তু ২০১৬ সালে মাহতাবুর রহমান ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হয়ে পুরোপুরি পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করেছিলেন। আমরা বহুবার প্রতিবাদ করেছি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু মাহতাবুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা, তারা এনআরবি ব্যাংককে অলিগার্কমুক্ত করেছেন।’
এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের নতুন পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কৃষি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া। ব্যাংকটির পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে স্থান পাওয়া অন্যরা হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল বশর ও মো. আনোয়ার হোসেন, সোনালী ব্যাংকের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নূরুল হক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. শফিকুর রহমান, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ ও পেশাদার হিসাববিদ মুহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ।
মেঘনা ব্যাংকের পুনর্গঠিত পর্ষদে জায়গা পেয়েছেন ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক উজমা চৌধুরী ও ক্যাসিওপিয়া ফ্যাশনের প্রতিনিধি তানভীর আহমেদ। আর স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. মামুনুল হক ও রজব আলী, যমুনা ব্যাংকের সাবেক এমডি মো. নজরুল ইসলাম, প্রাইম ব্যাংকের সাবেক এএমডি হাবিবুর রহমান এবং পেশাদার হিসাববিদ মো. আলি আকতার রিজভী।
প্রসঙ্গত, গভর্নর হিসেবে ড. আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নেয়ার পরপরই দেশের ১১টি বেসরকারি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার আরো তিনটি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয়া হলো। সব মিলিয়ে পর্ষদ পুনর্গঠিত হওয়া ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াল ১৪-তে।
Posted ৪:১৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam