নতুন বাজেটে করভার বেড়েছে নিম্নআয়ের মানুষের, সুবিধাভোগী ধনী শ্রেণি: সিপিডি

  |   সোমবার, ২২ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   190 বার পঠিত

নতুন বাজেটে করভার বেড়েছে নিম্নআয়ের মানুষের, সুবিধাভোগী ধনী শ্রেণি: সিপিডি

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর করের বোঝা বেশি চাপানো হয়েছে, তবে উচ্চ আয়ের মানুষেরা পাচ্ছেন বিশেষ সুবিধা। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বাজেট পর্যালোচনায় এই দাবি করেছে। সংস্থাটি মনে বলছে, সরকারের নতুন কর কাঠামোয় চরম বৈষম্য তৈরি হয়েছে, যা সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

রোববার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে ‘প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭ পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সংলাপে সিপিডির পক্ষ থেকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এতে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এবং সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, নতুন কর কাঠামো অনুযায়ী যাদের বার্ষিক আয় ৬ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকার মধ্যে, তাদের করের বোঝা সাড়ে ১২ থেকে প্রায় ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। এর বিপরীতে যাদের বার্ষিক আয় ৩০ লাখ টাকার বেশি, তাদের কর বাড়বে মাত্র ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

কর ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য যেখানে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমানো, সেখানে এই বাজেট উল্টো কম আয়ের মানুষকে বেশি চাপে ফেলবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সিপিডি। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী ১৮ মাসে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরির কথা বলা হলেও বাজেটে এর কোনো স্পষ্ট প্রতিফলন নেই। শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ কমানো বা স্থবির করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পটুয়াখালী ইপিজেড ও জামদানি ভিলেজের মতো কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্পগুলো দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। ফলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সংস্কার ছাড়া এক কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যটি কেবল রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবেই থেকে যাওয়ার ঝুঁকি দেখছে সংস্থাটি।

বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার যে লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে, সেটিকেও কঠিন বলে মনে করছে সিপিডি। মে মাস পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। তাই বাজার ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

সামগ্রিকভাবে নতুন বাজেটের লক্ষ্যগুলোকে ‘অতি আশাবাদী’ বলে আখ্যা দিয়েছে সিপিডি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোকে তারা সাধুবাদ জানালেও অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এই বরাদ্দের সঠিক ও কার্যকর বাস্তবায়নই এখন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টরা।

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৫:৫৪ এএম | সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com