| বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 288 বার পঠিত
ন্যাশনাল ব্যাংকের ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত
৬ মাসে আমানত ও গ্রাহক আস্থায় ইতিবাচক অগ্রগতি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে দেশের অন্যতম পুরোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক—ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড। গত ছয় মাসের বিভিন্ন সূচকের তথ্য বিশ্লেষণে ব্যাংকটির কার্যক্রমে স্পষ্ট ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিশ্লেষকদের মত।
গ্রাহক আস্থায় ফেরার লক্ষণ
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় মাসে ন্যাশনাল ব্যাংকে নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার হিসাব খোলা হয়েছে। যা গ্রাহক আস্থা ফেরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।একই সময়ে ব্যাংকটির মোট আমানত বেড়েছে প্রায় ৮৭০ কোটি টাকা। ব্যাংকিং খাতে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে এই প্রবৃদ্ধিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
খেলাপি ঋণ কমানো বড় সাফল্য
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায়।
তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার (NPL) ৭৮ শতাংশ থেকে কমে ৫১.৮ শতাংশে নেমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত উচ্চ খেলাপি ঋণের হার থেকে উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা যে কোনো ব্যাংকের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং এটি কার্যকর সংস্কারের ইঙ্গিত বহন করে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তন?
ব্যাংকিং খাতে এমন ইতিবাচক পরিবর্তন সময়ের দাবি ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে—যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ—ব্যাংকিং খাত সংকটে পড়েও সংস্কার, জবাবদিহি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুনরুদ্ধারের উদাহরণ রয়েছে।
বাংলাদেশেও অতীতে সিটি ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা করে আজ শক্ত অবস্থানে রয়েছে, যা এখন কেস স্টাডি হিসেবে বিবেচিত।
ন্যাশনাল ব্যাংক দেশের সবচেয়ে পুরোনো ব্যাংকগুলোর একটি।
ব্যাংকটির গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ, যা এটিকে দেশের বৃহৎ গ্রাহকভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটি করেছে।
বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার অধীনে ব্যাংকটি ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যাংকার আদিল চৌধুরী।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষ নেতৃত্ব ও কাঠামোগত সংস্কারের কারণে ব্যাংকটি পুনরুদ্ধারের সঠিক পথে এগোচ্ছে।
ডিপোজিট, রেমিট্যান্স ও সেবায় উন্নতি
সম্প্রতি ব্যাংকটির
ডিপোজিট রিকভারি,রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি,গ্রাহকসেবা ও অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা সম্প্রসারণএই খাতগুলোতে অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংস্কারকালীন সময়ে একটি ব্যাংকে সাময়িক সীমাবদ্ধতা থাকলেও তা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মত
অর্থনীতিবিদদের মতে,
একটি ব্যাংক ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—
✔️ সৎ ও দক্ষ পরিচালনা পর্ষদ
✔️ অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপনা
✔️ অনিয়ম চিহ্নিত করে সংস্কার
✔️ গ্রাহক আস্থা বজায় রাখা
এই দিকগুলোতে ন্যাশনাল ব্যাংক অগ্রসর হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
ন্যাশনাল ব্যাংক শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাম্প্রতিক সূচকগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে—সঠিক সংস্কার ও নেতৃত্ব থাকলে ব্যাংকটি আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারে।
বিশ্লেষকদের ভাষায়,
এই ঘুরে দাঁড়ানো হয়তো কেবল শুরু।
Posted ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam