| সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 64 বার পঠিত
সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গের অভিযোগে বীমা খাতের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান রূপালী ইন্স্যুরেন্সের ১০ জন পরিচালক ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)-কে অর্থদণ্ড করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
মার্চ মাসে বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়, যেখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
বিএসইসির আদেশ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল) কর্তৃক অন্য একটি রেটিং সংস্থা ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং লিমিটেডের (এনসিআরএল) বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থার এনফোর্সমেন্ট বিভাগের শুনানিতে একাধিক সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের বিষয় সামনে আসে। রূপালী ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে সিআরআইএসএলের একটি চুক্তি ছিল, যার আওতায় ২০১৮ সালের প্রাথমিক রেটিং এবং পরবর্তী তিন বছর (২০১৯, ২০২০ ও ২০২১) ধারাবাহিক নজরদারি (সার্ভিল্যান্স) রেটিং সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু সেই চুক্তি কার্যকর থাকা অবস্থাতেই ২০২১ সালের রেটিং সম্পন্নের আগেই প্রতিষ্ঠানটি এনসিআরএলের সঙ্গে নতুন চুক্তি করে এবং রেটিং প্রকাশ করে।
বিএসইসির ক্রেডিট রেটিং কোম্পানিজ রুলস, ২০২২-এর ১০(১)(ই) ধারা অনুযায়ী, কোনো রেটিং সংস্থার সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের পর প্রাথমিক রেটিং এবং টানা তিনটি নজরদারি রেটিং সম্পন্ন হওয়ার আগে তা বাতিল করা যায় না। যদি কোনো কারণে চুক্তি বাতিলের প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পূর্বানুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।
শুনানিতে রূপালী ইন্স্যুরেন্স তাদের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে জানায়, তারা কোনো চুক্তি বাতিল করেনি; বরং সিআরআইএসএলের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় পরবর্তীতে এনসিআরএলের সঙ্গে নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিআরআইএসএল রিপোর্ট দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে তাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও দাবি করে, সিআরআইএসএল ও এনসিআরএলের পারস্পরিক ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব থেকেই এ অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
তবে কমিশন এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি এবং বিষয়টিকে ইচ্ছাকৃত আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেছে। এর প্রেক্ষিতে সিকিউরিটিজ আইন ও বিধি মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে বিএসইসি রূপালী ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামরুস সোবহান, প্রয়াত পরিচালক মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস, আলী আহমেদ, মোহাম্মদ ইউনুস, কাজী মনিরুজ্জামান, কেএম ফারুক, আবু হেনা, শাওন আহমেদ, মো. ওবাইদুল হক ও ফজলুতুন নেসা, এবং সাবেক সিইও ফাওজিয়া কামরুন তানিয়াসহ প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, এই অর্থদণ্ড ব্যক্তিগত দায় হিসেবে পরিশোধ করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে তা জমা দিতে হবে।
Posted ৪:৪৫ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam