শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

কৃষি কমিশন গঠন ও বীমা চালুর প্রস্তাব অংশীজনদের

  |   মঙ্গলবার, ০৬ মে ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   111 বার পঠিত

কৃষি কমিশন গঠন ও বীমা চালুর প্রস্তাব অংশীজনদের

কৃষি কমিশন গঠন ও বীমা চালুর প্রস্তাব অংশীজনদের

বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষক-খামারিরা প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অথচ কৃষি বীমার আওতায় থাকলে তারা নিজেদের পুঁজির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হতেন। তাছাড়া কৃষি উপকরণ আমদানি করতে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কৃষককে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য একটি কৃষি কমিশন গঠন এবং কৃষি বীমা চালুর প্রস্তাব করেছেন অংশীজনরা। গতকাল রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা ও প্রাণ-প্রকৃতি সম্মেলন ২০২৫’-এ আলোচকদের বক্তব্যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া এ সম্মেলন তিনটি পৃথক অধিবেশনে বিভক্ত ছিল। সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তা সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ‘খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষকের ন্যায্যতা’ শিরোনামে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এ সেশনে সম্মানিত অতিথি ছিলেন কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. জাহাঙ্গীর আলম, টি কে গ্রুপের গ্রুপ ডিরেক্টর মোহাম্মাদ মুস্তাফা হায়দার, এসিআই এগ্রিবিজনেস ডিভিশনের প্রেসিডেন্ট ড. এফএইচ আনসারী এবং ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কৃষিতে ব্যবহৃত বালাইনাশকের ৯০ শতাংশের বেশি আমদানি করতে হয়। অথচ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এ নিয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে। দেশেই তা উৎপাদনের ব্যবস্থা করলে কৃষক ৩০-৪০ শতাংশ কম মূল্যে বালাইনাশক ক্রয় করতে পারবেন। কৃষি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানিসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে কৃষকসহ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছে। এ সংকট থেকে উত্তরণের পাশাপাশি কৃষিকে নিরাপদ ও লাভজনক করতে হলে একটি কৃষি কমিশন গঠন করা জরুরি।’

‘কৃষি উৎপাদন ও প্রাণ-প্রকৃতি’ বিষয়ে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় অধিবেশন। এ অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এ অধিবেশনে সম্মানিত অতিথি ছিলেন অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। এছাড়া এতে প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন মাল্টিমোড গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, আইইউবিএটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রব, বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সহসভাপতি খুশি কবীর এবং গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তোফাজ্জল ইসলাম।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষি খাতে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণের জন্য নির্ধারণ করে দিলেও অধিকাংশ বেসরকারি ব্যাংক তা মানছে না। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে কীভাবে সাধারণ কৃষক আরো বেশি সুবিধা নিতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিশেষায়িত ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ নিয়ম থাকতে হবে।’

দিনের তৃতীয় ও শেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ‘খাদ্যের বাজার, সরবরাহ ও দেশজ সক্ষমতা’ বিষয়ে। এ অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল, কাজী ফার্মস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান, কোয়ালিটি ফিডস লিমিটেডের গ্রুপ করপোরেট অ্যান্ড লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স পরিচালক এম সাফির রহমান, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেডের (স্বপ্ন) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার পারভেজ সাইফুল ইসলাম এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

তৃতীয় অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে কৃষকদের পুঁজির নিরাপত্তার জন্য কৃষি বীমা চালুর প্রস্তাব দিয়ে কোয়ালিটি ফিডস লিমিটেডের গ্রুপ করপোরেট অ্যান্ড লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স পরিচালক এম সাফির রহমান বলেন, ‘খামারিদের জন্য কোনো কৃষি বীমা নেই। বীমা থাকলে কিন্তু তারা পুঁজিটা ফিরে পেতেন। তারা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও কোনোভাবে টিকে থাকতে পারতেন। সরকারের কাছে অনুরোধ করব, কৃষি বীমার ব্যবস্থা করুন। তারাই আমাদের মেরুদণ্ড। তারা ধসে পড়ছেন।’

দাম নির্ধারণ থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তাব দিয়ে কাজী ফার্মস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান বলেন, ‘২০২৪ সালের মার্চে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে ডিম ও ফিড কী দামে বিক্রি হবে তা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। এটি নির্ধারণ করার পর ডিম ও মুরগির উৎপাদন কমে গেল। ফিড ও মুরগির বাচ্চাতেও দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। দাম নির্ধারণ করার নীতি এ খাতের জন্য ভালো হবে না। এটি বাজারের ওপর ছেড়ে দিলে সরবরাহ বেশি হবে এবং দাম স্থিতিশীল থাকবে।’

অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নীতি ঠিক করার প্রস্তাব রেখে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা যারা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় আছি, তাদের চাপ না দিয়ে সহযোগিতা করুন। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা না করে সরকার অনেক সময় বিভিন্ন আইন পাস করে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে অংশীজনদের কথা সরকারের সংশ্লিষ্টরা শোনেন না। কিন্তু এটা হওয়া দরকার।’

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একত্রিত করে সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান। তিনি বলেন, ‘বৃহৎ ব্যবসায়ীদের ছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যেমন চলতে পারবে না, তেমনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ছাড়া বৃহৎ ব্যবসায়ীরাও অচল। এ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একত্রিত করে সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত করতে হবে। এতে পণ্যের সরবরাহ ও বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এটি করা গেলে সিন্ডিকেট নামে কোনো কিছু আর গড়ে উঠবে না।’

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৬ মে ২০২৫

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

জীবন বীমা বাড়ছে
(315 বার পঠিত)
[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com