| বৃহস্পতিবার, ০৩ জুলাই ২০২৫ | প্রিন্ট | 121 বার পঠিত
ইতিহাস গড়ে এশিয়া কাপে বাংলাদেশের মেয়েরা
প্রথমবারের মতো নারীদের এশিয়া কাপ ফুটবলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল বাংলাদেশ। গতকাল ইয়াঙ্গুনে বাছাই পর্বের ম্যাচে স্বাগতিক মিয়ানমারকে ২-১ গোলে হারিয়ে মূল পর্বে খেলার টিকিট পায় লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।
মিয়ানমারকে হারিয়ে নিজেদের কাজটুকু সেরে রাখেন ঋতুপর্ণা চাকমা ও আফঈদা খন্দকাররা। দিনের অন্য ম্যাচে বাহরাইন ও তুর্কমেনিস্তান ২-২ গোলে ড্র করায় বাংলাদেশের মূল পর্বে খেলার টিকিট নিশ্চিত হয়ে যায়। এতেই নারী ফুটবলে রচিত হয় নতুন ইতিহাস। এই প্রথম নারীদের এশিয়া কাপের মূল পর্বে খেলবে বাংলাদেশ। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দল প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ খেলেছিল। এরপর আর কখনো বাংলাদেশের কোনো জাতীয় দল এশিয়া কাপে খেলতে পারেনি। বর্তমানে ছেলেরা ২০২৭ এশিয়া কাপের বাছাই পর্ব খেলছে। প্রথম দুই ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া-হামজা চৌধুরীদের চূড়ান্ত পর্বে ওঠার পথ এ মুহূর্তে কঠিন।
ঋতুপর্ণার জোড়া গোলে মিয়ানমারকে হারায় বাংলাদেশ। গত বছর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা খেলোয়াড় গতকাল গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জ্বলে ওঠেন। বাংলাদেশের হয়ে দুটি গোলই করেন তিনি। ম্যাচের ১৯ মিনিটে প্রথমটি ও ৭০ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন রাঙ্গামাটির এ কৃতী সন্তান। ৮৯ মিনিটে উইন উইন মিয়ানমারের সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন।
গতকাল গ্রুপের আরেক ম্যাচে বাহরাইন ও তুর্কমেনিস্তান ম্যাচটি ২-২ ড্র হলেই উৎসব শুরু হয়ে যায় বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে। কেননা এ ড্রয়ের পরই সমীকরণ মিলে যায় পিটার বাটলারের দলের। টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপে টেবিলের শীর্ষে থাকা বাংলাদেশের মূল পর্বে খেলা নিশ্চিত।
এ মুহূর্তে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মিয়ানমার। বাহরাইন ও তুর্কমেনিস্তানের সংগ্রহ সমান ১ পয়েন্ট করে। এ দুই দলের একটি করে ম্যাচ বাকি থাকায় কারো সামনে বাংলাদেশের বেশি পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশের সমান পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ আছে কেবল মিয়ানমারের। শনিবার তারা মুখোমুখি হবে বাহরাইনের। একই দিন তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। বাহরাইনের বিপক্ষে মিয়ানমার জিতলে তাদের পয়েন্ট হবে বাংলাদেশের সমান, ৬ করে। কিন্তু হেড টু হেডে বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে যাওয়ায় তাদের সামনে সুযোগ নেই মূল পর্বের মঞ্চে ওঠার।
২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর অলিম্পিক বাছাই পর্বে এই মিয়ানমারের কাছে ৫-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। গতকাল তাদেরই হারাল বাংলাদেশ। এটা বাংলাদেশের নারী ফুটবলের উন্নতির কথাই বলে দিচ্ছে। মিয়ানমার বর্তমানে ফিফা র্যাংকিংয়ে রয়েছে ৫৫ নম্বরে, আর বাংলাদেশ ১২৮ নম্বরে। কিন্তু এই র্যাংকিং যে শুধুই একটা সংখ্যা, সেটা প্রমাণ করে দিলেন ঋতুপর্ণা, মনিকা, আফঈদারা।
সম্প্রতি তিন জাতির টুর্নামেন্টে জর্ডান ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ড্র করার কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ, যারা উভয়ই শক্তি-সামর্থ্যে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল। আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দল এবার চমক দেখাল এশিয়া কাপ বাছাই পর্বে। প্রথমে র্যাংকিংয়ে ৩৬ ধাপ এগিয়ে থাকা বাহরাইনকে ৭-০ গোলে হারিয়ে চমক দেখায় বাংলাদেশ। এবার শক্তিশালী মিয়ানমারকে ২-১ গোলে হারিয়ে এশিয়া কাপের মূল পর্বের টিকিটও নিশ্চিত করল পিটার বাটলারের দল।
বাছাই পর্ব থেকে সবার আগে এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠার কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। চূড়ান্ত পর্বে খেলবে মোট ১২টি দল। এর মধ্যে আগেই জায়গা নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া এবং সর্বশেষ আসরের সেরা তিন জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন। তাদের সঙ্গে যোগ হবে বাছাইয়ের আট গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরা। বাছাই পর্বের বৈতরণী পেরিয়ে সবার আগে এলিটদের সঙ্গী হলো বাংলাদেশ।
২০২৬ সালের ১ থেকে ২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় বসবে মেয়েদের ২১তম এশিয়া কাপ ফুটবল।
মিয়ানমারকে হারানোর পর এশিয়া কাপের টিকিটও ধরা দেয়। উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার বলেন, ‘আমার ছোট্ট ক্যারিয়ারে এটাই সর্বশ্রেষ্ঠ ম্যাচ। অধিনায়ক হিসেবে কতটা ভালো লাগছে, এটা আমি বলে বুঝাতে পারব না। মিয়ানমারকে হারানোর টার্গেট ছিল, আমরা এটা করতে পেরেছি, অনেক ভালো লাগছে। সমর্থকরা আমাদের পাশে থাকায় তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
দলের কুশলী মিডফিল্ডার মারিয়া মান্দা বলেন, ‘সর্বপ্রথম সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। মিয়ানমার অনেক শক্তিশালী দল, এর আগেও তাদের কাছে আমাদের অনেকবার হারতে হয়েছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে গেছি। আমরা যতটুকু পারি, সেভাবে চেষ্টা করেছি। আমাদের পরিকল্পনা ছিল শতভাগ দেয়ার, সেভাবেই আমরা খেলতে পেরেছি। খুব ভালো লাগছে। এটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। যতবার খেলতে এসেছি হেরেছি, এই প্রথম আমরা মিয়ানমারকে হারালাম। খুব ভালো লাগছে। আসলেই এটা মনে রাখার মতো।’
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্বে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেয়ার ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এক অভিনন্দনবার্তায় তিনি বলেন, ‘এই অর্জন শুধু নারী ফুটবলের নয়, বরং গোটা জাতির জন্য গর্বের; এটি আমাদের সম্ভাবনা, প্রতিভা ও অদম্য চেতনার একটি অনন্য উদাহরণ।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা আরো বাড়াবে।
Posted ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৩ জুলাই ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam