| বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 70 বার পঠিত
বীমা কোম্পানির লাইসেন্স নবায়নকে কেন্দ্র করে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-এর বিরুদ্ধে অযৌক্তিক দেরির অভিযোগ উঠেছে। নবায়ন ফি বৃদ্ধি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময় পার হলেও বেসরকারি খাতের ৮০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৭টির লাইসেন্স এখনো হালনাগাদ হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত বিধান অনুসারে কোম্পানিগুলো ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ২০২৬ সালের লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন জমা দেয় এবং ফি পরিশোধ করে। কিন্তু ২০২৬ সালে বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে নবায়ন ফি বাড়ানো হলে আইডিআরএ নতুন হারে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে। এতে আপত্তি জানিয়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান পুরনো হারেই ফি প্রদান করলেও তাদের লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়।
বীমা কোম্পানিগুলোর বক্তব্য, তারা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফি পরিশোধ করেছে। ফলে পরবর্তীতে সংশোধিত বিধি অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) অতিরিক্ত ফি ছাড়াই লাইসেন্স নবায়নের অনুরোধ জানালেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং বিষয়টি নিয়ে আইনি মতামত ও দিকনির্দেশনা চেয়ে আইডিআরএ অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে চিঠি প্রেরণ করেছে।
গত ২৬ এপ্রিল আইডিআরএ’র উপপরিচালক (নন-লাইফ) মো. সোলায়মান স্বাক্ষরিত ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জারি করা সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী লাইসেন্স নবায়ন ফি প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ অধিকাংশ কোম্পানি পূর্বের হার অনুযায়ী প্রতি হাজারে ১ টাকা দিয়ে আবেদন করেছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালে লাইসেন্স ফি ৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ১ টাকা নির্ধারণ করায় সংস্থাটির আয় হ্রাস পায়। অন্যদিকে জনবল বৃদ্ধি, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের কারণে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে ফি বৃদ্ধি অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
আইডিআরএ’র তথ্য অনুযায়ী, বর্ধিত হারে ফি প্রদান করে ইতোমধ্যে ৪টি লাইফ ও ৯টি নন-লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নবায়ন সম্পন্ন করেছে। তবে বাকি ৬৭টি প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ফি প্রদান না করায় তাদের লাইসেন্স ঝুলে রয়েছে।
বীমা আইন, ২০১০ অনুযায়ী পরবর্তী বছরের লাইসেন্স নবায়নের আবেদন ও ফি পূর্ববর্তী বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হয়। সে অনুযায়ী কোম্পানিগুলো ২০২৫ সালের মধ্যেই ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত ফি প্রদান করে।
কিন্তু ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সংশোধিত বিধিমালায় নবায়ন ফি বাড়িয়ে প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১ টাকা থেকে ২ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়—যা বর্তমান বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
কোম্পানিগুলোর দাবি, ফি জমা দেওয়ার সময় পুরনো বিধিমালাই কার্যকর ছিল, তাই পরবর্তীতে নতুন হার প্রয়োগ করে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা যৌক্তিক নয়।
অন্যদিকে আইডিআরএ বলছে, সংস্থাটির সব ব্যয় নিজস্ব আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ২০১৮ সালে ফি কমানোর ফলে আয় কমে যায়, আর সাম্প্রতিক সময়ে জনবল বৃদ্ধি, ডিজিটাল রূপান্তর এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের কারণে ব্যয় বেড়েছে। এ কারণে নতুন ফি কাঠামো কার্যকর করা হয়েছে।
তবে সংস্থাটি স্বীকার করেছে যে, ফি পুনর্নির্ধারণে দেরি এবং অংশীজনদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা প্রক্রিয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মাত্র ১৩টি প্রতিষ্ঠান বর্ধিত ফি দিয়ে নবায়ন করেছে, আর বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স অনিশ্চয়তায় রয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, লাইসেন্স নবায়নে বিলম্ব হলে কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম, নতুন ব্যবসা গ্রহণ এবং গ্রাহক আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইডিআরএ অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে আইনি মতামত ও দিকনির্দেশনা চেয়েছে। ২৬ এপ্রিল পাঠানো চিঠিতে ২০২৬ সালের জন্য কোন হারে নবায়ন ফি কার্যকর হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এদিকে বর্ধিত ফি বাতিলের দাবিতে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তনয় কুমার সাহা জনস্বার্থে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারির সংশোধনী বাতিল এবং ২০১৮ সালের ফি কাঠামো বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিরোধ মূলত “রেট্রোস্পেকটিভ প্রয়োগ” বা পূর্ববর্তী সময়ের ওপর নতুন আইন প্রয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি জমা দেওয়ার পর নতুন হার আরোপ করলে তা আইনি জটিলতার জন্ম দিতে পারে।
তারা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সমাধান না হলে বীমা খাতে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
Posted ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam