| বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | প্রিন্ট | 78 বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
পিচঢালা রাস্তার দু’পাশে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে নানা প্রজাতির গাছ। এক মাইল দূরত্বের মধ্যে কয়েকটি বাগানও চোখে পড়েছে। সবুজের সমারোহে ঘেরা হ্যাংঝু শহরটি শুধুই ছড়াচ্ছে মুগ্ধতা। শহরের বাসিন্দাদের অনেকের কাছে তাই হ্যাংঝু শহরটার নাম ‘গার্ডেন্স’ নগরী। প্রযুক্তি খাতে বিপ্লব ঘটানোয় চীন সরকার পাইলট প্রজেক্টের আওতায় এনেছে চচিয়াং প্রদেশের এ রাজধানীকে।
শহরে উৎপন্ন শি হুং লুংচিং চা চীনের সবচেয়ে উঁচু মানের চা হিসেবে স্বীকৃত। চায়ের জন্য এতটাই বিখ্যাত এ নগরী, তাই ইতিহাস সংক্ষরণ করে আলাদা করা হয়েছে চায়ের জাদুঘর। চীনের রেশম চাষের আঁতুড়ঘরও বলা হয় হ্যাংঝু শহরকে। নানা নামে বিখ্যাত এই হ্যাংঝু শহরটি এশিয়ান গেমসের কারণে এখন ক্রীড়ার নগরী।
হ্যাংঝুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামলে বুঝতে বাকি থাকে না, এখানে হচ্ছে ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম মহাযজ্ঞ এশিয়ান গেমস। সৌন্দর্যের হ্যাংঝুর রাস্তার প্রতিটি মোড়ে গেমসের লোগো ও মাসকট লাগানো আছে। এশিয়ান গেমসের ১৯তম আসরকে সামনে রেখে পুরো হ্যাংঝু এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশসহ ৪৫টি দেশের ক্রীড়াবিদ এবং কর্মকর্তাদের পদচারণা প্রতিদিনই হচ্ছে এই নগরীতে। ২৩ সেপ্টেম্বর অলিম্পিক স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে ফুটবল ও ক্রিকেট দিয়ে শুরু হবে মাঠের লড়াই।
আর বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের আগে গতকাল হয়েছে টর্চের র্যালি। বিভিন্ন দেশের যেসব প্রতিযোগী আগে এশিয়াডে অংশ নিতে এসেছেন, তাদের হাতে শোভা পেয়েছে সম্মানজনক টর্চ। যে র্যালিতে ছিলেন বাংলাদেশের শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকিও। এবারই প্রথম এশিয়ান গেমসের আয়োজক নয় চীন। ১৯৯০ সালে প্রথমবার বেইজিংয়ে এবং ২০১০ সালে গুয়াংজুতে হয়েছিল এশিয়ার ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা। সৌন্দর্য এবং পর্যটকদের আরও আকৃষ্ট করতে আয়োজক হওয়ার পর হ্যাংঝু শহরকে বেছে নেয় চীন।
এশিয়ান গেমসের জন্য হ্যাংঝুর এ শহরে খুব একটা অবকাঠামো করতে হয়নি চীন সরকারকে। পর্যটনের নগরীখ্যাত এই শহরটি আগে থেকেই উন্নত। গেমসের ভেন্যু তালিকায় থাকা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যেসবের সংস্কারের প্রয়োজন ছিল, সেগুলোকে পুনর্নির্মাণ করে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ৪৫টি দেশের ১২ হাজার অ্যাথলেটের মহামিলনের আগে ব্যস্ত আয়োজকরা। বুধবার এক্সপো সেন্টারে অবস্থিত মেইন মিডিয়া সেন্টারে ভলান্টিয়ার থেকে শুরু করে দায়িত্বপ্রাপ্ত সবার মধ্যেই দেখা গেছে কর্মব্যস্ততা।
যে কেউ সমস্যায় পড়লেই দৌড়ে এসে সমাধান করছেন তারা। গেমসের অতিথিদের আতিথেয়ার কোনো কমতি রাখছে না চীন। বর্ণিল চীনা সংস্কৃতিতে এদিন বরণ করে নেওয়া হয় বাংলাদেশের কন্টিনজেন্টকে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে অ্যাথলেট ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে গেমস ভিলেজে উড়েছে লাল-সবুজের পতাকা। পোডিয়ামেও জাতীয় সংগীতের সুরের সঙ্গে দেশের পতাকা ওড়ানোর স্বপ্ন বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের।
Posted ৭:১০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam