| রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 91 বার পঠিত
মাঠে নামবে দুটি ক্রিকেট দল, বল-ব্যাটের পরিচিত খেলা। কিন্তু যখন দল দুটি ভারত ও পাকিস্তান, তখন দৃশ্যপট সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। সেটা আর কেবল ২২ গজের প্রতিযোগিতায় আটকে থাকে না, রূপ নেয় যুদ্ধের—ক্রিকেট যুদ্ধের। সেখানে প্রতিটি রান, প্রতিটি উইকেট, প্রতিটি মুহূর্ত দুই দেশের কোটি কোটি মানুষের জাতিগত সম্মান আর আবেগের স্নায়ুচাপ বহন করে। এখানে ব্যাট ও বলের লড়াইয়ের চেয়েও কখনো কখনো বড় হয়ে ওঠে মন ও ইচ্ছাশক্তির প্রতিযোগিতা। আজ এশিয়া কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দলের লড়াইটিও এর ব্যতিক্রম হবে না।
সাম্প্রতিক ফর্ম ভারতের দিকে ঝুঁকলেও এ দ্বৈরথ অংকের হিসাবকে বুড়ো আঙুল দেখানোর আগে একবারও পেছন ফিরে না তাকালে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। এখানে জয় নির্ধারণী উপাদান ফর্ম নয়, বরং সেই মুহূর্তে চাপ সামলানোর মানসিক শক্তি। আর এ চাপের উৎস খেলার ভেতরে যতটা, তার চেয়েও অনেক বেশি খেলার বাইরে। এশিয়া কাপের চলতি আসরে দেখা গেছে, এ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠের সৌজন্যতাও হারাতে বসেছে। ভারতীয় খেলোয়াড়দের করমর্দনে অনীহা, পাকিস্তানি বোলার হারিস রউফের বিতর্কিত অঙ্গভঙ্গি কিংবা ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের মন্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক প্রমাণ করে যে এ ম্যাচের উত্তেজনা এখন ব্যক্তিগত পর্যায়েও পৌঁছে গেছে।
দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিক নালিশ—এসবই ইঙ্গিত দেয় খেলাটি শুধু ড্রেসিংরুম বা স্টেডিয়ামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এই ‘স্নায়ুযুদ্ধ’ এতটাই তীব্র যে খেলার আগে ড্রেসিংরুমের শীতলতা আর খেলোয়াড়দের হাই-হ্যালো বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়।
মূলত মাঠে ব্যাট-বলে যে লড়াই দেখা যায়, তার পেছনে প্রায়ই দেশগুলোর কূটনৈতিক সম্পর্ক, ইতিহাস এবং জাতীয় অহংকারও লুকিয়ে থাকে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ ছিল প্রায়ই। ১৯৫২ সালে প্রথম টেস্ট সিরিজের সময় থেকেই দুই দেশের মধ্যে প্রতিটি ম্যাচ ক্রিকেটের সীমানা পেরিয়ে হয়ে উঠেছে জাতীয় গর্বের প্রতীক।
Posted ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam