শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

ক্যাশলেস লেনদেনে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক

  |   বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   402 বার পঠিত

ক্যাশলেস লেনদেনে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক

ক্যাশলেস লেনদেনে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক

গ্রাহকের জন্য আপনাদের কত ধরনের ক্রেডিট কার্ড আছে?

মার্কেন্টাইল ব্যাংক গ্রাহকের সুবিধার্থে বিভিন্ন ধরনের কার্ড ইস্যু করে। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড মানেই বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ভরসার এক প্যাকেজ। গ্রাহককে সিগনেচার, প্লাটিনাম ও গোল্ড এ তিন ধরনের ক্রেডিট কার্ড সেবা দেয়া হয়। এছাড়া যেসব গ্রাহক ধর্মীয় আস্থায় শরিয়াহ মেনে ব্যাংকিং করতে আগ্রহী তাদের জন্য মার্কেন্টাইল ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং—তাক্বওয়ার অধীনে তাক্বওয়া ক্রেডিট কার্ড সেবা প্রদান করা হয়। বিশেষ সুবিধাসংবলিত কার্ডটিও বর্তমানে গ্রাহকের পছন্দের তালিকায় অন্যতম। শিগগিরই আমরা মাস্টারকার্ড চালু করতে যাচ্ছি, যা আমাদের কার্ড পোর্টফোলিওকে আরো সমৃদ্ধ করব।

বাজারে আপনাদের ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের চাহিদা কেমন?

বাংলাদেশের ক্রেডিট কার্ড বাজার ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ হচ্ছে এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংকের কার্ডগুলোর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। আমাদের গ্রাহক বিশেষ করে তরুণ পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও অনলাইন কেনাকাটায় অভ্যস্ত ক্রেতারা আমাদের কার্ড ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন। আকর্ষণীয় ফিচার, বাজারের সর্বনিম্ন ফান্ড ট্রান্সফার ফি, সহজ লেনদেন সুবিধা ও দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়ার কারণে আমাদের কার্ড জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

কেন গ্রাহক অন্যদের কার্ড ব্যবহার না করে আপনাদেরটি ব্যবহার করবেন?

মার্কেন্টাইল ব্যাংক সবসময় গ্রাহকের চাহিদা ও সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। আমাদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অন্যতম প্রধান সুবিধা হলো সর্বনিম্ন ফান্ড ট্রান্সফার হার। গ্রাহক মাত্র শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ প্রসেসিং ফি দিয়ে অনুমোদিত অর্থ কার্ড চেকের মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারেন, যা বাংলাদেশের অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় অনেক কম। এছাড়া গ্রাহক আমাদের ১৬২২৫ কন্টাক্ট সেন্টারে কল করে সহজেই তাদের সঞ্চয়ী হিসাবে টাকা স্থানান্তর করতে পারেন। পাশাপাশি আমাদের ক্রেডিট কার্ডের প্রথম দুই বছর কোনো বার্ষিক ফি নেই, ফলে নতুন গ্রাহকের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী। এছাড়া আমরা ভ্রমণকারীদের জন্য একাধিক প্রিমিয়াম সুবিধা প্রদান করছি, যার মধ্যে রয়েছে এয়ারপোর্ট মিট অ্যান্ড গ্রিট সার্ভিস ও বিমানবন্দর লাউঞ্জ অ্যাকসেস।

সুদহার বেড়ে যাওয়ার বিরূপ প্রভাব ক্রেডিট কার্ডের বাজারে কেমন পড়েছে?

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সব ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের সুদহার ২৫ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা বেড়েছে। ফলে গ্রাহকের মধ্যে কিছুটা সতর্কতা দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের প্রতি কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে মার্কেন্টাইল ব্যাংক গ্রাহকের সুবিধা নিশ্চিত করতে স্বল্প সুদে ইএমআই সুবিধা চালু রেখেছে। এছাড়া আমাদের মার্চেন্ট পার্টনারদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন ডিসকাউন্ট ও বিশেষ অফারও দিচ্ছি, ফলে গ্রাহক কম খরচে আরো বেশি সুবিধা পাচ্ছেন।

বাংলাদেশের মানুষ এখনো নগদ লেনদেনে বেশি অভ্যস্ত। এ অভ্যাস পরিবর্তন করা যায় কীভাবে?

নগদ লেনদেন কমিয়ে ডিজিটাল পেমেন্টকে উৎসাহিত করতে হলে গ্রাহককে আরো বেশি সুবিধা ও নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে। আমরা ক্যাশলেস লেনদেনে বিশেষ ক্যাশব্যাক, রিওয়ার্ড পয়েন্ট ও ডিসকাউন্ট দিচ্ছি, যাতে গ্রাহক আরো বেশি ডিজিটাল পেমেন্টে আগ্রহী হন। এছাড়া অনলাইন পেমেন্ট, কিউআর কোডভিত্তিক ট্রানজেকশন এবং মোবাইল ওয়ালেট ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এটি করা সম্ভব। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি।

দেশের সামগ্রিক অবকাঠামো এখনো ডিজিটাল লেনদেন উপযোগী নয়। এক্ষেত্রে সরকারের কাছে আপনাদের প্রত্যাশা কী?

সরকার এরই মধ্যে ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা ইতিবাচক। ডিজিটাল লেনদেনকে আরো জনপ্রিয় করতে সরকারের কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ আমরা আশা করছি। আমরা আশা করি, ইলেকট্রনিক পেমেন্ট নেটওয়ার্ক আরো বিস্তৃত ও সুসংগঠিত, ডিজিটাল লেনদেনে কর ছাড় বা প্রণোদনা প্রদান এবং সাইবার নিরাপত্তা ও ডাটা প্রটেকশন জোরদার করতে সরকার ভূমিকা রাখবে।

পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গ্রাহককে কী ধরনের অফার দিচ্ছেন?

বিভিন্ন উৎসবের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে আমরা গ্রাহকের জন্য বেশকিছু পদক্ষেপ নিই। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সব ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক রমজান মাসব্যাপী আড়ংয়ের কেনাকাটায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক সুবিধা উপভোগ করছেন। পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমরা আমাদের গ্রাহকের জন্য ৩৫টির বেশি আন্তর্জাতিক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় ইফতার ও ডিনার এবং সেহরিতে একটি কিনলে তিনটি ফ্রি বাফেট সুবিধা উপভোগ করছেন। লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড আউটলেট ও অনলাইন শপে এ কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটায় ৫৪ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় উপভোগ করছেন। এছাড়া আমাদের ক্রেডিট কার্ড থেকে বিকাশ, নগদ ও এমবিএল রেইনবো অ্যাপে অ্যাড মানি একদম ফ্রি।

এনবিআরের তথ্যানুযায়ী, দেশে এক কোটির বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। তাদের মধ্যে প্রতি বছর ৪০ লাখের বেশি টিআইএনধারী রিটার্ন দিচ্ছেন। কিন্তু ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা রিটার্ন জমাকারীদেরও অর্ধেক। এটি কেন?

বাংলাদেশে কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) ব্যক্তির সংখ্যা অনেক বেশি হলেও ক্রেডিট কার্ডধারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। প্রথমত, ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে কঠোর যোগ্যতার শর্ত আরোপ করে, যা অনেক টিআইএনধারী পূরণ করতে পারেন না। আবার দেশে এখনো নগদ লেনদেনের প্রচলন বেশি। এছাড়া কিছু করদাতা তাদের প্রকৃত আয় গোপন রাখার জন্য ব্যাংকিং লেনদেন এড়িয়ে চলেন, কারণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন ট্র্যাক করা সহজ। পাশাপাশি উচ্চ সুদহার ও লুকানো চার্জের কারণে অনেকেই ক্রেডিট কার্ড নিতে আগ্রহী নন। সচেতনতার অভাবও একটি বড় কারণ। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আয়কর রিটার্ন জমা দিলেও নগদ লেনদেনেই অভ্যস্ত থাকেন, ফলে তারা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে আগ্রহ দেখান না। তাছাড়া গ্রামীণ অঞ্চলে ক্রেডিট কার্ডের প্রচলন কম। এসব কারণ মিলিয়েই দেশে আয়কর রিটার্ন জমাকারীদের তুলনায় ক্রেডিট কার্ডধারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৪:২২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com