| মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | 23 বার পঠিত
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশের জীবন বীমা খাতের ৩৬টি কোম্পানির সম্মিলিত সঞ্চিত প্রিমিয়াম তহবিল ৩৯১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৩৮ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-এর কাছে জমা দেওয়া কোম্পানিগুলোর অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। আগের বছর একই সময়ে এ তহবিলের পরিমাণ ছিল ৩৭ হাজার ৯৯১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। যদিও খাতটির মোট প্রিমিয়াম তহবিল ৩৮ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছে, তবে সব প্রতিষ্ঠান সমানভাবে আর্থিকভাবে শক্তিশালী নয়। মেটলাইফ বাংলাদেশ, ন্যাশনাল লাইফ, ডেল্টা লাইফ ও জীবন বীমা করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার কোটি টাকার সঞ্চিত তহবিল থাকলেও কয়েকটি কোম্পানি এখনও ঋণাত্মক প্রিমিয়াম তহবিলের বোঝা বহন করছে। আইডিআরএর ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, জীবন বীমা খাতের মোট প্রিমিয়াম তহবিলের প্রায় ৭২ শতাংশ মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত, যা খাতের ভেতরে আর্থিক সক্ষমতার বড় বৈষম্যের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো কোম্পানির প্রিমিয়াম তহবিল ঋণাত্মক হওয়ার অর্থ হলো তার দায় সম্পদের চেয়ে বেশি, যা দীর্ঘমেয়াদে সলভেন্সি, বিনিয়োগ সক্ষমতা এবং দাবি পরিশোধের সামর্থ্যকে দুর্বল করে দিতে পারে। তাদের মতে, উচ্চ কমিশন ব্যয়, দুর্বল করপোরেট গভর্ন্যান্স, অকার্যকর বিনিয়োগ এবং নতুন ব্যবসা সংগ্রহে স্থবিরতার কারণে কিছু প্রতিষ্ঠানের তহবিল এখনও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, মেটলাইফ বাংলাদেশের সঞ্চিত প্রিমিয়াম তহবিল ১৬ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা, যা পুরো খাতের প্রায় ৪৩ শতাংশ; ন্যাশনাল লাইফের তহবিল ৬ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা এবং ডেল্টা লাইফের তহবিল ৪ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, জীবন বীমা কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক শক্তি মূল্যায়নে শুধু প্রিমিয়াম আয় নয়, সঞ্চিত প্রিমিয়াম তহবিলের অবস্থানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক, কারণ এই তহবিল থেকেই ভবিষ্যতে পলিসিধারীদের মৃত্যু দাবি, মেয়াদপূর্তি সুবিধা এবং অন্যান্য আর্থিক দায় পরিশোধ করা হয়। তাই ঋণাত্মক তহবিলে থাকা কোম্পানিগুলোর জন্য পুনঃমূলধনীকরণ, সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন, বিনিয়োগ পুনর্বিন্যাস এবং কঠোর নিয়ন্ত্রক তদারকি জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Posted ৬:৫৮ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam