| বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | 42 বার পঠিত
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বীমা বাজার চলতি বছর প্রায় ৩ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭৪ লাখ কোটি টাকার সমান (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে)।
একইসঙ্গে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের বীমা খাত গড়ে বার্ষিক ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ হারে বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কেট ডাটা ফোরকাস্ট। এতে ২০৩৪ সালে বাজারের আকার দাঁড়াতে পারে প্রায় ৯ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ হাজার ১৯৩ লাখ কোটি টাকায়।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বলতে সাধারণত পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশগুলোকে বোঝানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর বিস্তার, আয় বৃদ্ধি, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বীমা সংক্রান্ত আইনি সংস্কার- ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পদ্ধতিকে নতুন রূপ দিচ্ছে। ফলে বীমা গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে।
অস্ট্রেলিয়ায় সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রক সংস্কারের ফলে গ্রাহক সুরক্ষা জোরদার হয়েছে। অন্যদিকে ভারতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইআরডিএআই গ্রামীণ ও আধা-শহরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে বীমার আওতায় আনতে ডিজিটাল কর্মসূচি চালু করেছে।
ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ অ্যাপ্লায়েড ইকোনমিক রিসার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দশ বছরে ভারতের শহরাঞ্চলে বীমার প্রসার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
একই ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে, যেখানে মোটর ও স্বাস্থ্য বীমার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
চীনে উচ্চ আয়ের জনগোষ্ঠী বিনিয়োগ-সংযুক্ত ও সম্পদ সুরক্ষা বীমার দিকে ঝুঁকছে। অন্যদিকে জাপানের বড় বীমা কোম্পানিগুলো দাবি নিষ্পত্তি ও ঝুঁকি মূল্যায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার শুরু করেছে।
তবে এ অঞ্চলের বীমা খাতের সামনে এখনো কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) উল্লেখ করেছে -বিশেষ করে ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো দেশে অনানুষ্ঠানিক খাতে ( ৬০ শতাংশের বেশি) বিপুল কর্মসংস্থান থাকায় অনেক মানুষ এখনো প্রচলিত বীমা সেবার বাইরে রয়ে গেছেন।
এ ছাড়া গ্রামীণ অঞ্চলে আর্থিক সচেতনতার ঘাটতি, দুর্বল বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন নিয়ন্ত্রক কাঠামোও বাজার সম্প্রসারণে বাধা হিসেবে কাজ করছে।
Posted ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam