শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

জেল খেটেও এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের সিইও!

  |   সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   212 বার পঠিত

জেল খেটেও এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের সিইও!

জেল খেটেও এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের সিইও!

এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সে যোগ দিয়েই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচারকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হন কোম্পানিটির বর্তমান মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বদিউজ্জামান লস্কর। এই মামলার আসামি হয়ে খাটেন জেলও। কোম্পানিটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে দেয়া প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) তদন্ত কমিটি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালের ০৮ নভেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৬ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা মূল্যমানের বিদেশি মুদ্রা মালয়েশিয়া পাচারকালে এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের কর্মকর্তা বদিউজ্জামান লস্কর কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হন। কাস্টম হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামানের দায়েরকৃত এজাহারের বর্ণনা মোতাবেক, মো. বদিউজ্জামান লস্করকে ২০১৪ সালের ০৮ নভেম্বর, রাত ১২ টা ৩৫ মিনিটে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশের পর গোপন সংবাদেরভিত্তিতে কাস্টম অফিসারগণ তাকে চ্যালেঞ্জ করে তার দেহ তল্লাশি করে। তার পরিহিত জুতার সোলের ভেতর ইউরো ও কাতার রিয়েল পাওয়া যায় এবং মানিব্যাগে মালয়েশিয়ান ও বাংলাদেশি মুদ্রা পাওয়া যায়; যা টাকার অঙ্কে সর্বমোট ২৬ লক্ষ ১৯ হাজার ৪৫৪ টাকা। তার পাসপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, তিনি একাধিকবার মালয়েশিয়া আসা যাওয়া করেছেন। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করেন।

আইডিআরএ’র তদন্ত কমিটির কাছে বদিউজ্জামান লস্কর বিদেশি মুদ্রাসহ আটক ও কয়েকদিন জেল খাটার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
শুধু তাই নয় মুখ্য নির্বাহী পদে নিয়োগ পেতে আইডিআরএ’তে বদিউজ্জামান লস্কর যে জীবন বৃত্তান্ত দিয়েছেন সেখানে তিনি মাধ্যমিক পাসের সাল উল্লেখ করেছেন ১৯৯২, উচ্চ মাধ্যমিক ১৯৯৪ এবং স্নাতক পাস দেখিয়েছেন ২০২৩ সালে। তবে ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোর মুখ্য নির্বাহী পদে অনুমোদনের জন্য বদিউজ্জামান লস্করের জীবন বৃত্তান্তসহ অন্যান্য কাগজপত্র আইডিআরএ জমা দেয়ার পর, ২০ নভেম্বর একটি চিঠিতে জানানো হয় তার উচ্চ মাধ্যমিক পাসের সনদে ফলাফল দ্বিতীয় বিভাগ লেখা থাকলেও এটি মূলত প্রথম বিভাগ হবে। ওই চিঠিতে আইডিআরএ’কে নতুন সনদ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। উচ্চ মাধ্যমিকের ওই সনদ দ্বিতীয় বিভাগ থেকে কীভাবে প্রথম বিভাগ হলো তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে।

সূত্র জানায়, গোপালগঞ্জে বাড়ি হওয়ায় পতিত সরকারের সময় এলাকার পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন জনকে ভয়ভীতি এবং হুমকি ধামকিও দিতেন লস্কর।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৮ জানুয়ারি এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে অনুমোদন পান বদিউজ্জামান লস্কর। এর আগে ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর পরিচালনা পর্ষদের ৩০৫তম সভায় তাকে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষ। সূত্র জানায়, নিয়মানুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নিতে কোন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের দুই তৃতীয়াংশের সম্মতি প্রয়োজন, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সেটা না করে পরিচালনা পর্ষদের সুবিধাভোগী ন্যূনতম সংখ্যক পরিচালকের সম্মতিতে বদিউজ্জামানের নিয়োগ অনুমোদনের নথিপত্র পাঠানো হয়েছে। দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি পরিচালক বদিউজ্জামানের নিয়োগের বিষয়ে অসম্মতি প্রদান করলেও মতামতের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। যা নিয়ে পরিচালকদের মধ্যে চরম বিভক্তি ও ক্ষোভ বিরাজমান ছিল।
সূত্র জানায়, কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) ডামি কর্মকর্তার নামে ০৬টি অফিস নেন লস্কর। এসব অফিসের কার্যক্রম পরোক্ষভাবে লস্করের দ্বারা পরিচালিত। যার সাংকেতিক নাম বিএল।

এই অফিসগুলোর বিপরীতে ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অপরিশোধিত প্রিমিয়াম বা বকেয়া ব্যবসা ছিল এক কোটি সত্তর লক্ষ একাত্তর হাজার একান্ন টাকা। অথচ এই বিপুল বকেয়া ব্যবসার দায় মাথায় নিয়ে এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পান লস্কর।

এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সে লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের ডিএমডি নাকিবুর রহমান খানসহ ৪ জনের স্বাক্ষরিত আউটস্ট্যান্ডিং স্টেটমেন্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালে বদিউজ্জামান লস্করের অপরিশোধিত ১,৫১,৩৯৩ টাকা, ২৩ অক্টোবর ২০২৩ পর্যন্ত বাকি ৪৭,১৯,৯৬০ টাকাসহ মোট ৪৮,৭১,৩৫৩ (আটচল্লিশ লক্ষ একাত্তর হাজার তিনশত তিপ্পান্ন টাকা) বকেয়া। পরোক্ষভাবে বদিউজ্জামান লস্করের পরিচালিত ০৬টি ফাহমিদা জাহান পপি ইউনিট ৫, ইভিপি, (বিএল) মোট অপরিশোধিত টাকা ১৪,৫৩,৮৯৮, জিয়াউর রহমান মজুমদার ইউনিট ০৯ এসইভিপি(বিএল) টাকা ১১,৪৩,৫৫৩, আবু ছাইদ শাহিন ইউনিট ১১ ইভিপি, (বিএল)টাকা ০০, শারমিন মোস্তারি ইউনিট ১৬ ইভিপি, (বিএল) টাকা ৬,১৭,১১১, ইউসুফ রেজা ইউনিট ২১ জিএম, (বিএল) টাকা ৩,২৪,৫২৪, এবং নাসিরুল ইসলাম ইউনিট ২২ ইভিপি (বিএল) টাকা,৮,৫৩ ৬৬২, নিয়ে বিএল এর সর্বমোট অপরিশোধিত দায়ভার ছিল ১,৭০,৭১,০৫১/-টাকা (এক কোটি সত্তর লক্ষ একাত্তর হাজার একান্ন টাকা)।

এসব বিষয়ে এবং মামলার সর্বশেষ তথ্য জানতে বদিউজ্জামান লস্করের বক্তব্য জানতে টেলিফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া মেলেনি। তবে কোম্পানি সেক্রেটারি মহিউদ্দিন খন্দকার বলেন, আমার জানা মতে উনি কাকরাইল ব্রাঞ্চের প্রধান থাকাকালে এসব কোড চালু করেছেন, পরে হয়ত সেগুলো আর রিমুভ হয়নি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৫:০৭ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

জীবন বীমা বাড়ছে
(313 বার পঠিত)
[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com