দেশের অন্যতম শীর্ষ জীবনবীমা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির গৌরবোজ্জ্বল অগ্রযাত্রার ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে কোম্পানির কাওরান বাজারে অবস্থিত প্রধান কার্যালয় এনএলআই টাওয়ারে বেলুন উড়ানো, কেক কাটা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কোম্পানির চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক তাহের, পরিচালক রাজিয়া সুলতানা, পরিচালক নাহরীন রহমান, পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মাসুদ হোসেন, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাজিম উদ্দিন, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিএফও প্রবীর চন্দ্র দাস এফসিএসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ উপলক্ষে চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ১৯৮৫ সালের ২৩ এপ্রিল দেশের প্রথম বেসরকারি জীবনবীমা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ন্যাশনাল লাইফের যাত্রা শুরু হয়। ন্যাশনাল লাইফের পথ অনুসরণ করে পরবর্তীতে দেশে অনেক বেসরকারি জীবনবীমা কোম্পানি গড়ে ওঠে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বীমা খাত দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। বীমার প্রিমিয়াম থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ন্যাশনাল লাইফ জনগণের মধ্যে সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। পরে চেয়ারম্যান, পরিচালকবৃন্দ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সাল পর্যন্ত ন্যাশনাল লাইফ প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহককে বীমা সেবার আওতায় এনেছে। প্রতিষ্ঠানটি মোট ২১,৩২০ কোটি টাকা প্রিমিয়াম আয় করেছে এবং প্রায় ১২,২২০ কোটি টাকা দাবি পরিশোধ করেছে। এর লাইফ ফান্ড দাঁড়িয়েছে ৭,০১৮ কোটি টাকা, মোট সম্পদ ৭,৭৫১ কোটি টাকা এবং বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৬,২৪১ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৫,০০০ বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সর্বোচ্চ বীমা দাবি পরিশোধের স্বীকৃতিস্বরূপ কোম্পানিটি ২০২৩ ও ২০২৪ সালে টানা দুইবার বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় সম্মাননা লাভ করেছে। পাশাপাশি শীর্ষ করদাতা হিসেবে স্বীকৃতি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য দেশি-বিদেশি বহু পুরস্কার অর্জন করেছে।