শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

“এসবিসি পুনঃবীমা চুক্তির কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করেছে।”

  |   বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   52 বার পঠিত

“এসবিসি পুনঃবীমা চুক্তির কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করেছে।”

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও দেশের নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে পুনঃবীমা চুক্তি (রিইন্স্যুরেন্স ট্রিটি) নবায়নের সনদ এখনো জারি করেনি রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (এসবিসি)।

বিধি অনুযায়ী প্রতি বছর ৩১ মার্চের মধ্যে এসবিসির সঙ্গে বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলোর পুনঃবীমা চুক্তি নবায়ন সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও চলতি বছরে তা অনিশ্চিত অবস্থায় রয়ে গেছে।

চলতি বছরের চুক্তি নবায়নে বকেয়া পুনঃবীমা প্রিমিয়ামের অন্তত ৩০ শতাংশ পরিশোধের শর্ত আরোপ করেছে এসবিসি। এতে বীমা খাতে নতুন করে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

এই প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোববার বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)-এর নেতারা এসবিসির সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। বিআইএ প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আলোচনায় অংশ নেয়।

বৈঠকে বিআইএ’র পক্ষ থেকে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য আরোপিত শর্ত শিথিল করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়, বহু কোম্পানির বীমা দাবি বাবদ অর্থ দীর্ঘদিন ধরে এসবিসির কাছে অনিষ্পন্ন অবস্থায় পড়ে আছে।

প্রতিনিধিদল জোর দিয়ে জানায়, বকেয়া দাবিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে প্রিমিয়ামের সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন। এছাড়া অতিরিক্ত নথিপত্রের চাহিদার কারণে দাবি নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

তবে এসব ইস্যুতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল পুনরায় আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত সমাধান না হলে পুনঃবীমা চুক্তি নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা বীমা খাতে আরও অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে।

এর আগে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের পুনঃবীমা চুক্তি নবায়ন প্রসঙ্গে এসবিসিকে একটি চিঠি প্রদান করেন বিআইএ প্রেসিডেন্ট। চিঠিতে বলা হয়, বকেয়া প্রিমিয়ামের ৩০ শতাংশ পরিশোধ এবং মেরিন কার্গো পলিসির ক্ষেত্রে মাসিক ভিত্তিতে বিবরণী দাখিলের শর্তে বিভিন্ন কোম্পানি আপত্তি জানিয়েছে।

বিশেষ করে, মেরিন কার্গো পলিসিতে মাসিক বিবরণী জমা দেওয়ার শর্তকে অযৌক্তিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ এতে অনেক পলিসি পুনঃবীমা কাভারেজের বাইরে থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা কোম্পানিগুলোর ঝুঁকি বাড়াবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ডলারের ঊর্ধ্বগতি, বৈশ্বিক সংঘাত, ব্যবসায়িক মন্দা এবং অসম প্রতিযোগিতার কারণে বীমা খাতের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান তারল্য সংকটে রয়েছে। এ অবস্থায় যেসব কোম্পানির পুনঃবীমা দাবি বাবদ অর্থ এসবিসির কাছে পাওনা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নবায়নের সময় অতিরিক্ত অর্থ দাবি না করার অনুরোধ জানানো হয়।

বর্তমানে দেশে ৪৫টি বেসরকারি নন-লাইফ বীমা কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কোম্পানির দাবি, সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের কাছে তাদের কয়েক হাজার কোটি টাকার পুনঃবীমা দাবি বকেয়া রয়েছে। অথচ বিধি অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে দাবি নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা বাস্তবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।

এর ফলে গ্রাহকদের দাবি সময়মতো পরিশোধে বীমা কোম্পানিগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী আমানত ভেঙে কিংবা ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে দাবি পরিশোধ করতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এ সংকট নিরসনে ২০২৪ সালের ২০ মে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজন করে। ওই বৈঠকে গৃহীত ১০ দফা সিদ্ধান্তের মধ্যে বকেয়া প্রিমিয়াম ও দাবি ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমন্বয়ের কথা থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

খাত সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পুনঃবীমা প্রিমিয়াম আদায়ে যতটা তৎপর এসবিসি, তার তুলনায় দাবি নিষ্পত্তিতে ধীরগতি স্পষ্ট। বিদেশি পুনঃবীমা কোম্পানিগুলো যেখানে দ্রুত দাবি নিষ্পত্তি করে, সেখানে অপ্রয়োজনীয় নথিপত্রের অজুহাতে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি করছে রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংস্থাটি।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে পুনঃবীমা চুক্তি সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা পুরো বীমা খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

জীবন বীমা বাড়ছে
(313 বার পঠিত)
[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com