| রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫ | প্রিন্ট | 120 বার পঠিত
কলম্বো টেস্টে হারের পর নেতৃত্ব ছাড়লেন শান্ত
কলম্বো টেস্টে গতকাল চতুর্থ দিন ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ৬ উইকেটে ১১৫ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা সফরকারী দল ১৩৩ রানে গুটিয়ে যায়। ইনিংস ও ৭৮ রানের জয় পায় শ্রীলংকা। এর মধ্য দিয়ে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ও নিশ্চিত করল সিংহলিজরা। ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্র হার দিয়েই শুরু হলো বাংলাদেশের। এ হারের পরই টেস্ট দলের নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। অবশ্য দলের ব্যর্থতার দায় নিয়ে নয়, বরং তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক তত্ত্বের কারণেই তিনি সরে দাঁড়ালেন।
সিদ্ধান্তটি যে ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি নিয়ে নয়, সেটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শান্ত বলেছেন, ‘আমি আশা করব, কেউ যেন এ রকম না মনে করে যে আমি ব্যক্তিগত কোনো কারণে বা রাগ থেকে সিদ্ধান্তটা নিয়েছি। এটা আমি নিশ্চিত করলাম এটা দলের ভালোর জন্য, এখানে ব্যক্তিগত কিছু নেই।’
পরে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগকে বেশ কয়েকদিন আগেই এ সিদ্ধান্তের কথা তিনি জানিয়েছেন।
শান্তকে তিন সংস্করণের অধিনায়ক করা হয়েছিল গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি। গত বছর মে মাসে টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব দেয়া হয় লিটন দাসকে, শান্ত থেকে যান টেস্ট আর ওয়ানডের অধিনায়ক। সর্বশেষ গত ১২ জুন বিসিবি তার জায়গায় মিরাজকে ওয়ানডের অধিনায়ক ঘোষণা করে। শান্ত হয়ে যান শুধুই টেস্ট অধিনায়ক।
শান্তই বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, বাংলাদেশ দলে তিন সংস্করণে তিন অধিনায়কের ধারণাকে তিনি সমর্থন করেন না। তার মত ছিল, তিন সংস্করণে একজন অধিনায়ক রাখাই ভালো। যদিও ব্যাটিংয়ে মনোযোগী হতে না পেরে টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব তিনি নিজেই ছেড়ে দেন।
নেতৃত্ব পাওয়ার পর ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ সামনে রেখে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিলেন শান্ত। কিন্তু হঠাৎই ওয়ানডের নেতৃত্ব থেকে তাকে সরিয়ে দেয়া হয়। মিরাজের নেতৃত্বেই শ্রীলংকায় ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। ২ জুলাই শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ। এরপর লিটন দাসের নেতৃত্বে দ্বীপদেশে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে টাইগাররা।
২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরপরই বাংলাদেশ সফরে আসে নিউজিল্যান্ডে ক্রিকেট দল। তাদের বিপক্ষে হোম সিরিজ সামনে রেখে টেস্টের নেতৃত্ব পান শান্ত। সেই থেকে তার নেতৃত্বে ১৪টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ দল। তার সময় বাংলাদেশ জিতেছে চারটি, যার মধ্যে গত বছর পাকিস্তানের মাটিতে ২-০-তে সিরিজ জয় ছিল ঐতিহাসিক। কারণ, এর আগে পাকিস্তানের মাটিতে তো দূরে থাক, কোনো টেস্টেই পাকিস্তানকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ দল। এ সময় দল হেরেছে নয়টি ম্যাচে এবং ড্র হয় বাকি একটি ম্যাচ। চলতি সিরিজেই গল টেস্টে তার জোড়া সেঞ্চুরিতে ড্র করতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ দল।
অধিনায়ক হিসেবেই তিনি ব্যাট হাতে ভালো পারফর্ম করেছেন। অধিনায়ক হওয়ার আগে টেস্ট গড় ২৯.৮৩ থাকলেও নেতৃত্ব নেয়ার পর সেটি বেড়ে হয় ৩৬.২৪। আর যে চারটি টেস্টে তার অধীনে খেলেছে বাংলাদেশ, সেগুলোতে তার ব্যাটিং গড় ৩৭.১৬।
১৫৪ টেস্টের ইতিহাসে মাত্র ২৩টি জয় বাংলাদেশের। সেই তুলনায় শান্তর অধীনে ১৪ টেস্টে চার জয় ঈর্ষণীয় সাফল্যই।
এছাড়া মুশফিকুর রহিমের অধীনে ৩৪ টেস্টে ৭ জয়, সাকিব আল হাসানের অধীনে ১৯ টেস্টে ৪ জয়, মুমিনুল হক সৌরভের অধীনে ১৭ টেস্টে ৩ জয় এবং হাবিবুল বাশার, মাহমুদউল্লাহ, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও মাশরাফি বিন মর্তুজার অধীনে একটি করে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। শতভাগ সফলতা কেবল মাশরাফির। তার নেতৃত্বে একটি টেস্ট খেলে জয় পায় বাংলাদেশ। আর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে মিরাজের অধীনে দুটি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ, যার একটিতে জয় পায় টাইগাররা। অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স হাবিবুল বাশারের। তার সময় (২০০৪-০৭) বাংলাদেশ দল ১৮ টেস্ট খেলে মাত্র একটি জয় পায়। এছাড়া খালেদ মাসুদ পাইলটের অধীনে ১২ টেস্টে কোনো জয় পায়নি বাংলাদেশ, হার ছিল ১২টিতেই।
Posted ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam