| বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ | প্রিন্ট | 82 বার পঠিত
বীমাকে আরো গ্রহণযোগ্য ও সহজলভ্য করতে কাজ করছি
গত দেড় দশকে দেশের বীমা খাত সম্প্রসারিত হলেও এ খাতের আর্থিক ভিত্তি কতটা শক্তিশালী হতে পেরেছে?গত দেড় দশকে বাংলাদেশের বীমা খাতের সম্প্রসারণ ঘটেছে, তবে এর আর্থিক ভিত্তি এখনো আশানুরূপভাবে সুগঠিত হয়নি। দেশের মোট জিডিপির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে, বীমা খাতের অবদান দশমিক ৫ শতাংশেরও কম। এতে করে বোঝা যায়, এ খাতের অবদান এখনো দেশের অর্থনীতিতে অপর্যাপ্ত। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বীমা খাতে অনেকগুলো বিধিবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বীমার সামগ্রিক অবকাঠামোতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে, যেমন ব্যাংকান্স্যুরেন্স, রেগুলেটরি স্যান্ডবক্স, করপোরেট গভর্ন্যান্স ও বীমা গ্রাহক সুরক্ষা গাইডলাইনস। কিন্তু এ খাতের বিকাশ দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সমানতালে হয়নি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়নে বীমা খাতের অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা মনে করছি দেশের সামগ্রিক বীমা খাতের মানোন্নয়নের জন্য এ খাতে নতুন বাজার সৃষ্টি ও অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব করার সুযোগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। আরো প্রয়োজন দক্ষ নেতৃত্ব, সুশাসন ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা।বীমা দাবি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়া কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন?
বীমা দাবি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ অবশ্যই নেয়া প্রয়োজন, কিন্তু তার আগে বীমা দাবির সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে ঢেলে সাজানো দরকার। প্রথমত, বীমা দাবিগুলো একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের মাধ্যমে উত্থাপন ও নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এতে উত্থাপিত বীমা দাবি এবং তা নিষ্পত্তির হালনাগাদ তথ্য কর্তৃপক্ষের নজরে থাকবে এবং সে অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারবে। এছাড়া কর্তৃপক্ষের মানবসম্পদ ও প্রযুক্তি খাতে আরো সক্ষমতা অর্জন করা দরকার, যেন তারা বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
যেসব প্রতিষ্ঠান বীমা দাবি পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া দরকার। কী কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো বীমা দাবি পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে তা নিরূপণ করার জন্য স্বাধীন তদন্ত করা যেতে পারে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারীকৃত ‘রিস্ক বেইজড সুপার ভিশন’ গাইডলাইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দেশের বীমা খাতে আপনাদের কোম্পানির অবস্থান কেমন?
আমরা গ্রাহকের প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বীমা সেবার মানোন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বীমা দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আমরা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখার চেষ্টা করছি। এরই অংশ হিসেবে আমরা মাত্র তিনদিনে ৯৫ শতাংশ বীমা দাবি নিষ্পত্তি করছি। এ সময় আরো কমিয়ে আনতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। বলা চলে, গ্রাহকের আস্থা বজায় রাখতে আমরা সবসময়ই প্রত্যয়ী। একই সঙ্গে আমরা বীমাকে আরো গ্রহণযোগ্য ও সহজলভ্য করতে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা মনে করি, দেশের প্রতিটি নাগরিকেরই বীমা সেবা গ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত। এরই ফলে মাইক্রো-ইন্স্যুরেন্সের আওতায় দেশের ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষকে বীমা সেবার আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি আমরা। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমানে আমরাও অনলাইন এবং অ্যাপ-ভিত্তিক গ্রাহকসেবা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছি। ক্যাশলেস ফ্যাসিলিটিজের মাধ্যমে আমাদের গ্রাহকরা গার্ডিয়ান অ্যাপ এবং ২৪/৭ হেল্পলাইনের (১৬৬২২) মাধ্যমে পার্টনার হাসপাতাল থেকে নিতে পারছেন নির্বিঘ্ন স্বাস্থ্যসেবা কোনো পেমেন্ট ছাড়াই। এছাড়া গ্রাহকের প্রয়োজনের কথা ভেবে গার্ডিয়ান নিয়ে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ও টেলিমেডিসিন সেবা।
বাজেটে বীমা খাতের জন্য আপনাদের প্রত্যাশা কী?
আসন্ন বাজেটে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর থেকে করপোরেট ট্যাক্স কমানো যেতে পারে, যা এ খাতে উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের জন্য অনুপ্রাণিত করবে। এছাড়া বর্তমানে পলিসিহোল্ডারদের লভ্যাংশের ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপ করা হয়, এ কর প্রত্যাহার করলে পলিসিহোল্ডাররা আরো বেশি উৎসাহিত হবে। বাজেটে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা প্রদান করার ব্যাপারে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে বীমা সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন, এক্ষেত্রে সরকার প্রতিশ্রুতিশীল বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নীতিগত সহায়তা প্রদান করতে পারে। তাছাড়া গ্রাহকসেবা সহজ ও ত্বরান্বিত করতে ডিজিটাল স্ট্যাম্প এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রণয়ন করা উচিত বলে আমরা মনে করি।
বীমা খাতের সংকট কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সরকারের কাছে কী ধরনের সহায়তা প্রত্যাশা করছেন?
আমাদের প্রত্যাশা সরকার ইন্স্যুরেন্সের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং বীমা খাতে কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা কমিয়ে নিয়মাবলি সহজ করবে যাতে করে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো আরো সহজে তাদের সেবা প্রদান করতে পারে। এছাড়া ব্যাংকান্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্ব করার সীমাবদ্ধতা তুলে নেয়া প্রয়োজন। ডিজিটাল ইন্স্যুরেন্স নিয়ে প্রচারণা এবং ইন্স্যুরেন্স ইন্ডাস্ট্রিতে বিকল্প ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলের প্রতি গুরুত্বারোপ করা আবশ্যকীয়। আরো উল্লেখ্য, বর্তমানে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো এনজিওর মাধ্যমে মাইক্রো-ইন্স্যুরেন্স কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারের বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি মাইক্রো-ইন্স্যুরেন্স পরিচালনার অনুমতি দেয়া, তাহলে বীমার সুবিধা আরো বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে। এবং সেই সঙ্গে আমাদের আশা থাকবে নতুন বীমা পরিকল্পনাগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়া আরো দ্রুত, সহজ এবং সময়োপযোগী হবে, যা বীমা খাতের বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে এবং দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে আরো শক্তিশালী করবে। গোষ্ঠী বীমা ও তাকাফুল বীমার জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে সুনির্দিষ্ট প্রবিধান প্রণয়ন করে এ খাতে শৃঙ্খলা আনা প্রয়োজন।
বীমা খাত একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে আরো ব্যাপক পরিসরে অবদান রাখতে পারে। তবে এ খাতে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে এবং তাদের পেশাগত উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের ভূমিকা রাখা উচিত। একই সঙ্গে বীমা খাতের উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির জন্য সরকারের গবেষণা উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন, যেন এ খাতে নিত্যনতুন পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করা যায়। পাশাপাশি বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণ আরো বাড়ানো প্রয়োজন। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই বীমা খাতের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করছি আমরা।
Posted ৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam