| বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | 25 বার পঠিত
দেশের জীবন ও সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন নবায়ন ফি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে যে, ২০২৬ সালের জন্য বীমা কোম্পানিগুলোকে প্রতি হাজার টাকা গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২ টাকা ৫০ পয়সা হারে নিবন্ধন নবায়ন ফি পরিশোধ করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) জারি করা এক অফিসিয়াল নোটিশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিটি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এফআইডি জানায়, বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২-এর বিধি ৩(২) অনুযায়ী সর্বশেষ সংশোধিত সরকারি গেজেটে নির্ধারিত হার ও সময়সীমা অনুসারে ফি আদায় করতে হবে। ফলে বীমা কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে উত্থাপিত আপত্তি বা ছাড়ের আবেদন কার্যত নাকচ হয়ে গেল।
কেন তৈরি হয়েছিল বিতর্ক?
চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ একটি গেজেট প্রকাশ করে বীমা কোম্পানির নিবন্ধন নবায়ন ফি প্রতি হাজার টাকা গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে। অর্থাৎ এক ধাক্কায় ফি বৃদ্ধি পায় ১৫০ শতাংশ।
বীমা খাতের উদ্যোক্তারা শুরু থেকেই এই বৃদ্ধির বিরোধিতা করে আসছিলেন। তাদের যুক্তি, এমন বৃদ্ধি এমন সময়ে করা হয়েছে যখন অনেক বীমা কোম্পানি প্রিমিয়াম সংগ্রহ, দাবি পরিশোধ, মূলধন সংরক্ষণ এবং লাভজনকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।
বীমা মালিকদের সংগঠন বিআইএ দাবি করেছে, নতুন হার কার্যকর হলে ১০০ কোটি টাকা গ্রস প্রিমিয়াম অর্জনকারী একটি কোম্পানির নিবন্ধন নবায়ন ফি ১০ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২৫ লাখ টাকায় উন্নীত হবে।
তাদের মতে, এ ধরনের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বিশেষ করে মাঝারি ও ছোট বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। এজন্য তারা বর্ধিত ফি প্রত্যাহার বা অন্তত স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছিল।
অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ বলছে, তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত বাজেট সহায়তা পাওয়া যায় না; বরং প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ ব্যয় নিজস্ব আয় থেকেই নির্বাহ করতে হয়।
আইডিআরএর মতে, বর্তমানে বীমা খাতের ডিজিটাল রূপান্তর, ন্যাশনাল কোর ইন্স্যুরেন্স সলিউশন বাস্তবায়ন, তথ্যভাণ্ডার উন্নয়ন, তদারকি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং নতুন প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার কারণে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে রাজস্ব বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
এফআইডির সর্বশেষ নির্দেশনারফলে এখন আর নিবন্ধন নবায়ন ফি নিয়ে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা থাকছে না। বীমা কোম্পানিগুলোকে নতুন হার অনুযায়ী ফি পরিশোধ করতে হবে। তবে খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাড়তি ফি পরিশোধের চাপ শেষ পর্যন্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি করবে, যা ভবিষ্যতে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও সেবার খরচের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি, অন্যদিকে বীমা শিল্পের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। ফলে ভবিষ্যতে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Posted ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam