| বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | 35 বার পঠিত
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমপোর্ট কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে সংঘটিত অগ্নিকান্ডের তদন্ত প্রতিবেদন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের প্রতিবেদন চেয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স সার্ভেয়র্স অ্যাসোসিয়েশন।
গত ২৯ এপ্রিল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের কাছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে সংগঠনটি জানায়, ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর সংঘটিত ওই অগ্নিকান্ডে দেশের বীমা কোম্পানিগুলোর কাছে বিভিন্ন আমদানিকারক ও পণ্যের মালিকরা ক্ষতিপূরণের দাবি দাখিল করেছেন। এসব দাবি মূল্যায়নের জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত সার্ভেয়ররা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অগ্নিকান্ডের পর বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং তুরস্কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি কারিগরি তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণও করা হয়েছে।
সার্ভেয়র্স অ্যাসোসিয়েশন বলছে, বীমা দাবির সঠিক মূল্যায়নের জন্য এই তদন্ত প্রতিবেদন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অফিসিয়াল (আনুষ্ঠানিক) প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে ক্ষয়ক্ষতির কারণ, মাত্রা ও অবস্থান সম্পর্কে নির্ভুল ধারণা পাওয়া যাবে, যা সার্ভেয়ারদের পেশাগত মূল্যায়নকে আরও নির্ভরযোগ্য করবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বীমা আইন ২০১০ অনুযায়ী সার্ভেয়রদের দায়িত্ব হলো ক্ষয়ক্ষতির কারণ ও পরিমাণ সম্পর্কে স্বাধীন মতামত প্রদান করা। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রযুক্তিগত তথ্য ও যাচাইকৃত প্রতিবেদন বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
সার্ভেয়র্স অ্যাসোসিয়েশন অঙ্গীকার করেছে, প্রাপ্ত প্রতিবেদনগুলো শুধু পেশাগত ও দাবি মূল্যায়নের কাজে ব্যবহার করা হবে এবং গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে।
চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স সার্ভেয়র্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এন এম খোরশেদ আলম ব্যাংক বীমা অর্থনীতিকে বলেন, বীমা দাবির সঠিক মূল্যায়নের জন্য তুরস্কের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে যে কারিগরি তদন্ত এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণ হয়েছে তার একটি প্রতিবেদন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রতিবেদন আমরা চেয়েছি। এটি না পেলে বীমা দাবি নিষ্পত্তি করা কঠিন হবে। সরকারি এই তদন্ত প্রতিবেদন না পেলে গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধযোগ্য কি না তা আমরা প্রত্যয়ন করতে পারছি না। কারণ, বিমানবন্দরের ইমপোর্ট কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে পণ্যগুলো বিভিন্ন অবস্থানে ছিল। এরমধ্যে কোন প্রতিষ্ঠানের কি পরিমাণ পণ্য ছিল, কতটা খালাস হয়েছে অথবা হয়নি- তা সুনির্দিষ্ট করতে না পারলে বীমা দাবি নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। জরিপকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বীমা দাবির বিষয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রত্যয়ন ও মতামত দিতে হয়। এটি দিতে হলে সঠিক ডকুমেন্টস প্রয়োজন। সে জন্যই আমরা সরকারের কাছে প্রতিবেদনগুলো চেয়েছি। বীমা কোম্পানিগুলো যদি পুনঃবীমা কোম্পানির কাছে দাবি চায় সেক্ষেত্রে এসব প্রয়োজন। সরকারি প্রতিবেদন পেলে আমাদের জন্য এটি সহজ হবে।
কে এন এম খোরশেদ আলম জানান, জরিপকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কার্গো ভিলেজ পরিদর্শন করলেও কোনো পণ্য পায়নি। পোড়া চিহ্নের ছবিই শুধু তুলে এনেছেন তারা। যে কারণে তারা ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণও করতে পারেননি। কিন্তু বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে আমদানি সংক্রান্ত সকল নথিপত্র রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে যা পাওয়া যাবে এবং বীমা দাবি সম্পর্কিত মতামত দেয়া সহজ হবে।
Posted ৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam